প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বদলে যাচ্ছে রাজধানীর আসনগুলোর মানচিত্র

তারেক : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সংসদীয় আসন পুনর্বিন্যাসের কাজে হাত দিতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আসনগুলোতে পরিবর্তন আনার প্রয়োজনীয়তা খতিয়ে দেখতে একজন পরামর্শক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। জিওগ্রাফিক্যাল ইনফরমেশন সিস্টেমের (জিআইএস) আলোকে এই পরামর্শক তার দায়িত্ব পালন করবেন। এর আগে কমিশনের সীমানা বিন্যাস সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম পরিবর্তনের পদ্ধতিগত দিক-নির্দেশনা জানিয়ে দেবেন তাকে। এ জন্য সংগ্রহ চলছে তথ্য-উপাত্ত।

ইসি সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রাজধানী ঢাকার আসনগুলোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। ঢাকার বিভক্ত দুই সিটিতে যুক্ত হওয়া নতুন ৩৬টি ওয়ার্ডকে আসনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করতেই এই পরিবর্তন আনা হবে। পাশাপাশি ভারতের অভ্যন্তরে থাকা ১১২টি ছিটমহল বাংলাদেশের কাছে হস্তগত হওয়ায় এসব বিনিময় হওয়া এলাকাগুলো কোন আসনের সঙ্গে যুক্ত করা হবে সেটিও সীমানা বিন্যাসের ক্ষেত্রে প্রাধান্য পাচ্ছে। এছাড়া ঢাকার পার্শ্ববর্তী সাভার ও গাজীপুরেও জনসংখ্যানুপাতে কিছু আসনে পরিবর্তন আসতে পারে। এর সঙ্গে সারা বাংলাদেশে সীমিত আকারে পুনর্বিন্যাসের কথা মাথায় নিয়ে কাজ করবেন পরামর্শক।

ইসির সীমানা বিন্যাস সমন্বয় কমিটির আহ্বায়ক মো. রফিকুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সংসদীয় আসনের সীমানা বিন্যাসে পরিবর্তন আনার জন্য একজন পরামর্শক নিয়োগের জন্য প্রশাসনকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। নিয়োগ হওয়া পরামর্শক কোন নীতিটি অনুসরণ করে তার দায়িত্ব পালন করবেন, সে সব তথ্য-উপাত্ত কিছু সংগ্রহ করা হয়েছে, আর কিছু প্রক্রিয়াধীন। তিনি বলেন, নিয়োগপ্রাপ্ত পরামর্শক এসব উপাত্ত নিয়ে জিআইএস পদ্ধতির আলোকে কোন কোন আসনে পরিবর্তন আনা বাঞ্ছনীয় সে বিষয়ে সুপারিশ করবেন। তবে, ছিটমহল ও ঢাকার দুই সিটিতে অন্তর্ভুক্ত ওয়ার্ডগুলোর মধ্যেও সমন্বয় আনতে হবে।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, ১৯৭৬ সালে সামরিক ফরমান জারি করে সীমানা বিন্যাস আইন প্রবর্তন করা হয়। তৎকালীন সরকারের প্রণীত আইনের আলোকে এতদিন ২৯৭ সংসদীয় আসনে পরিবর্তন এনেছে সব কমিশন। কিন্তু ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার মার্শাল ল’ জারি করে প্রণীত সব আইনকে রহিত করে সংসদে আইন পাস করলে সীমানা বিন্যাস আইনটি নতুন করে প্রবর্তনের বাধ্যবাধকতা চলে আসে। এর আগে ২০১১ সালে সাবেক শামসুল হুদা কমিশন এ সংক্রান্ত আইনের খসড়া প্রস্তুত করেও তা বাস্তবায়ন করতে পারেননি। ফলে গত ফেব্রুয়ারিতে মেয়াদ পূর্ণ করা কাজী রকিবউদ্দিন কমিশন পুরনো আইনের আলোকে সীমিত ৪৩টি আসনে নামমাত্র পরিবর্তন এনে তাদের দায়িত্ব সম্পন্ন করে।

কেএম নুরুল হুদা নেতৃত্বাধীন বর্তমান কমিশন ১৫ ফেব্রুয়ারি দায়িত্বে এসে নির্বাচনী আইনে সংস্কার আনতে সংলাপের পাশাপাশি সংসদীয় আসনের সীমানা বিন্যাস আইনটি নতুন করে সংশোধনের উদ্যোগ নেয়। প্রথমে কমিশন একটি খসড়া প্রস্তুত করে আইন বিশেষজ্ঞ দিয়ে সব যাচাই-বাছাই করে ১৬ অক্টোবর ওই বিশেষজ্ঞ কমিশনকে তার প্রস্তাবনাটি কমিশনে হস্তান্তর করেন। এরপর নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানমের নেতৃত্বাধীন আইন সংস্কার কমিটি আরেক দফা পর্যালোচনা করে ইসির যুগ্ম সচিবকে (আইন) আহ্বায়ক করে আরেকটি সাব-কমিটি গঠন করে তাদের অধীনে এটি চূড়ান্ত বিশ্লেষণের জন্য দায়িত্ব অর্পণ করে। গঠিত কমিটি নভেম্বরে বৈঠকে নানা অসঙ্গতি খুঁজে পায়। পরে তারা সিদ্ধান্ত নেয়, অসঙ্গতি দূর করে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নতুন আইনের আলোকে সীমানা বিন্যাস সম্ভব নয়। পরে বিদ্যমান আইনের আলোকে অর্থাৎ জনসংখ্যা, প্রশাসনিক অখণ্ডতা ও ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় কিছুটা আসনে সীমানা পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেয়। এর আলোকে একজন পরামর্শক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। শিগগিরই এই পরামর্শক কাজ শুরু করবেন।

কাজ শুরুর আগে সীমানা বিন্যাস কমিটির পক্ষ থেকে কিছু তথ্য-উপাত্ত সরবরাহ করা হবে। এটির কাজও চলছে। পাশাপাশি সব সংসদীয় আসনের ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা এবং সর্বোপরি একটি আসনের মোট ভোটার সংখ্যা কত তার সঠিক তথ্য যাচাইয়ের জন্য এনআইডির কাছে ইউনিটভিত্তিক ভোটার তালিকার তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্ত পরামর্শক এসব তথ্য-উপাত্ত নিয়ে সংসদীয় আসনের পরিবর্তন আনার ক্ষেত্রে তার সুপারিশ জানাবেন। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের সুপারিশের আলোকে সীমানা বিন্যাসের কাজ সম্পন্ন করে দাবি-আপত্তি নিষ্পত্তির খসড়া প্রকাশ করবেন। এছাড়া ইতোমধ্যে সীমানা বিন্যাসের দাবিতে বিভিন্ন আসন থেকে শতাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। এগুলোও বিবেচনায় নিয়ে কাজ করবেন ওই পরামর্শক।
এর আগে ২০০৮ সালে ১/১১ শামসুল হুদা কমিশন ৩০০ সংসদীয় আসনের মধ্যে ১৩৩টিতে ব্যাপক ভাঙচুর করার মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলের জেলায় ৮টি আসন কমানো হয়। এর ফলে ঢাকায় আসন বেড়ে যায়। কাজী রকিবউদ্দীন কমিশন ৪৩টি আসনে নামমাত্র পরিবর্তন আনে। বিদায়ী কমিশনের মতো বিদ্যমান সীমানা বিন্যাস আইনের আলোকে কেএম নুরুল হুদার কমিশনও সংসদীয় আসনে সীমিত পরিবর্তন আনার পক্ষে। কারণ আওয়ামী লীগ-বিএনপি সীমানা বিন্যাস নিয়ে বিপরীত অবস্থানে রয়েছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ চায় বিদ্যমান সীমানার আলোকে নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং বিএনপির দাবি ২০০১ সালে অনুষ্ঠিত সংসদীয় আসনের সীমানা বিন্যাসের আলোকে। কমিশন কোনো পক্ষে অবস্থান না নিয়ে যৌক্তিক প্রয়োজনে যেখানে সীমানা বিন্যাস প্রয়োজন সেখানে করার পাশাপাশি বাকি আসনগুলোতে সীমিত পরিসরে পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মানবকণ্ঠ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত