প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

হিজাবি কন্যার সুযোগী রাজনীতি!

সাইফুর সাগর : আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অনেক নতুন মুখ, নমিনেশন পাওয়ার ভরসায় হুলিয়া পরিবর্তন করা শুরু করেছে, চলমান। আমাদের সবারই জানা আছে, বাংলার মানুষের সবশেষ বিশ্বাস ধর্মেই, ইনফেক্ট পৃথিবীর সব জাতিতেই এমন চেতনা বিদ্যমান। কিন্তু ধর্মকে রাজনীতিতে ব্যবহারের চল সম্প্রতি বেড়েই চলেছে. যাদেরকে সারাজীবন খোলামেলা চরিত্রের ও তথাকথিত নারীবাদী স্লোগানে খুল্লাম খুল্লা হয়ে আন্দোলন করতে দেখা গেছে, উপরের সামান্য গ্রিন সিগনালে রাতারাতি হুলিয়া পরিবর্তন করে মানববাদী হওয়ার চেষ্টায় অবিরত হয়ে উঠছে। যারা নমিনেশনের লোভে নিজের চরিত্র পরিবর্তনে দ্বিধা করেনা, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর তাদের চেহেরার আমূল পরিবর্তন আসাটা খুব স্বাভাবিক।

উদ্দেশ্য হাসিল না হলে অথবা নোমিনেশনস না পেলে তাদের হিজাব কোথায় যেন উড়ে চলে যায়। স্লো মোশনে নিচের দিকে নামতে থাকে হিজাব, একসময় এটা মাথা থেকে নেমে গলায় ঝুলতে থাকে। মানুষ পরিবর্তনশীল হওয়াটা খুব স্বাভাবিক, সব জীবের মাঝেই পরিবর্তনশীলতা বিদ্যমান। খটকাটা সেখানেই, যখন লোভের কারণে সাময়িক মুখোশ পড়া ও মানুষের অনুভূতির সাথে ছলনা করা। আমাদের সহজ সরল প্রজাতির বাংলাদেশী মানুষরা এদের ফাঁদে পরে আবেগাপ্লুত হয়ে মূল্যবান ভোটাধিকার বিফল পাত্রে প্রদান করে দেয়। মেধাহীন, যোগ্যতাহীন এসব হিজাব এবং ঘোমটাওয়ালীরা সংসদে গিয়ে না পারে কথা কথা বলতে, না পারে কথা বুঝতে।

আমাদের ঘামে ঝরা অর্থে পরিচালিত মূল্যবান সংসদীয় আসনে আরামে বসে কেউ গান গায় আর কেউ গালাগালি করে। আজব ব্যাপার হলো, আমাদের পুরুষ সাংসদরা আবার এসব গালাগালি শুনে মুখ টিপে টিপে হাসে, যে যত বেশি এবং আধুনিক গালি দিতে পারে, তার মূল্যায়ন সবচে বেশি। আমাদের দুর্ভাগা কপাল, আমরা মুখ ও মুখোশ চিনতে পারিনা. আমাদের বিশ্বাস এখন মুখোশের প্রতি বেশি, মুখ দেখার সুযোগ নেই বললেই চলে। এসব মুখোশের আড়ালেই লুকিয়ে থাকে ভয়ঙ্কর মুখ, যা দেখার সুযোগ সবার হয় না। এরা সমাজ ও সাধারণ মানুষের জন্য দেখায় মুখোশ, আর উপরস্তরের মানুষের জন্য দেখায় মুখ। আমরাও অপারগ ও অসহায়, এই সমাজে সত্যিকার মুখের কদর নেই।

উপরস্তরের নেতাদের কাছে সঠিক নারী রাজনীতিকের মূল্যায়ন নেই। অনেক সঠিক নারী রাজনীতিবিদরা আটকে থাকে পুরুষ রাজনীতিকের কৃত্তিম শর্তের বেড়াজালে। যে বেড়াজাল টপকাতে হলে, কঠিন সব পথ পাড়ি দিতে হয়, যা সকল নারীরা পারেনা। নারী নেত্রীরা সিনিয়র নেতাদের পছন্দমতো এবং কথা মতো না চললে হয়ে যায় বিরাগভাজন. অনেক নারী নেত্রীরা আছেন যারা, অপছন্দ হওয়া সত্ত্বেও, দিনকেদিন অন্যায় সব দাবী মুখ বুঝে সহ্য করে যাচ্ছেন। অনেক মেধাবী নারীরা আছেন, এসব সহ্য করতে না পেরে রাজনীতি ছেড়ে দিয়েছেন। অনেকেই আছেন নিজের শক্ত অবস্থান এবং সম্ভ্রমকে ধরে রেখে চলেছেন প্রতিনিয়ত, হয়তো তাদের সংখ্যা খুব কম। এভাবে আর কতো ?? মুখোশের আড়ালে নকল মুখগুলিকে প্রকাশ করিয়ে দিতে হবে, আর প্রতারিত হতে চাইনা আমরা। আমাদের এখন জাগবার সময় এসেছে, দুর্বল নারীত্বের সুযোগ নিয়ে রাজনীতিকে বিনষ্ট করার পথ রুখে দেবার ।

মেধাবী ও পরিশ্রমী নারী রাজনীতিবিদদের সামনে টেনে আনার। আমাদের পাশে দাঁড় করিয়ে বুক ফুলিয়ে কথা বলবার সুযোগ করে দেবার। সময় এসেছে সঠিক নারীদের সঠিক রাজনীতি করবার প্লাটফর্ম তৈরী করে দেবার। মেঘে মেঘে অনেক বেলা হয়ে গেলো, সামনে হয় সূর্যমুখী নয়তো অন্ধকারমুখী হতে হবে। সঠিক পথকে বেছে নেবার দায়িত্ব এখন সাধারণ মানুষের উপর, রাজনীতিবিদদের হাতে নয়।

লেখক : সাংবাদিক, কলামিস্ট
সম্পাদনা : খন্দকার আলমগীর হোসাইন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত