প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শাহজালালের নিরাপত্তায় সাতশ’ সিসি টিভি

ডেস্ক রিপোর্ট : শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও চোরাচালান রোধে বসানো হচ্ছে আরও ৫০০ সিটি টিভি। জাপানের সাহায্য সংস্থা জাপান ইন্টারন্যাশনাল কর্পোরেশন এজেন্সির (জাইকা) অর্থায়নে এ ৫০০ সিসি টিভি বসানো হবে। বর্তমানে বিশাল বিমানবন্দর এলাকায় মাত্র ২০০টি সিসি টিভি সচল আছে। ৭০০ সিসি টিভি একসঙ্গে সচল হলে এক পয়েন্টে বসে পুরো বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে।

বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন কাজী ইকবাল করিম  বলেন, পুরো বিমানবন্দর সিসি টিভির আওতায় আনা হচ্ছে। এজন্য নতুন করে ৫০০ সিসি টিভি বসানো হচ্ছে। আগামী এক মাসের মধ্যে সাড়ে ৩০০ স্থাপনের কাজ শেষ হবে। পর্যায়ক্রমে সবগুলো বসানো হবে। তার মতে, এটা সম্পন্ন হলে গোটা বিমানবন্দর সিসি টিভির আওতায় চলে আসবে।

জানা গেছে বর্তমানে শাহজালাল বিমানবন্দরের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট সিসি টিভির আওতার বাইরে আছে। মূল টার্মিনাল ভবনসহ কার্গো ও হ্যাঙ্গার গেটে এখন মাত্র ২২০টি সিসি টিভি সক্রিয়। গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় গোপন ক্যামেরা না থাকায় নানা ধরনের সমস্যা হচ্ছে। গত মাসে টার্মিনাল ভবনের চারতলায় বিমানের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা রুম থেকে পৌনে দুই কেজি সোনা উদ্ধারের ঘটনা তদন্তের জন্য সিসি টিভি খোঁজা হয়। কিন্তু তদন্তকারীদের জানানো হয়, রুমটি ছিল সিসি টিভির আওতার বাইরে। শুধু তাই নয়, এয়ারপোর্টের আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর পয়েন্ট রয়েছে যেখানে সিসি টিভি নেই। এ কারণেই শাহজালাল থেকে চোরাচালান রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না।

এদিকে বিশ্বের উন্নত বিমানবন্দরগুলোর আদলে শাহজালালকেও ডিজিটাল বিউটিফিকেশনের আওতায় আনা হয়েছে। ইতিমধ্যে শাহজালালের আগমন ও বহির্গমন এলাকায় যুক্ত হয়েছে নতুন নতুন এলইডি ভিডিও স্ক্রিন ও ডিজিটাল টিভির মতো প্রযুক্তি। অত্যাধুনিক বিজ্ঞাপন প্রচার মাধ্যম এসব টিভিগুলো ইতিমধ্যেই দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক যাত্রীদের নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছে বলে জানান বন্দর সংশ্লিষ্টরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিমানবন্দরের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা  বলেন, এলইডি ভিডিও স্ক্রিন ও ডিজিটাল টিভি শুধু বিজ্ঞাপনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। টিভিগুলো যাত্রীর নিরাপত্তাসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও দিচ্ছে। পাশাপাশি সরকারও এখান থেকে বড় ধরনের আয় করছে। সিএএবির হিসাব শাখার একটি সূত্র জানায়, এলইডি ভিডিও স্ক্রিন ও ডিজিটাল টিভি, বিউটিফিকেশন, দোকান, ডিউটিফ্রি সপ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে ভাড়া দিয়ে সরকার বছরে ১০০ থেকে ২০০ কোটি টাকা আয় করতে পারবে। এ প্রসঙ্গে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, এয়ার ভাইস মার্শাল এম নাঈম হাসান বলেন, বিমানবন্দরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বোর্ডিং করিডোরে স্থাপিত বড় টিভি স্ক্রিন থেকে ২৫ নভেম্বর বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ দিনব্যাপী সম্প্রচারিত হয়। এটি দেশীয় যাত্রীদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের যাত্রীরাও প্রত্যক্ষ করেছেন।
পরিচালক শাহজালাল যুগান্তরকে বলেন, ডিজিটাল বিউটিফিকেশনের কাজ শেষ। এখন গোটা বিমানবন্দরকে সিসি টিভির আওতায় আনার কাজ শুরু হয়েছে। এটি শেষ হলে এক পয়েন্টে বসে পুরো বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও চোরাচালান নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে।
অভিযোগ আছে, এখনও প্রতিনিয়ত চোরাচালানের মাল ধরা পড়ছে আগমনী হল ও গ্রিন চ্যানেল এরিয়ায়। সোনা ছাড়াও আসছে মাদক, সিগারেট, ওষুধ ও অন্যান্য বস্তু। ভিআইপি গেট, ২১ নং গেট ও ৮ নং হ্যাঙ্গার গেট দিয়ে প্রতিদিন চোরাচালান হচ্ছে কিন্তু তা কারও নজরে আসছে না। সম্প্রতি একটি গোয়েন্দা সংস্থাও শাহজালালের এ তিনটা গেট সম্পর্কে অসন্তোষ প্রকাশ করে। বিমানবন্দরের ভেতরের এয়ারসাইট ও ট্যাক্সিওয়ে থেকে নিয়মিত অফিসিয়াল গাড়ি বের হচ্ছে। তাদের গাড়িতে কে কি নিয়ে বের হচ্ছে সেটা কেউ বলতে পারছে না। এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ আশিষ রায় চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, বিমানবন্দরের ভেতর থেকে এভাবে হরহামেশা গাড়ি ও যানবাহন বের হওয়ার নিয়ম বিশ্বের কোনো বিমানবন্দরে নেই।
ভিআইপি গেটের নিরাপত্তা ত্রুটি সম্পর্কে শাহজালাল বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন কাজী ইকবাল করিম বলেন, কোনো ভিআইপি যখন সফরসঙ্গী নিয়ে ভিআইপি চেকইন পয়েন্ট দিয়ে বের হয়ে আসেন তখন তার হ্যান্ড লাগেজ চেক বা স্ক্যান করার কোনো সুযোগ থাকছে না। অথচ এ কর্নারেই রয়েছে একটি স্ক্যানার। একই অবস্থা হ্যাঙ্গার গেটে। সেখানে বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার লোকজন যৌথভাবে দাঁড়িয়ে ডিউটি করে। তারা সব সময় সব গাড়ি চেকও করতে পারে না। যদি হিউম্যান স্ক্যানার ও ভেহিক্যাল স্ক্যানার থাকত তাহলে এ নিয়ে কেউ কোনো প্রশ্ন করার সুযোগ পেত না। তিনি বলেন, এসব গেটের পুরোটাই এখন সিসি টিভির আওতায় চলে আসবে। পাশাপাশি জাইকা এখানে দুটো হিউম্যান স্ক্যানার স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। তখন আর এ সমস্যা থাকবে না।
পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে প্রতিদিনই বিভিন্ন দোকানপাট, রেস্টুরেন্টের ময়লা ও বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের মলমূত্র ট্রাকে করে বাইরে আনে নাহিদ ট্রেডার্স নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। এসব ট্রাক দিন-রাত ৮নং গেট দিয়ে ভেতরে ঢোকে আবার বের হয়। কখনোই তা চেক করা হয় না। বছর দুয়েক আগে সোনা ও মদের বোতল আটকের পর নাহিদ ট্রেডার্সের গাড়ি কিছু দিন বিশেষ নজরদারিতে ছিল। কিন্তু এখন আগের মতো নজরদারি হচ্ছে না। পাশাপাশি মলমূত্র তোলা থেকে শুরু করে পুরো এলাকাটি এতদিন সিসি টিভির আওতার বাইরে ছিল।
এ সম্পর্কে এপিবিএন অধিনায়ক রাশেদুল ইসলাম খান বলেন, ময়লার গাড়ি চেক করার উপায় নেই। এপিবিএন শুধু দায়িত্ব পালন করে যাতে কোনো গাড়িতে করে কেউ কোন বিস্ফোরক দ্রব্য, আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত