প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রসিকে এরশাদকে আ’লীগ-বিএনপি দু’দলেরই ছাড়!

ডেস্ক রিপোর্ট : জটিল সমীকরণে রসিক নির্বাচনে জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী ভূমিধস বিজয় পেয়েছেন। নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। এই নির্বাচনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কোনো সমীকরণ থাকার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না অনেকে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কারও কারও মতে, রসিকে জাপা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ছাড় দিয়েছে।

তাদের মতে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এরশাদ নাখোশ হন এমন কোনো কঠোর অবস্থান দুই প্রধান রাজনৈতিক দল নিতে চায়নি। উল্টো এরশাদকে আশ্বস্ত করতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতারা মরিয়া হয়ে কাজ করছেন।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতারা প্রকাশ্যে এসব স্বীকার না করলেও ভেতরে ভেতরে জাতীয় পার্টির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন ঠিকই। জাতীয় পার্টির দায়িত্বশীল নেতারাও বলছেন, রংপুর সিটি নির্বাচনে ওই দুই দল ‘বাড়াবাড়ি’ করলে তার ফল হিতে বিপরীত হতো।

সরকারি দলের একাধিক নেতার সঙ্গে শুক্র এবং শনিবার কথা বলে জানা গেছে, তারা তাদের প্রার্থীকে রংপুরে জিতিয়ে আনার বিষয়টি কোনো বিশেষ চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেননি। উপরুন্তু বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেয়ায় একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন করাই তাদের মূল লক্ষ্য ছিল। তাই নির্বাচনে সরকার হস্তক্ষেপ করেনি বলে তারা এখন জোরালোভাবে বলতে পারছে। তবে বিএনপি অংশ না নিলে এই নির্বাচনে হিসাব-নিকাশ অন্যরকম হতে পারতো।

এছাড়া, নির্বাচনে পেশী শক্তি বা পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহার না করাকেও নিজেদের নময়নীয়তার প্রমাণ বলেও উপস্থাপন করতে চাইছেন সরকারি দলের নেতারা।

এ নির্বাচন নিয়ে জাতীয় পার্টির সঙ্গে কোনো সমঝোতা হয়েছে কিনা- জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘এটা সময় আসলে সবাই দেখবে। বিএনপি আত্মতুষ্টিতে ভুগছে। তারা কাউকে ২৫ আসন দিচ্ছে। আমাদেরকে কখনো ৩০ আসন আবার কখনো ৪০ আসন দিচ্ছে। এবার তাদের এই ধারণা ভেঙেছে। রসিকের ফলাফল জাতীয় নির্বাচনে তাদের জন্য একটা মেসেজ।’

অন্যদিকে মাঠের বিরোধী দল হিসেবে বিএনপির পক্ষ থেকেও রসিক নির্বাচনে তেমন কোনো জোরালো প্রচারণা চালানো হয়নি। বিএনপি মহাসচিবের সফর ছাড়া বাকিটা ছিল কেবল আনুষ্ঠানিক বক্তৃতা-বিবৃতি।

বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বেশ কিছু ঘটনা থেকে সহজেই বোঝা যায় যে বিএনপি এই নির্বাচন সিরিয়াসলি নেয়নি। প্রথমত শেষ মুহূর্তে এসে তুলনামূলক কম শক্তিশালী প্রার্থী ঘোষণা করা। রংপুর মহানগর বিএনপির সভাপতির নির্বাচন করার প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়া গুরুত্বপূর্ণ।

এছাড়া বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মতো দায়িত্বশীল নেতা কেবল ঝটিকা সফরে গিয়ে রংপুরের প্রচারণার কাজ শেষ করেছেন। সেটিও গিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সঙ্গে একই ফ্লাইটে যা তিনি আগেই জানতেন।

এর পাশাপাশি রংপুর সিটি করপোরেশনে একেবারেই রাজনৈতিকভাবে কম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইকবাল হাসন মাহমুদ টুকুকেও সমন্বয়ক করা দলের গুরুত্বহীনতার দিক হিসেবে দেখছেন অনেকেই।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘রংপুর এরশাদ সাহেবের জন্মস্থল ও কর্মস্থল। রংপুরের মানুষ এখনো উনাকে ভুলেনি। রংপুরের মানুষ ভালো। এরশাদ সাহেবও সেখানকার জন্য কাজ করেছেন। যদিও রংপুরের মানুষের জন্য তিনি আরও অনেক কিছু করতে পারতেন।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নিশ্চয়ই রংপুর সিটি নির্বাচনে এরশাদ সাহেব আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দু’দলের সহানুভূতি পেয়েছেন। তাকে সবাই এখন পাশে চায়, যদিও এরশাদ সাহেব এখনো সরকারের সাথেই আছেন।’

অবশ্য আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাদের বক্তব্য মানতে নারাজ জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের। তিনি বলেন, ‘রংপুরে জাতীয় পার্টির উপর এখনো কোনো শক্তি নেই। চেয়ারম্যান স্যার ওখানে এখনো অনেক জনপ্রিয়। আমি নিজে সেখানে নির্বাচন করে দেড় লাখের মতো ভোট পেয়েছিলাম।’

জিএম কাদের বলেন, সরকারি দল সেখানে ক্ষমতা দেখালে বা বাড়াবাড়ি করলে তা তাদের জন্যই খারাপ হতো। আর বিএনপি রংপুরে এখনো উঠে দাঁড়াতে পারেনি বলে মনে করেন তিনি।

তাই জাতীয় পার্টি কোনো ছাড়ে নয়, নিজেদের জনপ্রিয়তায়ই রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জয় পেয়েছে বলে মনে করেন দলের কো-চেয়ারম্যান।

উল্লেখ্য, জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির একটি শক্তিশালী অংশ জাতীয় পার্টিকে কাছে টানতে ভেতর ভেতর দেন দরবার করছে যা বিএনপির কোনো কোনো নেতা স্বীকারও করেছেন।

অন্যদিকে সরকারি দল আওয়ামী লীগও এরশাদকে জোটে রাখতে তাকে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে এরশাদ আগামী নির্বাচনে যে জোটেই যান না কেন সেখানে ন্যূনতম ১০০ আসন তার দলের জন্য চান বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা রয়েছে। পরিবর্তন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ