প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অভিভাবক শূন্যতায় নাসিরনগর!হাল ধরছেন কে?

তৌহিদুর রহমান নিটল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া : বৃহত্তর কুমিল্লার সর্ব উত্তরে অবস্থিত ছায়া সুনিবিড় শান্তির
নীড় ব্রাহ্মনবাড়িয়া-(১) নাসিরনগর সংসদীয় আসনটি। মহান জাতীয় সংসদের ২৪৩ নং আসন এটি। রাজনৈতিক এবং ভৌগলিক দিক দিয়ে বৃহত্তর কুমিল্লার উত্তরাঞ্চলের প্রবেশ দ্বার খ্যাত নাসিরনগর উপজেলা বিশেষ গুরত্ব এবং তাৎপর্য বহন করে।

এক সময়কার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কেন্দ্রবিন্দু মহকুমা সদর এই নাসিরনগর। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে যথেষ্ট অবহেলিত এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রেক্ষিতে উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে অনেকাংশেই পিছিয়ে ছিল এই জনপদ।

পরবর্তী সময়ে এলাকার জন প্রতিনিধিদের দূরদর্শী নেতৃত্বে উন্নয়নের স্বাদ পেতে থাকে এলাকার জনসাধারন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনে এডঃ ছায়েদুল হক এ আসন থেকে ৫ম বারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে মৎস্য ও প্রানীসম্পদ মন্ত্রণলায়ের মন্ত্রী হিসাবে শপথ গ্রহণ করেন।

তিনি দীর্ঘদিন সংসদ সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালনকালে এবং মন্ত্রীত্ব গ্রহন করে এলাকার ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করেন। বর্তমানে নাসিরনগরের রাস্তা-ঘাট, অফিস-ভবন, কিংবা বিভিন্ন সুরম্য অট্টালিকায় আধুনিকতার ছোঁয়া পেয়েছে।

গত ১৬ ডিসেম্বর, বিজয় দিবসের দিন সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় দীর্ঘ তিন মাস পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়( পিজি) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অ্যাড. ছায়েদুল হক মৃত্যুবরন করেন। তার মৃত্যুতে নাসিরনগরের সর্বমহলে শোকের ছায়া নেমে আসে।

নাসিরনগর ঘুরে বিভিন্ন স্তরের মানুষের সাথে আলাপকালে জানা যায়, মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রীর মৃত্যুতে নাসিরনগর এখনও শোকে মুহ্যমান। মূলত তারা এখন অভিভাবক শূন্যতায় ভুগছেন।

এদিকে মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ মন্ত্রীর মৃত্যুতে আসনটি শূন্য হওয়ায় নিয়মানুযায়ী ৯০ দিনের ভিতর উপনির্বাচন হওয়ার কথা। প্রয়াত মন্ত্রীর বিয়োগে একদিকে সর্বত্র শোক আবার অন্যদিকে জনতার মুখে উপনির্বাচনের ডামাঢোল।

কে হবেন নাসিরনগর সংসদীয় আসনের পরবর্তী কান্ডারী। জানা গেছে, উপনির্বাচনকে সামনে রেখে অনেকেই চষে বেড়াচ্ছেন নাসিরনগরের মাঠে। প্রয়াত মন্ত্রীর পরিবারের হয়ে তার সহধর্মিণী দিলশাদ আরা বেগম মিনু দলীয় মনোয়নের ব্যাপারে আশাবাদী বলে জানা গেছে বিভিন্ন সূত্র থেকে। তিনি উচ্চ শিক্ষিত এবং প্রয়াত নেতা  অ্যাড. ছায়েদুল হকের দীর্ঘ রাজনীতির পথচলায় সব-সময় পাঁশে থেকে সহযোগিতা করেছেন বলে জানা যায় ।

আওয়ামী লীগের মনোয়ন পাওয়ার অপেক্ষায় কেন্দ্রীয় কৃষকলীগ নেতা এম এ করিম, আওয়ামীলীগের উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক ফরহাদ হোসেন সংগ্রাম, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনির প্রমূখ।

সাবেক এমপি সাফি মাহমুদের নামও উপ-নির্বাচনে প্রার্থী হিসাবে শোনা যাচ্ছে। যেহেতু ২০১৪ সালের ৫জানুযারি জাতীয় নির্বাচনে দেশের অন্যতম বৃহত্তর দল বিএনপি অংশগ্রহন করেননি তাই এখানে বিএনপির কোন প্রার্থী নির্বাচন করার ব্যাপারে জানা যায়নি।

এলাকার সর্ব সাধারনের সাথে কথা বলে জানা গেছে উপনির্বাচনে যারাই নির্বাচন করুক না কেন নাসিরনগরে এখন প্রয়োজন যোগ্য নেতৃত্ব। যার হাত ধরে আগামী দিনে নাসিরনগরের উন্নয়নের ধারা অব্যাহতভাবে এগিয়ে যাবে এবং এলাকার মুসলমান ও হিন্দুদের শত বছরের বন্ধন অটুট থাকবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত