প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে বরিস জনসনের প্রকাশ্য বিতর্ক

কামরুল আহসান : রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে বৈঠক করতে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন শুক্রবার মস্কো গেছেন। গত পাঁচ বছরের মধ্যে কোনো ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই প্রথম রাশিয়া যাওয়া। বরিস জনসন রাশিয়া যাওয়ার আগেই আশঙ্কা করা হচ্ছিল তাদের সাক্ষাত বেশ বিতর্কের জন্ম দেবে। কারণ, যাবার আগেই বরিস বলে গেছেন, ‘ইউক্রেনসহ ইউরোপের রাষ্ট্রগুলোকে অস্থিতিশীল করার জন্য রাশিয়া যেভাবে উঠে পরে লেগেছে তাতে আমাদের সম্পর্ক খুব স্বাভাবিক না। তাদের সাইবার এ্যাটাকের জবাব আমরাও দিতে পারি।’ সত্যিই সংবাদ সম্মেলনে দুজনের লেগে গেল মুখোমুখি, প্রকাশ্যেই শুরু হলো নানা বিতর্ক।

বরিস জনসন আক্রমণাত্মক ভঙিতেই বললেন, আমাদের সম্পর্ক একদম তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। রাশিয়ার সঙ্গে আমাদের স্বাভাবিক ব্যবসার সম্পর্ক নেই। সাইবার এ্যাটাকের মাধ্যমে রাশিয়া যেভাবে ইউরোপকে অস্থিশীল করে তুলছে, চাইলে আমরাও তার উপযুক্ত জবাব দিতে পারি।

সের্গেই ল্যাভরব বরিসকে থামিয়ে বললেন, ‘ব্রিটেনের রাজনীতিতে রুশ হস্তক্ষেপের প্রমাণ নেই কোন। এসব বানানো কথা। এসব কথা জনসম্মুখে আলোচনা করার কিছু নেই, জনাব জনসন। আমরা এসব ব্যক্তিগত পর্যায়ে আলাপ করবো। শুনেছি, আমাদের বিরুদ্ধে আপনাদের অসংখ্য অভিযোগ। আপনি আমাদের বিভেদগুলো নিয়ে প্রকাশ্যেই আলোচনা করতে ভালোবাসেন। আমরা এসব মুখোমুখি বলতেই পছন্দ করি।’

দুই নেতার খোলামেলা আলোচনায় ল্যাভরভ ব্রিটিশ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করলে বরিস সাথে সাথেই উত্তর দিয়েছিলেন, ‘আসলে সফল হয়নি।’

বরিস বলেন, ‘জার্মানি, ডেনমার্ক এবং ফ্রান্সের নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ করতে চাওয়ার ভুরিভুরি প্রমাণ আমাদের কাছে আছে।’
ল্যাভরভ বলেন, ‘যুক্তরাজ্য বিরোধী কোন কর্মকান্ডে রাশিয়া অংশ নেয়ার কোন স্মৃতি আমার নেই। যদিও লন্ডন থেকে কিছু আক্রমণাত্মক বিবৃতি আমাদের শুনতে হয়েছে।’

জবাবে বরিস বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের মধ্যকার সম্পর্ক ভালো পর্যায়ে নেই।

সের্গেইও ল্যাভরভও বরিস জনসনের সঙ্গে একমত হয়ে বলেন, হ্যাঁ, আমাদের সম্পর্ক এখন ভালো নেই। তবে আমরা আলোচনার মাধ্যমে তা ঠিক করবো। বরিস জনসন বলেন, আপনি ঠিকই বলেছেন, জনাব সের্গেই। কিন্তু, এটা এখন আর সহজ হবে না।

বিতর্কে বরিস জনসন ইউক্রেন, ইরান এবং উত্তর কোরিয়া প্রসঙ্গও আনেন। তিনি রাশিয়াকে এই বলে সমালোচানা করেন যে, রাশিয়া দিন দিন যুদ্ধবাজ হয়ে উঠছে। ইউক্রেনসহ পশ্চিম বলকান রাষ্ট্রগুলো দখল করে নিচ্ছে। আর এখন ইরান ও সিরিয়াকে উসকানি দিচ্ছে যুদ্ধের।

পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তারা আবার হাসাহাসি করেন। ল্যাভরভ বলেন, যাই হোক, সবকিছু প্রকাশ্যে আলোচনা হয়ে ভালোই হলো। কোনো কিছুই গোপন থাকা উচিত নয়। ইন্ডিপেন্ডেট

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত