প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

হাসপাতালে পানির অভাবে কাতরাচ্ছিল মুমূর্ষু রোগী! (ভিডিও)

ডেস্ক রিপোর্ট : কক্সবাজার সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের পানির অভাবে মুমূর্ষু রোগেদের চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে রোগী ও স্বজনদের।

শনিবার সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, বিষপান করা এক রোগী বেডে কাতরাচ্ছেন। কিন্তু পানি না থাকায় তাৎক্ষণিক চিকিৎসাসেবা দেয়া যাচ্ছে না।

ওই রোগীর নাম দিলদার আহমেদ (২৪)। তিনি উখিয়ার ডিগ্রি কলেজ গেট সংলগ্ন এলাকার নুর আহমদের ছেলে।

তার মায়ের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, শনিবার বিকেলে দিলদারকে গালিগালাজ করে তার বাবা। বাবার সঙ্গে অভিমান করে বিকেলে বিষপান করে সে। এরপর দ্রুত দিলদারকে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।

তবে দিলদারের অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তাৎক্ষণিক তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। মুমূর্ষু ছেলেকে নিয়ে তার মা ও স্বজনেরা সদর হাসপাতালে পৌঁছেন সন্ধ্যা ৬টার দিকে।

দিলদারের মা বলেন, জরুরি বিভাগে নিয়ে আসার পর দিলদারের অবস্থা আরও সংকটাপন্ন হয়ে উঠে। কিন্তু সেখানে কর্মরত স্টাফরা তাকে জানায়, পানি না থাকার কারণে তারা দিলদারকে চিকিৎসাসেবা দিতে পারছেন না। পানি আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে তাদের।

পৌনে এক ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও চিকিৎসা সেবা না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত সেখান থেকে চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন তারা। পরে ৬টা ৫৫ মিনিটের দিকে জরুরি বিভাগের লাইনে পানি চলাচল শুরু হয়। এরপর চিকিৎসাসেবা শুরু করে স্টাফরা।

অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘ এই সময়ে একবারের জন্যও মুমূর্ষু এই রোগির খোঁজ নেননি জরুরি বিভাগে কর্মরত চিকিৎসক। তিনি এরও অনেকক্ষণ আগে থেকে জরুরি বিভাগের পার্শ্ববর্তী একটি কক্ষে বাইরে থেকে দরজা আটকিয়ে ভেতরে অবস্থান করেন।

প্রতিবেদনের খাতিরে ওই কক্ষে যাওয়া হয় এ প্রতিবেদকের। বেশ কিছুক্ষণ নক করার পর দরজা খোলেন জরুরি বিভাগের কর্মরত চিকিৎসক আবুল খায়ের আজাদ। ওই সময় তিনি ওই কক্ষের বেডে শুয়ে মোবাইলে কথা বলছিলেন।

তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, পানি না থাকায় চিকিৎসাসেবা দেওয়া যাচ্ছে না। কেন পানি নেই সেই প্রশ্নে তিনি বলেন, পানি আছে কি নেই সেটি দেখার দায়িত্ব তার নয়।

চিকিৎসক আবুল খায়ের বলেন, এটি দেখাশুনা করেন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শাহিন আবদুর রহমান। এই বিষয়ে তার সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।

তবে পানি না থাকার বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নে আবুল খায়ের কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

জানা গেছে, শনিবার সকাল থেকেই পানি ছিল না হাসপাতালের জরুরি বিভাগে। হাসপাতালের পানির লাইন বিকল হয়ে যাওয়ায় এই অবস্থা সৃষ্টি হয়। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ ধরে পানি না থাকায় সারাদিন চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হন রোগীরা। অনেকে বাধ্য হয়ে বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায় রোগীদের।

কক্সবাজার সদর হাসপাতাল জেলার একমাত্র হাসপাতাল যেখানে সারাদিন জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে দুর্ঘটনা কবলিত, মারধর, বিষপান ও পানিতে ডোবাসহ বিভিন্ন ধরনের মুমূর্ষু রোগী নিয়ে আসা হয়। তাই হাসপাতালে কোনো ধরনের ত্রুটি হলেও তা দ্রুত সমাধান হওয়ার কথা।

এ বিষয়ে জানতে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শাহিন আবদুর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করেও সাড়া পাওয়া যায়নি। পরিবর্তন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত