প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আলুর বাজারে মহাধস : ক্ষতি ১২ হাজার কোটি টাকা

ডেস্ক রিপোর্ট : সারা দেশে আলুর বাম্পার ফলন হলেও বাজারে মহাধস নেমেছে। হিমাগারের মজুদকৃত আলুর গ্রাহক সংকট দেখা দিয়েছে। এদিকে বাজারে নতুন আলুর সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় পুরান আলুর ক্রেতা নেই বললেই চলে। এতে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, বর্তমান বাজারে ৮৪ কেজি ওজনের প্রতি বস্তা আলুর দাম ২০০-৩০০ টাকা। আলুর উৎপাদন খরচ বস্তাপ্রতি প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকা। এ হিসেবে প্রতি বস্তা আলুতে লোকসান গুনতে হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ১০০-২০০ টাকা। ভালো মুনাফার আশায় চলতি মৌসুমে ভালো দামের আশায় ব্যবসায়ীরা আলু কিনে মজুদ করে রেখেছিল। তবে চলতি মৌসুমে আলুর ফলন বেশি হওয়ায় এসব মজুদকৃত আলু বাজারজাত করা যাচ্ছে না। এতে বিপাকে পড়েছেন হিমাগার মালিকরা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সারা দেশে আলুর চাহিদা প্রায় ৮০ লাখ টন। চলতি মৌসুমে সারা দেশে আলুর উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৫ লাখ টন। অতিরিক্ত ২৫ লাখ টন আলু এখন হিমাগারে মজুদ রয়েছে। উৎপাদন খরচ প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা। এসব আলু প্রায় প্রতিদিনই ৪০-৫০ বস্তা হিমাগারে পচে যাচ্ছে। এতে ব্যবসায়ীদের ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে।

আলুর এই মহাবিপর্যয় ঠেকাতে হিমাগার মালিকরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়ের দ্বারস্থ হয়েছে। কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। এদিকে আলুর উৎপাদনের জন্য মৌসুমের শুরুতে ব্যাংকঋণ নিয়ে কৃষকদের মাঝে দেন মালিকরা। এমতাবস্তায় ঋণ পরিশোধ করাও দুরূহ হয়ে পড়েছে তাদের কাছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে ব্যাংকের কাছে চিঠি দিয়েছেন হিমাগার মালিকরা।

এ বিষয়ে এফবিসিসিআইয়ের সহসভাপতি ও চান্দিনা ফার্মল্যান্ড এন্ড কোল্ডস্টোরেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মুনতাকিম আশরাফ জানান, এবার আলু ব্যবসায় মহাধস নেমেছে। গত মৌসুমে পর্যাপ্ত মজুদ এবং চলতি মৌসুমে নতুন আলু উত্তোলনের ফলে পুরাতন আলু হিমাগার থেকে আলু নিচ্ছে না কৃষকরা। প্রতি বস্তা আলুর উৎপাদন খরচ প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকা। পুরান আলুর বর্তমান বাজারদর হচ্ছে ২০০-৩০০ টাকা। এ ছাড়া দেশের চাহিদার তুলনায় প্রায় ২৫ লাখ টন বেশি আলু উৎপাদিত হয়েছে। এই আলুর দাম প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা।

সরেজমিনে উত্তরাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি বস্তা আলু ২০০ টাকায়ও নিতে চাইছে না কৃষকরা। এ অবস্থাকে আলুচাষিরা দুর্যোগ হিসেবে দেখছেন। উত্তরাঞ্চলের শস্যভাণ্ডার নামে খ্যাত শুধু শিবগঞ্জ উপজেলায় কোল্ডস্টোরেজের সংখ্যা ১৪টি। প্রতিটি কোল্ডস্টোরেজের ধারণক্ষমতা প্রায় ১ থেকে দেড় লাখ বস্তা। গড়ে আলু মজুদের পরিমাণ ১৫ লাখ বস্তা। এসব স্টোরে প্রায় তিন ভাগের এক ভাগ আলু এখনো মজুদ আছে। শুধু বগুড়া জেলায় মোট কোল্ডস্টোরেজের সংখ্যা ৩৩টি। প্রতিটিতে ১ থেকে দুই লাখ বস্তা ধারণক্ষমতা। প্রতি বস্তায় ৮৪ কেজি আলু থাকে।

কোল্ডস্টোরেজ কর্মকর্তারা জানান, চলতি মৌসুমে বগুড়ায় ১ লাখ বস্তা আলু সংরক্ষণ করা আছে। এর মধ্যে ৭৪ হাজার বস্তা আলু কৃষক ও ব্যবসায়ীদের মাঝে সরবরাহ করা হয়েছে। মজুদকৃত মোট আলুর ৫০ ভাগের বিপরীতে ব্যবসায়ী ও কৃষকদের সহজ শর্তে ঋণও দেয়া আছে। এখন পর্যন্ত কোনো কৃষক ও ব্যবসায়ী ঋণের টাকা পরিশোধ করছেন না। প্রতিদিন প্রায় ৩০ থেকে ৪০ বস্তা আলু পচে গলে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। মজুদকৃত আলুর বিপরীতে ৪০ শতাংশ হারে লোন দেয়া আছে। কিন্তু লোন পরিশোধ তো দূরের কথা গ্রাহক ও ব্যবসায়ী কেউই স্টোরের ধারে কাছে আসছে না।

একতা কোল্ডস্টোরেজ লিমিটেডের মালিক মো. মোশারফ হোসাইন পুস্টি  জানান, চলতি মৌসুমে আলু ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের মাথায় হাত। সরকার দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে আগামী মৌসুমে আলুর চরম সংকট তৈরি হবে দেশে। ভোরেরকাগজ থেকে নেয়া।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত