প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কারাগারে আটক দশ হাজার বাংলাদেশী

ডেস্ক রিপোর্ট : বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কারাগারে আটক রয়েছেন প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশী নাগরিক। গত সাড়ে পাঁচ বছরে বিদেশের কারাগারে বন্দী বাংলাদেশীর সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। ২০১২ সালের জুন মাসে বিদেশের কারাগারে বন্দী বাংলাদেশীর সংখ্যা ছিল প্রায় সাড়ে চার হাজার। বিদেশের কারাগারে বন্দী এসব নাগরিককে ছাড়িয়ে আনার বিষয়ে বাংলাদেশের মিশনগুলো কাজও করছে। তারপরেও বছরের পর বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কারাগারে আটক থাকছেন বাংলাদেশীরা। আবার অসাধু আদম ব্যবসায়ীদের খপ্পরে পড়ে বিদেশে জেল খেটে নিঃস্ব হয়ে আবার অনেকেই দেশে ফিরে আসছেন।

সূত্র জানায়, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কারাগারে ১০ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশী নাগরিক আটক রয়েছেন। সব থেকে বেশি বাংলাদেশী আটক রয়েছে মালয়েশিয়ার কারাগারে। দেশটির কারাগারে বর্তমানে দুই হাজার ৪৬৯ জন আটক আছে। এছাড়া ভারতে দুই হাজার, সংযুক্ত আরব আমিরাতে এক হাজার ৯৮, ওমানে এক হাজার ৪৮, সৌদি আরবে ৭০৩, বাহারাইন ৩৭০, কুয়েত ২৬১, যুক্তরাজ্যে ২১৮, জাপানে ১২৩, ইরাকে ১২১, কাতারে ১১২, মিয়ানমারে ৯৮, মেক্সিকো ৯৭, সিঙ্গাপুরে ৮৭, তুরস্ক ৬৮, জাপানে ৬০, ইতালিতে ৫২, ফ্রান্সে ৪৬, অস্ট্রেলিয়ায় ৩৫, জর্ডানে ৩৭, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ২৫, জর্জিয়ায় ২৬, হংকংয়ে ২৪, থাইল্যান্ডে ২১, পাকিস্তানে ১৯, দক্ষিণ কোরিয়ায় ১৬, নেপালে ১২, দক্ষিণ আফ্রিকায় ১১, মরিশাসে ৬, আজারবাইজানে ৬, মিসর, চীন ও ব্রুনাই পাঁচ জন করে, লেবানন ও মরক্কোতে দুই জন, কিরগিজিস্তান, মঙ্গোলিয়া ও ব্রাজিলে এক জন করে বাংলাদেশী আটক রয়েছেন। এ ছাড়াও অন্যান্য দেশেও আরও শতাধিক বাংলাদেশী নাগরিক কারাবন্দী রয়েছেন।

অনেকেই ভিজিট ভিসায় বিদেশে গিয়ে আর আসেন না। আবার অনেকেরই ওয়ার্কিং ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে গেলেও নবায়ন না করে, সেদেশে থাকতে চান। তবে আইন অনুযায়ী ভিসার মেয়াদ শেষ হলেই তারা সেদেশে অবৈধ হয়ে যান। এরপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে ধরা পড়লে জেলে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এছাড়া দালালরা অনেককে ভিজিট ভিসায় নিয়ে গিয়ে তাদের পাসপোর্ট কেড়ে নেয়। পাসপোর্ট কেড়ে নেয়ার ফলে সেদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিকট বৈধ কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেন না। সে কারণে ধরা পড়লে জেলে যেতে হয়। দালালরা মূলত নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতেই পাচারকৃত ব্যক্তিদের পাসপোর্ট কেড়ে নেয়।

বিদেশে অবৈধভাবে পাচার ঠেকাতে জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো থেকে বিদেশে গমনেচ্ছু ব্যক্তিদের অনুমতি নেয়ার বিধান রয়েছে। এছাড়া বিদেশে গমনেচ্ছুদের নিবন্ধন কর্মসূচী চালু করেছে। অনলাইনেও এই নিবন্ধন করা সম্ভব। তবে সরকারের এসব নির্দেশনার তোয়াক্কা না করে অনেকেই বিদেশে পাড়ি জমান। আর বিদেশে গিয়ে বিপদে পড়লে আবার বাংলাদেশ সরকারের দ্বারস্থ হন। আবার অনেকেই বিদেশে গিয়ে নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। এসব অপরাধের বিচারে ঠাঁই হয় কারাগারে। তবে এদের সংখ্যা খুবই কম। বিদেশে গিয়ে অপরাধে জড়িয়ে পড়া বাংলাদেশী নাগরিকের সংখ্যা একেবারেই নগন্য বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

বর্তমানে ইসরাইল ছাড়া বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক বিদ্যমান। বিশ্বের ৫৮টি দেশে বাংলাদেশের আবাসিক দূতাবাস রয়েছে। এসব দূতাবাস নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি আরও ৭২টি দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ও যোগাযোগ রক্ষা করছে। এছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৭৯ জন অবৈতনিক কনসাল জেনারেল নিয়োজিত রয়েছেন। তবে যেসব দেশে দূতাবাস আছে সেসব দেশে কারাগারে আটক ব্যক্তিদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। আর যেসব দেশে দূতাবাস নেই। সেসব দেশে আটক ব্যক্তিদের ফিরিয়ে আনতে পার্শ্ববর্তী দেশের দূতাবাস পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

বিদেশে কোন নাগরিক কারাগারে গেলে অনেক সময় দেশ থেকে স্বজনরা প্রবাসী মন্ত্রণালয়ে আবেদন করে থাকেন। তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ মিশন থেকে ছাড়ানোর ব্যবস্থা করা হয়। আবার কারাগারে আটক ব্যক্তিরা ছাড়া পেলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্বজনদেরই বিমান ভাড়া বহন করতে হয়। এই প্রক্রিয়ায় অনেক সময় লেগে যায়। এছাড়া এক এক দেশের আইন একেক রকম। আইনী পদক্ষেপ শেষে কারাগার থেকে আটক ব্যক্তিদের উদ্ধারে অনেক সময় লেগে যায়।

এদিকে বিদেশের কারাগারে দীর্ঘদিন বন্দী থাকার পর অনেকেই মৃত্যুবরণও করছেন। আইনগত জটিলতা থাকার কারণেই অনেকেই সহজেই কারাগার থেকে মুক্তি পান না। ফলে তাদের কারাগারেই নির্মমভাবে মৃত্যুবরণ করতে হয়। শুধুমাত্র মালয়েশিয়ার কারাগারেই গত আড়াই বছরে ১৭ জন বাংলাদেশীসহ ১১৮ জন মারা গেছেন। সেখানে এই ১১৮ জন নাগরিকের মধ্যে ৫০ জনের মৃত্যুর যথাযথ কোন কারণ জানা যায়নি। বাদ বাকি যারা অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন তারাও নানা পর্যায়ে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। মালয়েশিয়া কারাগারে বর্তমানে প্রায় আড়াই হাজার বাংলাদেশী বন্দী রয়েছেন।

অনেক দেশেই বাংলাদেশের মিশন নেই। তবে সেসব দেশেও বাংলাদেশী বন্দী রয়েছেন। যদিও এই সংখ্যা খুব সীমিত। এসব দেশ থেকে বাংলাদেশী বন্দীদের ছাড়িয়ে আনতে আরও বেগ পেতে হয়। কেননা সেসব দেশে বাংলাদেশ মিশন না থাকলেও পার্শ্ববর্তী দেশের মিশন থেকে তাদের ছাড়িয়ে আনার জন্য কার্যক্রম চালাতে হয়। সে কারণে বিদেশের কারাগার থেকে বাংলাদেশী নাগরিকদের ছাড়িয়ে আনতে বিলম্ব হয়। এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় যাওয়ার পথে তাঞ্জানিয়ার কারাগারে অনেক বাংলাদেশী আটকে পড়েছিলেন। তাদের কেনিয়ার নাইরোবির বাংলাদেশ মিশন থেকে ছাড়ানোর ব্যবস্থা করা হয়। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশ মিশন না থাকায় কারাগারে আটক বাংলাদেশীদেরও ফিরিয়ে আনতে বিলম্ব হয়ে থাকে বলে জানা যায়।

বিদেশে অবৈধভাবে গমন ঠেকাতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও কাজ করছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে মানব পাচার প্রতিরোধ আইন তৈরি করা হয়েছে। মানব পাচার প্রতিরোধ আইন জাতীয় সংসদেও পাস হয়েছে। এই আইন কার্যকর করতে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সে অনুযায়ী মানবপাচার প্রতিরোধে সরকার কাজ করে চলেছে।

বিদেশে আটক নাগরিকদের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিদেশে গিয়ে কেউ দুটি কারণে জেলে আটক থাকতে পারে। প্রথমটি হলো বিভিন্ন ধরনের অপরাধ করা ও দ্বিতীয়টি হলো অবৈধভাবে গিয়ে থাকলে। কেউ যেন অবৈধভাবে না যায় সেজন্য সরকার থেকে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসংস্থানের লক্ষে কেউ যেন জনশক্তি ব্যুরোতে নিবন্ধন না করে বিদেশে না যান, সে বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তবে তারপরেও অনেকে অবৈধভাবে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। এ বিষয়ে আরও বেশি জনসচেতনতা প্রয়োজন বলেও জানিয়েছেন তারা। জনকণ্ঠ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত