প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিশ্বে শান্তির বার্তাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে

মে. জে. (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম : ১২৮টি দেশ জেরুজালেম প্রসঙ্গে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। ফিলিস্তিনের রাজধানী জেরুজালেম, এ কথাটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত গত পাঁচ দশক ধরে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে শান্তি প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত, গত ১৯৭০ এর দশক থেকে। বিশেষত ১৯৭৩ সালের ইজরায়েল বনাম আরব দেশগুলোর যুদ্ধের পর থেকে। সেখানেও আলোচনায় ছিল প্যালেস্টাইনের রাজধানী জেরুজালেম। কোনো কোনো আন্তর্জাতিক মহল, কোনো কোনো দেশ, কোনো কোনো শান্তিবাদী ব্যক্তি ইতোপূর্বে প্রস্তাব দিয়েছিলেন জেরুজালেমকে বহুমাত্রিক রাজধানী, বহু দেশের রাজধানী করা যেতে পারে কি-না। সকল দেশের অংশ গ্রহণে এই রাষ্ট্রটি চলবে। রাজধানী করার পক্ষে আন্তর্জাতিক মহলের আগ্রহ ছিল। জেরুজালেম যেহেতু দ্বীন ইসলাম তথা মুসলিম উম্মাহর নিকট অতি পবিত্র নগরী। খ্রিস্ট ধর্মের অনুসারীদের নিকট অতি পবিত্র নগরী, ইহুদীদের জন্য তীর্থস্থান। এই তিন ধর্মের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে জেরুজালেম নামক শহরের ব্যবস্থা করা হোক, প্রত্যেকেই যেন মনের আগ্রহ নিয়ে রেওয়াজ অনুযায়ী সেখানে ভ্রমণ করতে পারে। সেই শহরের পবিত্রতা ধারণ করতে পারে। আমেরিকা সেখানে সম্মত ছিল।

কিন্তু এখন থেকে আনুমানিক ১৫ মাস আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইহুদীদের ভোট পাওয়ার জন্য বলেছিলেন যে, ‘আমি যদি প্রেসিডেন্ট হই, তাহলে জেরুজালেমকে ইজরায়েলের রাজধানী বানিয়ে দেব।’ ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই পদক্ষেপটি আত্মঘাতীমূলক, শান্তি প্রক্রিয়া বিনষ্টকারী, আন্তর্জাতিক মহলের সংহতি বিনষ্টকারী। প্যালেস্টাইন এবং ইজরায়েলের মধ্যে আরও যুদ্ধ সূচনা করার জন্য উৎসাহব্যঞ্জক। আন্তর্জাতিক মহল যথার্থভাবেই এর বিরোধীতা করেছেন। আমিও একজন ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে, আন্তর্জাতিক বিশ্বে শান্তিকামী মানুষ হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই পদক্ষেপটির বিরোধীতা করি।

আমি বিনীতভাবে একটি নিবেদন রাখতে চাই, ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ মানে কিন্তু আমেরিকার শত ভাগ মানুষের মতামত নয়। ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতটি আমেরিকাতেও সর্মথন পায় নি। যেহেতু তাদের সরকার পদ্ধতিতে প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতা আছে, সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প এই কাজটি করেছেন। আমি প্রথমেই নিন্দা করব ডোনাল্ড ট্রাম্পের অথবা নিন্দা করব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শাসন ব্যবস্থার, যেখানে তাকে প্রতিহত করার বা নিবৃত্ত করার সুযোগ নেই। আমার দৃঢ় বিশ্বাস আন্তর্জাতিক মহলের চাপের মুখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি সংশোধনমূলক অবস্থান গ্রহণ করবে। আর যদি না করে আমি কামনা করব আন্তর্জাতিক মহল এবং মুসলমানদের সংস্থা সকলেই যেন নিজেদের মধ্যে সংহতি বজায় রাখে এবং যে কোনো শান্তিপূর্ণ নিয়মে চাপের মুখে, লবিংয়ের মাধ্যমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যে সিদ্ধান্ত তা বয়কট করে, পরিত্যাগ করে, অকার্যকর করে বিশ্বে শান্তির বার্তাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

পরিচিতি : চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি
মতামত গ্রহণ : সানিম আহমেদ
সম্পাদনা : মোহাম্মদ আবদুল অদুদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত