প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কী হবে ঢাকা উত্তর সিটিতে

ডেস্ক রিপোর্ট : ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে উপনির্বাচন ও উত্তর-দক্ষিণের নতুন ৩৬ ওয়ার্ডের ভোট নিয়ে নানামুখী শঙ্কা দেখছেন নির্বাচন বিশ্লেষকরা। সেই সঙ্গে ইসির কর্মকর্তারাও ভোট নিয়ে নানামুখী শঙ্কার কথা জানিয়েছেন। নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, সিটি করপোরেশনের আইন সংশোধন করে নতুন ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের মেয়াদকাল নির্ধারণ না করলে আইনি জটিলতা সৃষ্টি হবে। এতে ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র পদে উপনির্বাচনসহ ৩৬ ওয়ার্ডের নির্বাচন ঝুলে যেতে পারে। সেই সঙ্গে ইসি বলেছে, নতুন ভোটারদের প্রার্থিতার সুযোগ নেই। কিন্তু তারা ভোট দিতে পারবেন। আর এই বিষয় সমাধান না করে ভোট করলে মামলা হওয়ার শঙ্কাও প্রকাশ করছেন খোদ ইসির কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, ৩১ জানুয়ারি যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ঘোষণা হবে, সেখানে স্থান পাওয়া নতুন ভোটাররা ভোট দিতে পারলেও প্রার্থী হতে পারবেন না। এতে নতুন ভোটারদের অনেকেই ক্ষুব্ধ হতে পারেন।

ভোট নিয়ে ৬ জটিলতা দেখছেন ইসির কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, উত্তরের মেয়র পদে উপনির্বাচন এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নতুন অন্তর্ভুক্ত ওয়ার্ডে নির্বাচনের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ অনুরোধ করলেও তারা আইনি সমাধানের বিষয়ে তেমন কিছু বলছেন না। এ নির্বাচন নিয়ে ৬ বিষয় পর্যালোচনা করতে ইসিকে পরামর্শ দিয়েছেন তারা। এর মধ্যে মেয়রের শূন্য পদে উপনির্বাচনের বর্তমানের এখতিয়ারাধীন এলাকা, সীমানা ও ওয়ার্ড; শূন্য পদে উপনির্বাচনের জন্য ওয়ার্ড বিভক্তি ও ভোটার তালিকা পুনর্বিন্যাস; বিভক্তিকৃত ওয়ার্ড ও পুনর্বিন্যস্ত ভোটার তালিকার সিডি প্রাপ্তির সর্বশেষ অবস্থান; উপনির্বাচনের প্রাক্কালে হালনাগাদকৃত খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ ও নিষ্পত্তিবিষয়ক কার্যক্রমে প্রভাব; দুই সিটির সীমানা বাড়ানোর পর ওয়ার্ড সংখ্যা বৃদ্ধি ও ওয়ার্ড বিভক্তি চূড়ান্তের পর পরিষদের আগের সদস্য ও বর্তমান সদস্য সংখ্যা এবং পরিষদ গঠনবিষয়ক বিধান পর্যালোচনা; দুই সিটিতে সীমানা ও ওয়ার্ড বাড়ায় পরিষদের বা বর্ধিতাংশের কাউন্সিলর পদের মেয়াদ নিয়ে জটিলতার শঙ্কা করছেন কর্মকর্তারা।

কমিশন সভায় উপস্থাপনের জন্য তৈরি করা কার্যপত্রে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার সিটি করপোরেশন আইনে নতুন অন্তর্ভুক্ত ওয়ার্ডে সাধারণ নির্বাচন-সংক্রান্ত বিধান পরিলক্ষিত হয় না। বিদ্যমান ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নির্বাচনসহ যে কোনো কার্যক্রম গ্রহণে বর্ধিত ১৮ ওয়ার্ডের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৮টি ওয়ার্ডের ক্ষেত্রেও বিষয়টি বিদ্যমান। সেই সঙ্গে ২-৩১ জানুয়ারি ভোটার তালিকা প্রকাশ, ১-২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এসএসসি পরীক্ষার বিষয়টি বিবেচনার জন্য বলেছে ইসি সচিবালয়। ইসির কর্মকর্তারা বলছেন, ঢাকা উত্তরে মেয়র পদে উপনির্বাচনের সময় অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য সম্প্রসারিত উত্তর-দক্ষিণের ৩৬টি সাধারণ ও সংরক্ষিত ১২টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদেও ভোট করতে হবে। ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, ইতিমধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের চিঠি এসেছে। তিনি বলেছেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন উপনির্বাচনে কোনো জটিলতা নেই, তাই কমিশন জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে তফসিল এবং ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে ভোট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, নতুন ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের মেয়াদ হবে সিটি করপোরেশনের মেয়াদ পর্যন্ত। উত্তর সিটিতে যুক্ত নতুন ১৮ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর, ছয়টি ওয়ার্ডে সংরক্ষিত কাউন্সিলর এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটির নতুন ১৮টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর ও ছয়টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ভোটের জন্য তিনটি আলাদা প্রজ্ঞাপন ও তফসিল ঘোষণা করা হবে বলে জানান হেলালুদ্দীন আহমদ। যদিও ইসির কর্মকর্তারা নানা জটিলতার কথা বলছেন। ২৮ এপ্রিল ২০১৫ সালে ঢাকা উত্তর সিটির ভোট হওয়ার পর ১৪ মে প্রথম সভা হয়। সে হিসাবে উপনির্বাচনে নির্বাচিত মেয়র বাকি মেয়াদের জন্য অর্থাৎ ২০২০ সালের ১৩ মে পর্যন্ত বহাল থাকবেন। এ ছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়াদ হচ্ছে ২০২০ সালের ১৬ মে পর্যন্ত। ৩০ নভেম্বর ঢাকা উত্তরের মেয়র আনিসুল হক মৃত্যুবরণ করেন। ১ ডিসেম্বর থেকে পদটি শূন্য ঘোষণা করে গেজেট করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। সেই সঙ্গে ৪ ডিসেম্বর মেয়রের শূন্য পদে নির্বাচন অনুষ্ঠানে ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় সরকারের বিভাগের উপ-সচিব মো. মাহমুদুল আলম স্বাক্ষরিত মন্ত্রণালয়ের অনুরোধপত্র ইসি সচিবের কাছে পাঠানো হয়। ৯০ দিনের মধ্যে (২৮ ফেব্রুয়ারির) নির্বাচন করার আইনি বাধ্যবাধকতার কথাও চিঠিতে বলা হয়। সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত