প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মালয়েশিয়ায় জি টু জি প্লাস
সিন্ডিকেটের পোয়াবারো

ডেস্ক রিপোর্ট : অবশেষে ঢাকায় বায়রা কার্যালয়ে নববর্ষের পহেলা জানায়ারী থেকে মালয়েশিয়ায় জি টু জি প্লাসে কর্মী প্রেরণের ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার চালু হচ্ছে। এ ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারের মাধ্যমে অনলাইন প্রক্রিয়ায় সকল বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সি মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর সুযোগ পাবে। এতে দশ সিন্ডিকেটের পোয়াবারো হবে। বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো সিন্ডিকেটের বেড়াজাল থেকে মুক্তি পাচ্ছে না। ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে দেশের গ্রামাঞ্চলের দক্ষ-আধাদক্ষ হাজার হাজার কর্মী আকাশচুম্বি অভিবাসন ব্যয় করে জি টু জি প্লাসে গত ১০ এপ্রিল থেকে দশ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় যাচ্ছে। অভিবাসনের চড়া ব্যয়ের অর্থ যোগাতে মালয়েশিয়া গমনেচ্ছু কর্মীদের নাভিশ্বাস উঠছে। চড়া সুদে ঋণ নিয়ে এবং গৃহপালিত গবাদিপশু বিক্রি করে অভিবাসনের অর্থ যোগাতে হিমসিম খাচ্ছে বিদেশ গমনেচ্ছু কর্মীরা। গত ১০ মার্চ থেকে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দশ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ৮১ হাজার ৪ শ’ ৪৪ জন কর্মী জিটুজি প্লাস প্রক্রিয়ায় মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থান লাভ করেছে। দালাল চক্রের একাধিক হাত বদল হয়ে মালয়েশিয়ায় যেতে এসব কর্মী জনপ্রতি তিন লাখ টাকা থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে।

মালয়েশিয়া গমনেচ্ছু একাধিক কর্মী এতথ্য জানিয়েছেন। বায়রার ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার চালু হলে অন্যান্য বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো মালয়েশিয়ায় নিজস্ব মার্কেটিং-এর মাধ্যমে কর্মী প্রেরণের সুযোগ পেলেও সিন্ডিকেটকেই কর্মী প্রতি ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা দিতে হবে। এ ব্যয়ের মধ্যে কর্মীরা বিমানের একটি টিকিট ও বিএমইটি থেকে বর্হিগমন ছাড়পত্র পাবে শুধু। উল্লেখিত টাকা থেকে মালয়েশিয়া অংশের অনলাইন কার্যক্রমের প্রধান দাতো আমিনকেই দিতে হবে ৫ হাজার রিংগিত। এ নিয়ে গুলশান ক্লাবে সিন্ডিকেটের সাথে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর একাধিক বৈঠকে দরকষাকষি হয়েছে। সর্বশেষ বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় শিগগিরই বায়রার সাধারণ সভা আহবান করে সকল সদস্যদের মতামত নিয়ে প্রস্তাবিত অভিবাসন ব্যয়ের একাংশ নির্ধারণ করা হবে। কিন্ত বায়রার সাধারণ সদস্যদের কোনো মতামত না নিয়েই বায়রা সভাপতি বেনজীর আহমেদ ও মহাসচিব মো: রুহুল আমিন স্বপন গত ২৩ ডিসেম্বর হঠাৎ এক সার্কুলারে সদস্যদের অবহিত করেছেন আগামী ১ জানুয়ারী থেকে বায়রা কার্যালয়ের নীচ তলায় মালয়েশিয়া গমনেচ্ছু কর্মীদের বায়রা ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার (বিওএসএসসি) এর কার্যক্রম শুরু হবে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি প্রধান অতিথি হিসেবে ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টারের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন। বায়রা সভাপতি ও সাবেক এমপি বেনজীর আহমেদ এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রাতে বায়রা সভাপতি বলেন, আগামী পহলে জানুয়ারী বায়রা কার্যালয়ে মালয়েশিয়ায় জি টু জি প্লাস প্রক্রিয়ায় সকল রিক্রুটিং এজেন্সিকে কর্মী প্রেরণের সুযোগ দেয়ার লক্ষ্যে ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার চালুর প্রক্রিয়া জোরোশোরে চলছে। এ প্রক্রিয়ায় সিন্ডিকেটের দৌরাত্ব কমবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে বায়রা সভাপতি বেনজীর আহমেদ বলেন, দীর্ঘ দিনের দাবীর প্রেক্ষিতে সকল বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সিই মালয়েশিয়া কর্মী পাঠানো সুযোগ পাবেন। মালয়েশিয়ার দাতো আমিনকে কর্মী প্রতি ৫ হাজার রিংগিত দিতে হবে এমন প্রশ্নের জবাবে বায়রা সভাপতি বলেন, এ বিষয়টি আমার জানা নেই। তিনি বলেন, সরকার নির্ধারিত কর্মী প্রতি ১ লাখ ৬০ হাজার টাকায় মালয়েশিয়ায় কর্মী যাবে। বঞ্চিত শত শত রিক্রুটিং এজেন্সি’র চাপ সৃষ্টির এক পর্যায়ে বায়রা কর্তৃপক্ষ সকল রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে কর্মী প্রেরণে সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে বায়রায় ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার স্থাপন এবং পরিচালনা পদ্ধতি নির্ধারনের জন্য বায়রার সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ নূর আলীকে আহবায়ক ও প্রধান সমন্বয়ক করে ১১ সদস্য বিশিষ্ট একটি আহবায়ক কমিটি গঠন করে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন জনশক্তি রফতানিকারক বলেন, উচ্চ অভিবাসন ব্যয়ে মালয়েশিয়ায় গিয়ে কর্মীরা কঠোর পরিশ্রমে নিজেকে একদিকে ক্ষয় করছেন, অন্যদিকে থাকছেন তীব্র মানসিক চাপে। তবে শেষ পর্যন্ত আকাশছোঁয়া অভিবাসন ব্যয় কোনো মতেই তুলতে পারছে না তারা। এভাবেই হতাশাগ্রস্ত হয়ে মানসিক সমস্যার ভুগছে বহু কর্মী।

বায়রা গঠিত আহবায়ক কমিটি’র সদস্য ও সেলিব্রেটি ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী মো: আব্দুল হাই গতকাল ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার চালু প্রসঙ্গে বলেন, বায়রার সাধারণ সভা ডেকে সদস্যদের মতামত নিয়ে ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার চালু করার কথা ছিল। বায়রার সাধারন সদস্যদের মতামতকে তোয়াক্কা না করে হঠাৎ করেই আগামী ১ জানুয়ারী থেকে বায়রায় মালয়েশিয়ায় কর্মী প্রেরনের ওয়ান স্টপ সার্ভিক সেন্টার চালুর সার্কুলার জারি করা হযেছে। এতে বায়রার সদস্যরা হতবাক হয়েছেন। তিনি বলেন, কোন ক্ষমতা বলে ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার চালু করা হচ্ছে তা’ বোধগম্য নয়। মার্কেটিং ছাড়াই রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে দশ সিন্ডিকেটকে এ প্রক্রিয়ায় কর্মী প্রতি ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা দিতে হবে। এর মধ্যে মালয়েশিয়ার দাতো আমিনকেই দিতে হবে কর্মী প্রতি ৫ হাজার রিংগিত। তিনি বলেন, মালয়েশিয়া গমন্ছেু কর্মীদের ৫ হাজার ৩শ’ টাকা দিয়ে মেডিকেল করতে হয়। মালয়েশিয়ায় গিয়েও দ্বিতীয় বার কর্মীকে মেডিকেল করতে হয়। এ ধরনের ধাপ্পাবাজি অন্যদেশে নেই। এতে অভিবাসন ব্যয়ে আরো বাড়ছে। সিন্ডিকেট না থাকলে কর্মীরা শুধু মাত্র দু’লাখ টাকায় মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ পেতো।

এক প্রশ্নের জাবাবে আব্দুল হাই বলেন, এ সুযোগে তারা অন্যান্য দেশের শ্রমবাজারও সিন্ডিকেট করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। আহবায়ক কমিটি’র অপর সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বায়রার সদস্যদের তোপের মুখে আগামী জুনে বায়রার নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের সমর্থন আদায়েরা লক্ষ্যে বায়রার তড়িঘড়ি করে ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার চালু করা হচ্ছে। সিন্ডিকেটের ৮ টি মেডিকেল সেন্টারও মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের চড়া দামে মেডিকেল করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে । বায়রার কোষাধ্যক্ষ ফখরুল ইসলাম গতকাল বলেন, দশ সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু হচ্ছে। এটা একটা শুভংকরের ফাঁকি। তিনি বলেন, এজেন্সিগুলোর কাছ থেকে কর্মী প্রতি অগ্রিম ৬০ হাজার টাকা করে চাওয়া হচ্ছে। এতো টাকা দেয়া মোটেই সম্ভব না। এ ব্যাপারে এজেন্সিগুলো দ্বি-মত পোষণ করেছে। বায়রার আহবায়ক কমিটি’র সদস্য রিয়াজ-উল-ইসলাম বলেন, বায়রায় ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু হলে অভিবাসন ব্যয় বাড়বে কিনা তা’ আমাদের অভ্যন্তরীন মিটিংয়ের পড়ে বলতে পারবো। ইনকিলাব

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত