প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কাতালোনিয়ার স্বাধীনতার ভবিষ্যত এখনো অস্পষ্ট

জুয়াইরিয়া ফৌজিয়া : বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) কাতালোনিয়ায় হওয়া মধ্যবর্তী নির্বাচনে স্বাধীনতাকামী জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও এখনো নিশ্চিত না কাতালোনিয়ার ভবিষ্যৎ কী হতে যাচ্ছে। কাতালোন অঞ্চলের ১৩৫টি আসনের মধ্যে ৭০টি আসন পেয়েছে স্বাধীনতার পক্ষের তিনটি দল এবং তাদের সামনে সুযোগ থাকছে একজোট হয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার। এই রকম অবস্থায় কাতালোনিয়ার স্বাধীনতার প্রশ্নের ভবিষ্যৎ কী?

এই প্রসঙ্গে বিবিসি বাংলার সাক্ষাৎকারে বার্সেলোনার সাংবাদিক মিরোন নাজমুল বলেন, এখানে নির্বাচনের ফলাফলটা আসলে জটিলতা এনে দিয়েছে। ১৩৫টি আসনের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার জন্য যে ৬৮টি আসন পাওয়া জরুরি সেটা আসলে কোনো দলই পায়নি। কিন্তু এখন যদি কোয়ালিশনের প্রশ্ন আসে তাহলে স্বাধীনতাপন্থী ৩টি দল, তারা ৭০টি আসন পেয়েছে এবং এটা তাদের সরকার গঠনের জন্য যথেষ্ট। এখন তাদের সরকার গঠনে যেই সমস্যা হবে প্রথমত, তাদের যে নেতা কার্লস পুজদেমন গ্রেফতার এড়ানোর জন্য বেলজিয়ামে অবস্থান করছেন এবং তাদের যে ভাইস প্রেসিডেন্ট ঝুমকি রাজ সেও এখন কারাবন্দী। তাই তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়ায় তারাও এখন কীভাবে সরকারের সাথে আলোচনা করে সরকার গঠন করবে এই নিয়েও জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।

আসন ভাগাভাগির সমীকরণ তাহলে এখন কী দাঁড়াচ্ছে এবং কোয়ালিশন সরকার গঠনে কোন দল কার সাথে যেতে পারে?
এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সিটিজেন পার্টি কিন্তু স্বাধীনতাপন্থী দল না, এটা একটি র্টানিং পয়েন্ট। এখন যে ৭টি দলের মধ্যে নির্বাচন হয়েছে তাদের মধ্যে এটি এমন একটি দল স্বাধীনতা বিরোধী হয়েও সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছে। ১ সপ্তাহ সময়, তার মধ্যে সংলাপের মাধ্যমে তারা কোয়ালিশনের গঠন করতে চাচ্ছে। এখন স্বাধীনতাপন্থীর মেরুতে তারা যেহেতু ৩টি দলের মধ্যে কোয়ালিশন করে তাহলে তো তারা ৭০টি সিট পেয়ে গিয়েছে এবং তারা এখন চাইলে সরকার গঠন করতে পারে। কিন্তু তারা যদি সরকার গঠন করতে চায়, সরকার গঠন করতে পারবে না কারণ স্বাধীনতার প্রশ্নকে সামনে রেখে তারা সরকার গঠন করতে পারবে না এবং সংবিধান অনুযায়ী নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে তাদের।

অক্টোবর নির্বাচনে প্রায় ৯০ শতাংশ কাতালোন অধিবাসী স্বাধীনতার পক্ষে ভোট দিয়েছিল তবে সেই নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল সেখানকার অর্ধেকেরও কম মানুষ তো অল্প সময়ের ব্যবধানে দুই নির্বাচনে এই রকম পার্থক্য হওয়ার কারণ কী?
জবাবে তিনি বলেন,বৃহস্পতিবারের (২১ ডিসেম্বর) নির্বাচনে ৮২ শতাংশ মানুষ অংশগ্রহণ করেছিল। এই নির্বাচনে কিন্তু ২০১৫ সালের নির্বাচনের থেকে ৫ শতাংশ মানুষ বেশি অংশগ্রহণ করে। যখন হ্যা ও না ভোট হয়েছিল কাতালোনিয়ার স্বাধীনার প্রশ্নে তখন কিন্তু এর অর্ধেকেরও ভোট দেয়নি। এখানে আসলে কাতালোন জাতিই স্বাধীনতার প্রশ্নে দ্বিধা বিভক্ত। কারণ একপক্ষ স্বাধীনতা ছাড়া কিছুই চাইছে না আর পক্ষ চাইছে আমরা স্পেনের সাথে থাকি কিন্তু আমাদের স্বায়ত্তশাসনে যেন কোনো ব্যাঘাত না ঘটে।

কাতালোবাসীদের মধ্যে যে দ্বিধাবিভক্তি এটা কারণ কী?

জবাবে তিনি বলেন, সিটিজেন পার্টি দলটি কিন্তু কাতালোনিয়ার স্বাধীনতামুক্তি দল না কিন্তু এই দলটি আবার নির্বাচনের জন্য যে মনোগ্রামটা ব্যবহার করা হচ্ছে সেই মনোগ্রামটা হচ্ছে স্পেনের পতাকা, কাতালোনিয়ার পতাকা এবং ইউরোপিও ইউনিয়নের পতাকা, এই ৩টি পতাকা নিয়ে তারা মনোগ্রামটা করেছে এটাতে আসলে বুঝাচ্ছে কাতালোনিয়া স্পেনের মধ্যেই থাকুক। এই থিমটাকে সামনে রেখে নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী দল না হয়েও কিন্তু তারা ৩৭টি আসন পেয়ে একটি সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে জয় লাভ করেছে। আর কার্লেস পুজদেমন তার যে দল তার থেকেও ৫ আসন পেয়ে জয় লাভ করেছে। মানুষ চাচ্ছে না স্বাধীনতার জটিলতা এনে এখানে স্পেনের অর্থনীতিতে এবং জাতীয় পর্যায়ে কোনো বিপর্যয় আসুক। তারা মনে করেছে এটি স্পেনের জন্যও শুভ হবে না কাতালোনিয়ার জন্যও শুভ হবে না।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত