প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভাঙনের সুর?

তারেক :  মাত্রই একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন শেষ হলো। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও সংসদের বাইরে থাকা দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম দাবি করা দল বিএনপি, দু দলের প্রার্থীই পরাজিত হয়েছে জাতীয় পার্টির কাছে। স্বাভাবিকভাবে নির্বাচন পরবর্তী দিনগুলোতে জাপার জয় আর আওয়ামী লীগ-বিএনপির পরাজয় নিয়ে আলোচনার কথা। কিন্তু এসব কিছু ছাপিয়ে আলোচনার বিষয় বিএনপির মুখপত্র হিসেবে পরিচিত দুই নেতার দুই রকম বক্তব্য।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। কোনো ইস্যুতে বিএনপির অন্যান্য নেতাদের চেয়ে এ দুজনকেই মিডিয়ায় মুখর দেখা যায়। মুখরা দুজন রসিক নির্বাচন নিয়ে দুই রকম বক্তব্য দিয়েছেন। তাই নিয়েই জনমনে বিভ্রান্তি।

বৃহস্পতিবার রসিক নির্বাচনের দিন দুপুর থেকে রিজভী বিএনপির ভাঙা রেকর্ড বাজিয়ে যাচ্ছেন নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। ব্যাপক কারচুপি হয়ে। ওই দিন বিকেলে রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে রিজভী লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, ‘আজ্ঞাবহ ইলেকশন কমিশন নিজেদের ব্যর্থতার কারণে রংপুরে নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে করতে পারেনি। নির্বাচন শুরুর পর থেকে শেষ পর্যন্ত আওয়ামী সন্ত্রাসীদের দৌরাত্ম্য ও কেন্দ্র দখলে সেটিরই বাস্তবতা ফুটে উঠেছে। নির্বাচনে সূক্ষ্ম কারচুপি হয়েছে।’ শুক্রবারও জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন কর্মসূচিতেও রিজভী বলেন, ‘নির্বাচনে কি হয়েছে আমরা জানি। গণমাধ্যমে সবকিছু এসেছে। এরপরও মিথ্যা প্রচার করে সব ঢেকে রাখবেন। আপনি সূক্ষ্ম কারচুপি করাবেন, প্রকাশ্যে আপনি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করবেন, আপনি ইলেকশনগুলো দখল করে নেবেন, তা বন্ধ করতে হবে।’

অথচ ওই দিনই দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁওয়ের কালিবাড়িতে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের কাছে বলেন, ‘সব মিলিয়ে রংপুর সিটি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে। সার্বিকভাবে শান্তিপূর্ণ যে ভোট হয়েছে, তার ফল মেনে নেওয়া উচিত।’

একই দলের মুখপাত্র হিসেবে পরিচিত দুজনের দুই রকমের বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচারের পর থেকেই যারপরনাই বিভ্রান্ত দলের নেতাকর্মী। সাধারণ মানুষেও এ নিয়ে আগ্রহের কমতি নেই। আর রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের প্রশ্ন, তবে কী বিএনপি ভাঙ্গছে? আর এমন বিতর্কের আগুনে ঘি ঢেলে দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, ‘বাজারে গুঞ্জন আছে, তাদের মধ্যে একজন তারেকের লোক, আরেকজন বেগম জিয়ার লোক।’

অবশ্য আজ শনিবার মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মিডিয়ায় বলে বেড়াচ্ছেন, ‘দলে কোনো মতপার্থক্য নেই। দল একদম ইউনাইটেড। খালেদা জিয়া দলের চেয়ারপারসন ও তারেক জিয়া দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান। তাঁদের নেতৃত্বেই ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা সব সময় কাজ করি।’

অবশ্য নিন্দুকেরা বলছেন, ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য গণমাধ্যমে আসার পরপরই বিএনপির হাইকমান্ড থেকে বড় রকমের ঝড় এসে পড়েছে মির্জা ফখরুলেরও পর। ঝড়ে বিধ্বস্ত বিএনপি মহাসচিব এখন পুনর্বাসনে ব্যস্ত।

তবে মির্জা ফখরুলের বক্তব্যে মোটেই আশ্বস্ত হতে পারেননি অনেকে। দলের দুই ধরনের মন্তব্য নিয়ে ধাঁধায় পড়েছে অনেক নেতাকর্মী। কোনদিকে যাবে এ নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে অনেকে। আর রাজনিতক বিশ্লেষকদের প্রশ্ন, তবে কী বিএনপিতে ভাঙনের সুর? এখন ভাঙ্গন না হলেও দলটির চেয়ারপারস বেগম জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলার রায় হতে চলেছে। দণ্ডিত হয়ে বেগম জিয়া কারাগারে গেলে তখন কী হবে বিএনপির। নেতাদের এই ভিন্ন মতামত তখন কে রুখবে?

বাংলা ইনসাইডার

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত