প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বাড়ছে আর্সেনিকোসিস রোগী

ডেস্ক রিপোর্ট : দাগনভূঞার ৮ ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ৪ লাখ মানুষ আর্সেনিকের ভয়াল থাবায় ঝুঁকিতে দিন কাটাচ্ছে।

উপজেলায় নিরাপদ পানির ব্যবস্থা না থাকায় আর্সেনিক যুক্ত পানি পান করছে সব স্তরের মানুষ। উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস সূত্র জানায়, দাগনভূঞা উপজেলায় প্রায় ৪ লাখ মানুষের বসতি। এখানে অগভীর নলকূপের সংখ্যা ২৪ হাজার ১শ’ ৭৩টি। সরকারিভাবে স্থাপন অগভীর নলকূপের সংখ্যা ২ হাজার ৪৫২টি ও গভীর নলকূপের সংখ্যা ৪৩৫টি। গভীর নলকূপের মধ্যে সহনীয় মাত্রায় আর্সেনিক থাকলেও অগভীর নলকূপের মধ্যে ৮০ ভাগ নলকূপ মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক রয়েছে। মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক নিয়েই দৈনন্দিন জীবনযাপন করছে উপজেলাবাসী।

পরিসংখ্যানে জানা যায়, ২০০৭ সালে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রায় ২০০ লোক আর্সেনিকে আক্রান্ত হয়। ওয়াটার সাপ্লাই প্রকল্পের আওতায় সহযোগী সংস্থা এমইউএস ও এনডিএসের জরিপে এখানে আর্সেনিকের যে মাত্রা পাওয়া গিয়েছে তা বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে বহুগুণ বেশি। অসহনীয় আর্সেনিকযুক্ত নলকূপের মাথায় লাল রং লাগিয়ে পানি পান নিষিদ্ধ করলেও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় তেমন লাভ হচ্ছে না। এ উপজেলায় আর্সেনিকের ভয়াবহতা থাকার পরও সংশ্লিষ্ট বিভাগের আর্সেনিক বিস্তার রোধে আজও কোনো প্রশংসিত উদ্যোগ নেয়া হয়নি বলে জানা যায়। বাধ্য হয়েই আর্সেনিক প্রভাবযুক্ত এলাকায়ও লাল রংয়ের নলকূপের বিষাক্ত পানি পান করছে। ফলে দাগনভূঞায় আর্সেনিকের প্রভাব দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। বর্তমানে উপজেলার আর্সেনিকের মাত্রা ০.১০ মি. গ্রাম। উপজেলার ইয়াকুবপুর ইউনিয়নের বাদামতলী সরকারি আবাসন প্রকল্পে ৮২৫ ফুট গভীর নলকূপ ৩টিতে এ মাত্রা ধরা পড়েছে।

গভীর নলকূপ ছাড়াও আবাসন প্রকল্পে অগভীর নলকূপ রয়েছে ৬টি। তার মধ্যে ৩টিতে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক থাকায় লাল রং দেয়া হয়েছে। পানির প্রয়োজনীয়তায় বাধ্য হয়ে এখানকার ৬০টি পরিবারের বিভিন্ন বয়সের মানুষ বিপজ্জনক নলকূপের পানি পান করছে। একই ইউনিয়নের চন্ডীপুর গ্রামের ওলি উল্যাহর বাড়িতে মাত্রাতিরিক্ত আর্সেনিক শনাক্ত করা হয়েছিল। আর্সেনিকমুক্ত পানি না থাকায় এ পানি পান করে একই পরিবারের ৪ জন আর্সেনিকোসিস রোগে আক্রান্ত হয়েছিল। গৃহিণী সাফিয়া খাতুন ও তার মেয়েসহ ৪ জন এ রোগে আক্রান্ত হয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে খসখসে কালো দাগ দেখা দিলেও চিকিৎসা হচ্ছে না। দূরের গ্রাম থেকে পানি এনে পান করার পরও রোগ সারছে না বলে তারা জানান।

মাতুভূঞা ইউনিয়নের মাছিমপুর গ্রামের এক বাড়িতেই আর্সেনিক রোগী ধরা পড়েছে ১০ জন। বাড়ির আবুল হোসেনের স্ত্রী মাফিয়া আক্তার, তার মেয়ে বিবি মরিয়ম আর্সেনিকোসিস রোগে আক্রান্ত। একই বাড়ীর আবুল কাশেমের মেয়ে রিনা আক্তার, পেয়ার আহমদের স্ত্রী আলেয়া বেগমও এ রোগে আক্রান্ত হয়েছিল। এ রোগে আক্রান্তরা ক্যান্সার রোগে ঝুঁকি বেশি এ বদ্ধমূল ধারণায় তারা হতাশাগ্রস্ত। উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিস জানায়, ২০০৩ সালে আর্সেনিক রোগী শনাক্ত করা হয় ১০০ জন। বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০০ জনের অধিক। উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর দফতর আরও জানায়, ০.০৫ মিলিগ্রামের অধিক আর্সেনিক যেসব নলকূপের পানিতে রয়েছে আমরা শুধু ওইসব নলকূপকেই আর্সেনিকযুক্ত বলছি। প্রকৃতপক্ষে অন্তত ৮০ শতাংশ নলকূপেই আর্সেনিক রয়েছে।

সূত্রটি জানিয়েছে, এ উপজেলায় সরকারি অগভীর নলকূপ রয়েছে ২ হাজার ৫৩টি এবং ব্যক্তিগত নলকূপের সংখ্যা প্রায় ১২ হাজার। এসব নলকূপের পানি ব্যক্তিগত ও সরকারিভাবে পরীক্ষা করে অন্তত ৩০ শতাংশ নলকূপে আর্সেনিক পাওয়া গেছে। সে হিসেবে দাগনভূঞার অন্তত ৩ হাজার নলকূপে আর্সেনিক বিষ রয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবুল খায়ের মিয়াজী বলেন, রোগীর গায়ে কালো দাগ বা চামড়ার রং কালো, হাত-পায়ের তালু শক্ত ও খসখসে হওয়া। হাত-পায়ে ছোট শক্ত গুটি দেখা, হাত-পা ফুলে যাওয়া; ফেটে ক্ষত সৃষ্টি হওয়া। এছাড়া গায়ের চামড়া মোটা হয়ে যাওয়া। বমি বমি ভাব এবং বমি হওয়া। পাতলা পায়খানা, খাওয়ায় অরুচি, রক্ত আমাশয়; মুখে ঘা ইত্যাদি আর্সেনিকোসিস রোগের লক্ষণ। উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আবু লায়েছ বলেন, এ উপজেলার প্রায় প্রতিটি নলকূপেই আর্সেনিক রয়েছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত