প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইটভাটায় পুড়ছে বনের কাঠ

ডেস্ক রিপোর্ট : খাগড়াছড়ির পানছড়িতে বড় নালকাটা গ্রাম। পাহাড় এবং বনে ঘেরা একটি সবুজ জনপথ। চারপাশে ধানসহ নানা রকম সবজির ক্ষেত। চেঙ্গী নদীর তীরে এসব উর্বর জমি সাধারণত তিন ফসলি। একসময় ফসল উৎপাদন হলেও বর্তমানে এইসব ফসলি জমি বর্তমানে ইটভাটার দখলে। ইটভাটার ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন আশপাশের তিন গ্রাম। পানছড়ি-খাগড়াছড়ি প্রধান সড়কের লাগোয়া এসব ইটভাটায় প্রকাশ্যে আইন লঙ্ঘন করলেও প্রশাসন নিশ্চুপ। প্রশাসন নীরব ভূমিকার কারণে ইটভাটার মালিকরা আইন ভাঙার প্রতিযোগিতায় নেমেছে। ইট প্রস্তুত ও স্থাপন ভাটা নীতিমালা না মানায় পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, খাগড়াছড়ি সদর থেকে প্রায় ১৯ কিলোমিটার দূরে সড়কের পাশে লাগোয়া নলকাটায় দুটো ইটভাটায় ইট প্রস্তুতের মহাযজ্ঞ চলছে। প্রায় অর্ধশতাধিক শ্রমিক ২ ইটভাটায় কাজ করছে। আইন অমান্য করে ইটভাটায় চলছে বনের কাঠ পোড়ানের আয়োজন। কয়লা দিয়ে ইটভাটা পোড়ানোর কথা থাকলেও আইনের তোয়াক্কা করছে না ইটভাটার মালিকরা। বন থেকে শত শত কাঠ কেটে ইটভাটার পাশেই তা স্তূপ করা হচ্ছে। কাঠবাহী ট্রাকের চালক ইকবাল বলেন, ‘সাধারণত চুক্তিভিত্তিক বাগান থেকে এসব কাঠ কেনা হয়। কাঠের সংখ্যা বেশি হলে বাগানের দামও বেশি হয়। প্রতিটি বাগান ৫০-৬০ হাজার টাকায় কেনা হয়। প্রতিদিন তিনটা গাড়িতে করে কাঠ বহন করে ফিল্ডে (ইটভাট) নিয়ে যায়। প্রতিটি গাড়ি এক ট্রিপে ৮০ থেকে ৯০ মণ কাঠ পরিবহন করে। প্রতিদিন প্রায় ৮০০-১০০০ মণ কাঠ লাগে ইটভাটায়। বনের কাঠসহ জ্বালানি কাঠ ইটভাটায় ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও এখানে প্রকাশ্যেই ইট পুড়ছে ইটভাটায়। সরেজমিন দেখা যায়, ইটভাটায় গামারি, বাধি, লালি, কনকসহ নানা রকমের কাঠ পোড়ানো হচ্ছে।

এছাড়া ইটভাটায় ব্যবহারের লক্ষ্যে পাহাড়, টিলা এবং কৃষি জমিতে মাটি কাটা নিষেধ থাকলেও এখানে তা মানা হচ্ছে না। ববং কৃষি জমিতেই ইটভাটা স্থাপন করে দেদার কাটছে পাহাড় ও কৃষি জমির মাটি। মাটিবাহী ট্রাক চালক মো. মনির বলেন, ‘প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাটি কাটা চলে। মালিকের নির্দেশে মাটি কাটার কাজ চলছে। প্রতি গাড়ি মাটির দাম পড়ে ৩০০ টাকা। গত বর্ষায় পাহাড় ধসের মতো ঘটনা ঘটলে পাহাড় কাটা বন্ধ হচ্ছে না। ইট প্রস্তুত ও ভাটা নিয়ন্ত্রণ আইনে কতিপয় স্থানে ইটভাটা স্থাপন নিষিদ্ধ ও নিয়ন্ত্রণ করার কথা থাকলেও তা মানার কেউ নেই। তার ওপর প্রশাসনের অলিখিত অনুমতি যেখানে-সেখানে ইটভাটা স্থাপন করছে মালিকেরা। আবাসিক,সংরক্ষিত ও কৃষি জমিতে ইটভাটা স্থাপন নিষিদ্ধ থাকলেও সেই আইনও মানছে না কেউ। বরং বছরের পর বছর অবৈধ ইট এভাবে চলে আসলেই নির্বিকার প্রশাসন। প্রশাসনের নাকের ডগায় এভাবে প্রকাশ্য আইন অমান্য করছে ইটভাটা মালিকরা।

পানছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবুল হাশেম বলেন, তাদের বারবার নোটিশ দেয়া হয়েছে। কয়লা দিয়ে ইট পোড়ানোর কথা থাকলেও তারা তা মানছে না। তবে দীর্ঘদিন ধরে এই অবস্থা চলার কারণে হঠাৎ কোনো ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। তবে আইন না মানলে শিগগির ইটভাটা মালিকদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।

খাগড়াছড়ি পরিবেশ সুরক্ষা আন্দোলনে সভাপতি প্রদীপ চৌধুরী বলেন, ‘বিদ্যামান আইনে কাঠ পোড়ানো নিষিদ্ধ থাকলেও ইটভাটা মালিকরা তা মানছে না। মালিকরা প্রকাশ্যে পরিবেশ বিপর্যয় ঘটাচ্ছে। সাম্প্রতিক পার্বত্য অঞ্চলে পাহাড় ধসের বড় কারণ পরিবেশ বিপর্যয়। পাহাড় কাটা, বনের কাঠ নিধনের কারণে ক্রমাগতভাবে পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে। পরিবেশ বিপর্যয়কারী ইটভাটা মালিকদের বিরুদ্ধে অভিলম্বে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তিনি।
যুগান্তর।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত