প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘আমি বাঁচলে নামাজ পড়ে দোয়া করমু’

রাজু আহমেদ রমজান, সুনামগঞ্জ: দুঃখের সাগরে ডুবন্তপ্রায় অনাথ ও স্বামী পরিত্যাক্তা নারী অজুফা বেগম (২৫)। খেয়ে না খেয়ে জীবনযুদ্ধ চলে তার। কে জানতো এতোদিনে তার শরীরে হানা দিয়েছে টিবি, পাইলসসহ নারী সংক্রান্ত জটিল রোগ। ইতোমধ্যে স্থানীয় রেস্টুরেন্টে শ্রম দেয়া ছোটভাই বোনের চিকিৎসাকাজে সুনামগঞ্জ,ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়ে সহায়-সম্বল খুইয়ে এখন নি:স্বপ্রায়। গত ৬ মাস ধরে অর্থের অভাবে বিনা চিকিৎসায় প্রতিনিয়ত মৃত্যুর প্রহর গুনছেন এই অবলা নারী। অথচ, মাত্র ৩০ হাজার টাকা হলেই বেঁচে যাবে অনাথ এই নারীর জীবন।

অনাথ ও স্বামী পরিত্যাক্তা অজুফা বেগমের বাড়ি সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামে। ওই গ্রামের মৃত আব্দুল হামিদের কন্যা তিনি।

শনিবার সকালে অজুফার সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। সাংবাদিক পরিচয় জেনে হাউমাউ করে অঝর কান্না করেন এই নারী। তার ভাষায়-‘ ডাক্তার কইছে মাত্র ৩০ হাজার টেকা অইলে আমি বাচমু। যে আমারে বাঁচানোর চেষ্ঠা করব নামাজ পড়ে আমি দুইহাত তুলে দোয়া করমু। আল্লাহর আরশ খুশি হবে’। অসহায় এই নারীর সরকারসহ দেশের হৃদয়বানদের কাছে তার জীবনভিক্ষা চেয়েছেন।

জানা গেছে, প্রায় বছরখানেক আগে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন অজুফা। স্থানীয় তাহিরপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিলে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে এক্সরে সহ বিভিন্ন পরীক্ষা করাতে জেলা সদরে পাঠান। সুনামগঞ্জ মেডিকেয়ার হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে করা পরীক্ষায় ধরা পড়ে টিবি, পাইলসসহ নারী সংক্রান্ত জটিল রোগ। তারপর থেকে ময়মনসিংহ সহ বিভিন্ন স্থানে চলে সাধ্যমতো চিকিৎসা। গত ৬ মাস আগে ফের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মুহাম্মদ মহসিন এর কাছে গেলে তিনি চিকিৎসা দেন। এই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের ধারণা- ৩০ হাজার টাকা হলে অজুফার এই দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসায় সফলতা আসবে।

এ প্রসঙ্গে স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল কালাম ও হাজেরা বেগম বলেন, অজুফা বেগমের মতো দুঃখী মানুষ এলাকায় নাই। শুনেছি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারগণ বলেছেন মাত্র ৩০ হাজার টাকা হলে অজুফা বেগম আরোগ্যলাভ করবে। দেশের হৃদয়বানদের সহায়তা পেলে হয়তো সুস্থ হয়ে যাবে অনাথ এই অসহায় নারী।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত