প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘ইয়াবা কিনতে’ ব্যাগে টান, শিশু নিহত হওয়ায় ‘ব্যথিত’

ডেস্ক রিপোর্ট : ‘কয়েক দিন ধইরা বাবা (ইয়াবা) খাইতে না পাইরা মাথাটা কেমন জানি করতাছিল। দাঁড়ায় ছিলাম রেললাইনের ধারে। সকাল তখন হয় নাই। দেখি এক মহিলা রিকশা দিয়া আসতাছে। দ্রুত ঢাল দিয়া রাস্তায় নাইমা যাই। রিকশার সামনে গিয়া মহিলার হাতে থাকা ব্যাগটা নিয়া টান দিছি। ব্যাগের ভেতর মাত্র ১৫’শ টাকা আছিল। তা দিয়া সকালের নাস্তা আর তিনটা বাবা কিইনা খাইছি।’

রাজধানীর দয়াগঞ্জে ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে মায়ের কোল থেকে ছিটকে শিশু নিহত হওয়ার ঘটনায় গ্রেফতারকৃত ছিনতাইকারী রাজীব আদালতে এভাবেই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এই ছিনতাইয়ে তার সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল তাও স্বীকার করেছে। তবে শিশুটির মৃত্যুর খবরে তিনি ‘ব্যথিত’ বলেও জানান। ২৪ ডিসেম্বর রোববার আদালত সূত্রে এ সব তথ্য জানা গেছে।

দুপুরে রাজীবকে মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে তার জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. রেদওয়ান খান। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর হাকিম সরাফুজ্জামান আনছারী তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। জবানবন্দি রেকর্ড শেষ তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

গত শনিবার রাত একটার দিকে দয়াগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে যাত্রাবাড়ী থানার পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত রাজীব (২০) শরীয়তপুরের ডামুড্যা থানার ধূপখোলা ফকির বাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি থাকেন গেন্ডারিয়া থানার গুমটি ঘর রেলওয়ে বস্তি এলাকায়। ছিনতাইকারী রাজীবের বাবা একজন ভাঙারি বিক্রি করেন। তারা তিন ভাই ও এক বোন। রাজীব ও তার বাবা ঢাকায় থাকলেও বাকিরা গ্রামেই থাকেন।

রাজীব আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দিতে জানান, দয়াগঞ্জের রাস্তায় মহিলার কাছ থেকে ব্যাগটি ছিনিয়ে নেওয়ার পর তা রেললাইনের ২২ নম্বর গলিতে ফেলে দিয়ে চলে যায়। ব্যাগের ভেতরে থাকা ১৫’শ টাকা নিয়ে সকালের নাস্তা ও তিনটি ইয়াবা কিনেছিল। বাকি টাকা সে বিভিন্ন সময় খরচ করে। তবে শেষ মুহূর্তে তার কাছে মাত্র সাড়ে চারশ টাকা ছিল। তার কারণে একটি সাত বছরের শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে তিনি জানতে পারেন যখন তিনি আবার সকালে ওই স্থানে যান। সেখানে গিয়ে পুলিশ ও সাংবাদিকদের জটলা দেখে ভয় পেয়েছিল রাজীব। তবে ছিনতাইয়ের পর মামলা হবে এবং তাকে গ্রেফতার হতে হবে, তা বুঝতে পারেনি তিনি। কারণ রাজীব ভেবেছিল, কেউ তাকে চিনতে পারবে না। কিন্তু ঠিকই তাকে খুঁজে বের করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

রাজীব আরও জানান, সাত বছর বয়স থেকেই তিনি ছিনতাইয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন। তবে এ কাজে কোনো গ্রুপের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা ছিল না। নেশার টাকা ম্যানেজ করতে মাঝে-মাঝেই সে রিকশা ও বাস থেকে ব্যাগ টান দিত। শুধু নেশার কারণে তার বাবার সঙ্গে প্রায় পাঁচ-ছয় বছর থেকে কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই। রাজীবের বাবা তাকে নেশার ছাড়াতে গ্রামেও পাঠিয়েছিলেন কিন্তু কাজ হয়নি। আবারও ঢাকায় চলে আসেন রাজীব। ঢাকায় এসে একাই থাকতেন এবং ছিনতাইয়ের পাশাপাশি টুকটাক কাজ করেই জীবন চালাতেন।

রাজীবের বেড়ে ওঠা দয়াগঞ্জের রেললাইনের ধারের বস্তিতে। সেখানেই তিনি থাকতেন। বস্তির পাশে তার বাসা হওয়ায় খুব সহজেই মাদকের টাকা ম্যানেজ করতে দয়াগঞ্জ, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী এলাকায় ছিনতাই চালাতেন বলে আদালতে অকপটে স্বীকারও করেন রাজীব।

এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, রাজীবকে গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে ৪৫০ টাকা, দুই সেট শিশুর কাপড় ও একটি পারফিউমের বোতল উদ্ধার করা হয়েছে। তবে রেললাইন এলাকায় ফেলে দেওয়া সেই ব্যাগটি খুঁজে পায়নি পুলিশ। রাজীব ১১’শ টাকা খবচ করেছে বলেও স্বীকার করেছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. রেদওয়ান খান বলেন, রাজীব মূলত ভাসমান ছিনতাইকারী হিসেবে কাজ করতো। পাশাপাশি যখন যে কাজ পেত সেটিই করতো। উপার্জনের টাকা দিয়ে সে ইয়াবা কিনে খেত। মাঝে মাঝে ইয়াবার টাকা ম্যানেজ করতেই ছিনতাইও করতো। দয়াগঞ্জের ঘটনায় পুলিশ যে তাকে চিনতে পারবে, তা সে কল্পনাও করেনি। তবে গা ঢাকা দেওয়ার জন্য তার কোনো জায়গা না থাকায় ঢাকাতেই ছিল। ছিনতাইকারী রাজীব কোনো মোবাইলও ব্যবহার করতো না। এ কারণে তাকে খুঁজে পেতে কিছুটা বেগ পেতে হয়।

প্রসঙ্গত, গত ১৮ ডিসেম্বর সোমবার ভোরে রাজধানীর দয়াগঞ্জ ঢালে ছিনতাইকারী রিকশায় থাকা আকলিমা নামে এক নারীর ভ্যানিটি ব্যাগ নিয়ে দৌড় দেয়। সেসময় তার কোলে থাকা ছয় মাসের শিশু আরাফাত মাটিতে পড়ে যায়। পরে শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার দিনই মৃত আরাফাতের বাবা শাহ আলম গাজী বাদী হয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় একটি ছিনতাই ও হত্যা মামলা করেন। পরদিনই যাত্রাবাড়ী থানার দায়িত্বরত সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) বদরুল ইসলামকে দায়িত্বে অবহেলার কারণে ক্লোজড করা হয়। প্রিয়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত