প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সার্টিফিকেট থাকলেও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি বর্নু মিয়া

ডেস্ক রিপোর্ট : সার্টিফিকেট থাকলেও স্বাধীনতার ৪৬ বছর পরে স্বীকৃতি পাননি বেনাপোলের মুক্তিযোদ্ধা বর্নু মিয়া। রাজমিস্ত্রীর কাজ করে চলে তার সংসার। হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম তার জীবনকে বিকল করে তুলেছে এই সুবিধা বঞ্চিত মুক্তিযোদ্ধা বর্নু মিয়ার।

১৯৭১ সালে দেশ বর্নু মিয়া পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। ভারতের ২৪ পরগোনার চাপাবাড়িয়া মুক্তিভৌজ ক্যাম্পে ১৯৭১ সালের ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত চলে তার প্রশিক্ষণ। পরে তিনি ভারতের বয়রা এলাকায় থেকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন। যুদ্ধ শেষে চাপাবাড়িয়া ক্যাম্প ইনচার্জ এম এ খালেক স্বাক্ষরিত সনদপত্র দেন বর্নু মিয়াকে। তার আসল নাম রবিউল ইসলাম হলে সকলে তাকে চেনে বর্নু মিয়া নামে। তার মুক্তিযোদ্ধা সনদ নম্বর ১৭৭৩। বর্নু মিয়ার মুক্তিযুদ্ধকালীন সর্বশেষ এলাকা ছিল যশোর আনসার ক্যাম্প।

শার্শা উপজেলার বেনাপোল পোর্ট থানার গাজীপুর গ্রামে তার বসবাস। একটি জীর্ণ কুটিরে পরিবার-পরিজন নিয়ে অতিকষ্টে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। স্বামীর অভাবের সংসারে স্ত্রী আইফুল বেগম আজ পাগল প্রায়। তিন মেয়ে ও এক পুত্র সন্তান আর নাতি-পুতি নিয়ে দারুণ কষ্টে আছেন তিনি। বর্নু মিয়া বলেন, আজ আমার দেখার কেউ নেই। আমি এবং আমার স্ত্রী আজ নানা রোগে আক্রান্ত। একমাত্র ছেলে আদম আলী মটর শ্রমিক। সেও দুবার অপারেশন করে পড়ে আছে সংসারে।

আজ পর্যন্ত কোনো সরকারের আমলে সাহায্য কিংবা সম্মানী ভাতা পাননি বর্নু মিয়া। মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেটসহ সকল কাগজপত্র থাকলে তার কথা কেউ শুনেনি। স্থান হয়নি মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় তার নাম। বর্তমান সরকারের সার্কুলার অনুসারে বাদ পড়া মুক্তিযোদ্ধাদের নতুন করে তালিকা হচ্ছে। এ তালিকায় বর্নু মিয়ার নাম পাঠানো হয়েছে। একটি কমিটির মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে বর্নু মিয়ার কাগজপত্র সঠিক পাওয়া গেলে বর্নু মিয়া মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্তি হবে বলে জানালেন শার্শা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার মনিরুজ্জামান মন্টু।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত