প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের হরিলুট চলছে

ডেস্ক রিপোর্ট : যুদ্ধাহত, মৃত যুদ্ধাহত ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জন্য নবনির্মিত বহুতল ভবন- ‘মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ার-১’ ও পুরনো দ্বিতল ভবন লুটেপুটে খাচ্ছে অবৈধ দখলদাররা। তাদের একজন দিনাজপুরের লুৎফর রহমান। রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ১৫ তলাবিশিষ্ট এ ভবনের একটি ফ্ল্যাট (ফ্ল্যাট নম্বর ১২-জে) প্রায় চার বছর ধরে অবৈধভাবে নিজের দখলে রেখেছেন মুক্তিযোদ্ধার দাবিদার এ লুৎফর। বরাদ্দ না থাকায় ফ্ল্যাট ছাড়তে কর্তৃপক্ষ নোটিশ দিলেও সেটির কোনো তোয়াক্কা করছেন না তিনি। এমনকি তিনি মুক্তিযোদ্ধা কিনা সে ব্যাপারে অভিযোগ উঠলেও অদ্যাবধি মুক্তিযোদ্ধার সপক্ষে কোনো প্রমাণাদি দেখাতে পারেননি।

শুধু লুৎফরই নয়, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার দাবিদার বগুড়ার আবু শহীদ বিল্লাহ (বকুল) ও তার অমুক্তিযোদ্ধা সন্তান ওষুধ ব্যবসায়ী নাহিদ বিল্লাহ মিলে (ফ্ল্যাট নম্বর ৭-এল, ৭-কে ও পুরনো দ্বিতল ভবনের নিচতলার একটি ফ্ল্যাট) মোট তিনটি ফ্ল্যাট দখলে রেখেছেন। বকুলের নামে বৈধভাবে একটি ফ্ল্যাট ও একটি দোকান বরাদ্দ থাকলেও তারা অবৈধভাবে দখলে রেখেছেন আরও দুটি ফ্ল্যাট। তাদের মতোই তিনটি ফ্ল্যাট (৭-সি, ৭-ডি ও দ্বিতল ভবনের দ্বিতীয় তলায় একটি) দখলে রেখেছেন সুনামগঞ্জের আরেক যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম। এভাবেই ‘মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ার-১’ ও এর পার্শ্ববর্তী পুরনো দ্বিতল ভবনে দুটি করে ফ্ল্যাট দখলে রেখেছেন আরও ২৩ মুক্তিযোদ্ধা। যাদের সবার নামে সরকারিভাবে একটি করে ফ্ল্যাট ও দোকান বরাদ্দ আছে। নীতিমালা অনুযায়ী, একজনের নামে একাধিক ফ্ল্যাট বা দোকান বরাদ্দের সুযোগ নেই।

‘মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ার-১’ অবৈধ দখলদারদের বিষয়ে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে অনিয়মের এমন ভয়াবহ চিত্র। পাশাপাশি যুগান্তরের নিজস্ব অনুসন্ধানেও মিলেছে এর সত্যতা।

কল্যাণ ট্রাস্টের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ১০২টি (নতুন ভবনে ৮৪টি ও পুরনো ভবনে ১৮টি) ফ্ল্যাটের মধ্যে অবৈধ দখলে রয়েছে ৭৩টি। এগুলো ৬৮ জন ব্যক্তি নিজেরা ভাগাভাগি করে নিয়েছেন। এদের মধ্যে প্রকৃত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আছেন ১৫ জন, যারা একটি করে বৈধভাবে ফ্ল্যাট বরাদ্দ পেয়েছেন। কিন্তু তাদের একজন নিয়মবহির্ভূতভাবে দুটি ফ্ল্যাট ও ১৪ জন একটি করে মোট ১৬টি ফ্ল্যাট নিজেদের দখলে রেখেছেন। এছাড়া ১০ জন আছেন, যারা যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা নন- এমন অভিযোগের তদন্ত চলছে। এ ১০ জনের প্রত্যেকেই একটি করে ১০টি ফ্ল্যাট বৈধভাবে বরাদ্দ পেয়েছেন। কিন্তু এরপরও অবৈধভাবে তাদের ১ জন দুটি এবং ৯ জন একটি করে ৯টি অর্থাৎ মোট ১১টি ফ্ল্যাট নিজেরা দখল করে রেখেছেন।

এছাড়া অবৈধ দখলদারদের মধ্যে রয়েছেন আরও চার ব্যক্তি। তাদের নামে একটি করে ফ্ল্যাট ও দোকান বরাদ্দ দেয়া হলেও পরে দেখা গেছে, তারা যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা নন। এ কারণে তাদের বরাদ্দ বাতিল করা হয়। কিন্তু বরাদ্দ বাতিলের পরও সাতটি ফ্ল্যাট দখল করে রেখেছেন এ চারজন। তারা হলেন- নেত্রকোনার আবু সিদ্দিক (ফ্ল্যাট নং ৬-এফ ও ৬-ই) ও মাইনুল হক (৭-এ ও ৭-বি), কুমিল্লার মো. ফরিদ মিয়া (৬-এইচ ও ৬-জি) এবং নরসিংদীর সিরাজুল ইসলাম (বরাদ্দ ৭-ই কিন্তু দখলে রেখেছেন ১০-আই)।

এছাড়া একটি ফ্ল্যাটও বরাদ্দ পাননি- এমন ৩৯ ব্যক্তি অবৈধভাবে দখলে রেখেছেন একটি করে ফ্ল্যাট। এরমধ্যে তিনজনই অমুক্তিযোদ্ধা। তারা হলেন- হবিগঞ্জের ছানোয়ার উদ্দিন আহম্মেদ (১১-এল), কুমিল্লার হোসনে আরা বেগম, স্বামী মৃত-রুস্তম আলী (১১-জে) ও দিনাজপুরের লুৎফর রহমান (১২- জে)। তাদের দাবি সবাই যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারা মুক্তিযোদ্ধা নন। আর এ কারণে বর্তমানে তাদের ভাতাও স্থগিত রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে লুৎফর রহমান  বলেন, লাল মুক্তিবার্তাসহ তার মুক্তিযোদ্ধার গেজেট রয়েছে। কাজেই তিনি যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার সব সুযোগ-সুবিধা পাবেন। নোটিশ দেয়ার পরও কেন ফ্ল্যাট ছাড়ছেন না? জানতে চাইলে তিনি ক্ষব্ধ হয়ে বলেন, ‘বললেই হল। ফ্ল্যাট ছাড়ার প্রশ্নই আসে না।’ উল্লিখিত সব অনিয়মের সত্যতা স্বীকার করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক যুগান্তরকে বলেন, ‘নীতিমালা লঙ্ঘন করে দীর্ঘদিন ধরে কিছু অবৈধ দখলদার মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ার ও পুরাতন ভবনের ফ্ল্যাটে অবস্থান করছে। একাধিকবার দখল ছাড়ার নির্দেশ দিলেও কাজ হয়নি। এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেয়া হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ার-১ বেদখল হওয়ার কারণ নির্ণয় ও দায়ভার নির্ধারণে চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে সরকার। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিবের (উন্নয়ন) নেতৃত্বে ৪ সদস্যের এ কমিটির একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কমিটির প্রধান মো. সলিমুল্লাহ যুগান্তরকে জানান, ‘বেদখল হওয়ার কারণ নির্ণয় ও দায়ভার নির্ধারণে কাজ চলছে। প্রতিবেদন দিতে আরও কয়েকটি বৈঠক করতে হবে। এ কারণে কিছু বলা যাবে না।’

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আজহারুল হক  বলেন, অবৈধ দখলদারদের একাধিকবার ফ্ল্যাট ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হলেও তারা মানছেন না। তাদের বকেয়া ভাড়া হিসাব করে আদায় করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তাদের উচ্ছেদ করার সিদ্ধান্ত হলেও বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় কৌশলে কাজ করতে হচ্ছে। দখলদারদের অনেকে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা নন, তাদের কাগজপত্র নেই। এমনকি দখলদারদের মধ্যে কয়েকজন অমুক্তিযোদ্ধা। আবার অনেকের নামে পরিত্যক্ত বাড়িসহ সরকারি প্লট ও ফ্ল্যাট বরাদ্দ রয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী এরা কেউই পাবেন না। তাছাড়া অনেকের সন্তানরা সমাজে প্রতিষ্ঠিত। দলখদারদের কেউই সরকারের নিয়ম-কানুন মানতে চান না। এমনকি সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক ও মারমুখী আচরণ করে থাকেন।
জানা গেছে, স্বাধীনতার পরই রাজধানীর মোহাম্মদপুরের গজনবী রোডের বিহারিদের চারটি প্লট (১/১, ১/২, ১/৩ ও ১/৬) দখল করেন মুক্তিযোদ্ধারা। পরে এ সম্পত্তি বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট নিয়ন্ত্রণে নেয়। সেখানে যুদ্ধাহত, মৃত যুদ্ধাহত ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জন্য বিশ্রামাগার নামে একাধিক ভবন তৈরি হয়। যাতে দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবার বসবাস করে আসছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নিয়ে সেখানে সাড়ে ৩৭ কাঠা জমির ওপর প্রায় ৬৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ২টি বেজমেন্টসহ ১৫ তলা ভবন নির্মাণ করে। পাশাপাশি ১/৬ প্লটের দ্বিতল ভবনটিও বহাল রাখা হয়। মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ার-১ নামে নতুন ভবনে ৮৫০ বর্গফুটের ৮৪টি ফ্ল্যাট এবং ৭৪টি দোকান নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া ভবনটির ৪র্থ ও ৫ম তলায় বাণিজ্যিক স্পেস এবং ষষ্ঠ তলায় যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের বিশ্রামাগার ও কমিউিনিটি সেন্টার তৈরি করা হয়। মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের বোর্ড সভায় সিদ্ধান্ত হয় ‘নতুন ভবন নির্মাণের আগে বিশ্রামাগারে যে সব যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পরিবার বসবাস করছে তাদের প্রত্যেকের নামে এক টাকা প্রতিকী মূল্যে একটি করে ফ্ল্যাট ও দোকান বরাদ্দ দেয়া হবে। অবশিষ্ট ফ্ল্যাট, দোকান, বাণিজ্যিক স্পেস মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত হবে। পরে ১/৬ প্লটেও নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে। সে অনুযায়ী ২০১৩ সালে বসবাসকারী ৩২ জনকে একটি করে ফ্ল্যাট ও দোকান বরাদ্দ দেয়া হয়।

মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট সূত্র জানায়, নিয়ম অনুযায়ী সরকারের বিভিন্ন সংস্থা রাজউক, গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ, পরিত্যক্ত সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা বোর্ড কর্তৃক কারও নামে কোনো বাড়ি/প্লট বরাদ্দ করলে তিনি মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ারে কোনো সুযোগ-সুবিধা পাবেন না। অবৈধ দখলদার এবং বরাদ্দপ্রাপ্তদের একটির বেশি দখল করা ফ্ল্যাট খালি করতে ২০১৪ সালের ২ এপ্রিল নোটিশ দিয়ে ৭ দিনের মধ্যে ফ্ল্যাট খালি করতে বলা হয়। কিন্তু এতে সারা দেননি তারা। পরে ১১ জনের (যারা যুদ্ধাহত, মুক্তিযোদ্ধা অথবা শহীদ মুক্তিযোদ্ধা নন) ভাতা সাময়িক বন্ধ করে কেন স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে না- এ মর্মে সংশ্লিষ্টদের নোটিশ দেয় সরকার। পাশাপাশি তাদের সনদ ও গেজেট কেন বাতিল করা হবে না সে ব্যাপারেও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠায় কল্যাণ ট্রাস্ট। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে দু’জন আদালতে রিট মামলা দায়ের করেন। মামলা এখনও চলমান।

মুক্তিযোদ্ধারা যা বললেন : তিনটি ফ্ল্যাট দখলের কথা স্বীকার করে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবার বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সেক্রেটারি আবু শহীদ বিল্লাহ (বকুল) যুগান্তরকে বলেন, সরকার তাদের জন্য মানসম্মত (১২৫০ বর্গফুট) বসবাস উপযোগী ফ্ল্যাট নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু তাদের জন্য ছোট ফ্ল্যাট (৮৫০ বর্গফুট) নির্মাণ করা হয়েছে। যেখানে পরিবার-পরিজন নিয়ে থাকা যায় না। এ কারণেই সবাই একাধিক ফ্ল্যাট দখল করেছে। ফ্ল্যাট দখলের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ঢাকা মহানগর ইউনিট কমান্ডের সহকারী কমান্ডার শহীদ বিল্লাহ বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকে আমরা ৩২টি পরিবার এখানে ছিলাম। বরাদ্দের সময় সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশে হঠাৎ করে ঠাকুরগাঁওয়ের একজনকে ফ্ল্যাট ও দোকান বরাদ্দ দেয়া হলে মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তাদের মতে, জীবন বাজি রেখে বিহারিদের জায়গা দখলে রেখেছি আমরা আর তদবিরের মাধ্যমে ফ্ল্যাট পাবেন অন্যরা- এটা হতে পারে না। তাই সবাই সরকারি নীতিমালা ভঙ্গ করে ইচ্ছামত ফ্ল্যাট দখলে নেয়।’ পরে আমাদের সঙ্গে আলোচনা না করে দখল ছেড়ে দেয়ার নোটিশ দেয়া হলেও কেউই মানেনি।

দুটি ফ্ল্যাট তার দখলে রয়েছে স্বীকার করে সিরাজগঞ্জের মো. চাঁদ মিয়া বলেন, ফ্ল্যাটে মাঝেমধ্যে তিনি থাকেন। বাকি সময় তার রুপনগরের ফ্ল্যাটেই থাকেন। পুরাতন দ্বিতল ভবনের ফ্ল্যাটে তার ছোট ভাই আবু সাইদ থাকেন যিনি রেন্টে কারের ব্যবসা করেন। তার দাবি, তারা পুরাতন ভবন ছেড়ে দিলে কুচক্রী মহল জাল কাগজের মাধ্যমে দখল করে নেবেন।

নতুন ভবনের দুটি ফ্ল্যাট দখলকারী যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবার বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি কেয়াম উদ্দিন মোল্লা বলেন, একটি ফ্ল্যাটে পরিবার নিয়ে থাকা সম্ভব নয়। তাই দুটি ফ্ল্যাট দখল করেছি। মন্ত্রী-সচিবরা আমাদের সঙ্গে আলোচনা না করেই বাড়ি ছাড়ার নোটিশ দেন বলে আমরা ছাড়িনি। তাদেরকে আমাদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে হবে, কথা শুনতে ও মানতে হবে। তারপর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতি মাসে মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ারের ব্যয় ধরা হয়েছে ১৮ লাখ ১১ হাজার টাকা। টাওয়ারের বাণিজ্যিক স্পেস থেকে প্রাপ্ত আয়ে এ ব্যয় নির্বাহের কথা থাকলেও অবৈধ দখলদারিত্বের কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। বরং ২০১৫ সালের জুলাই থেকে ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১৫ মাসে ভবনটির মাধ্যমে আয় হয়েছে ৩০ লাখ ৮০ হাজার ২৫৭ টাকা, আর ব্যয় হয়েছে ৪৩ লাখ ৮২ হাজার ৯৮৫ টাকা। অর্থাৎ এ সময়ে লোকসান হয়েছে ১৩ লাখ ২ হাজার ৭২৮ টাকা। সে হিসাবে প্রতি মাসে লোকসান গুনতে হয়েছে ৮৬ হাজার ৮৪৮ টাকা। আর এ কারণেই ভবনটির বিদ্যুৎ বিল বকেয়া পড়েছে ৬০ লাখ টাকা।যুগান্তর থেকে নেওয়া।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত