প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

গৃহকর্মীর সঙ্গে প্রিয়নবী সা. কেমন আচরণ করতেন ?

জাকারিয়া হারুন : ভুল মানুষই করে। ভুল শুধরানো মহাগুণ। যারা আমাদের তত্ত্বাবধানে কাজ করে তারা আমাদের মতোই মানুষ। যদি তারা ভুল করে তাহলে আমরা আহামরি কান্ড ঘটিয়ে ফেলি। অথচ একবার এক সাহাবী এসে নবীজীকে জিজ্ঞেস করলেন, আল্লাহর রাসূল! আমি খাদেমকে (গৃহকর্মীকে) কতবার ক্ষমা করব? নবীজী চুপ থাকলেন। সাহাবী আবার জিজ্ঞাসা করলেন। এবার নবীজী বললেন, প্রতিদিন ৭০ বার। (জামে তিরমিযী,হাদীস ১৯৪৯)

রাগ দমন করে মুমিন মহা পুণ্যের অধিকারি হয়। মহান আল্লাহ মুমিন-মুত্তাকীর গুণাবলী বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন, ‘যারা ক্রোধ দমন করে, ক্ষমা করে দেয়।’

সুতরাং শুধু ক্রোধ দমন করাই নয় বরং ক্ষমাও করে দিতে হবে। আর গায়ে হাত তোলার তো প্রশ্নই ওঠে না। অসহায়ের গায়ে হাত তোলা কত বড় অন্যায় তা আপনার বিবেককে প্রশ্ন করুন !

ইসলামের বিধান কতো সুন্দর! গৃহকর্মীর তো দূরের কথা। টাকায় কেনা গোলাম-বাদির অধিকারের ব্যাপারে রাসূল সা.  কতো সুন্দর বলেছেন, “আল্লাাহ তাদেরকে তোমাদের অধীন করেছেন। তোমাদের কারো অধীনে যদি কেউ থাকে তাহলে সে যেন নিজে যা খায় তাকেও তা থেকে খাওয়ায়। নিজে যা পরিধান করে তাকেও তা থেকে পরিধান করায়। এবং তোমরা তাদের উপর সাধ্যের বেশি কাজ চাপিয়ে দিও না। যদি দাও তাহলে নিজেও সে কাজে তাকে সাহযোগিতা কর।” (সহীহ বুখারী, হাদীস ২৫৪৫)

তারা আপনার জন্য ভালো কোনো খাবার প্রস্তুত করে আনলে এমন যেন না হয় যে, সে কষ্ট করে খাবার প্রস্তুত করল আর ঘ্রাণ নেওয়া ও দেখা ছাড়া তার ভাগ্যে কিছুই জুটল না। প্রিয় নবীজী বলেছেন, যখন খাদেম খাবার প্রস্তুত করে তোমার সামনে উপস্থিত করে,তখন (পারলে তাকে তোমার সঙ্গে বসিয়ে খাওয়াও) তাকে যদি তোমার সাথে বসিয়ে খাওয়াতে না পার, অন্তত তার হাতে এক-দুই লোকমা তুলে দাও। কারণ এ খাবার প্রস্তুত করতে গিয়ে আগুনের তাপ ও সকল কষ্ট তো সেই সহ্য করেছে। (সহীহ বুখারী,হাদীস ২৫৫৭; সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৬৬৩)

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত