প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সিদ্ধান্তে অটল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

ডেস্ক রিপোর্ট : ব্যাংকের চাকরির আবেদনে কোনো ধরনের ফি আদায় করা যাবে না বাংলাদেশ ব্যাংকের এমন নির্দেশনার পর থেকে এ সেবায় ন্যূনতম একটি ফি নির্ধারণের দাবি জানিয়ে আসছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। কিন্তু নতুন করে এ সেবায় আর ফি আরোপের পক্ষে নয় বাংলাদেশ বাংক। এ বিষয়ে যুক্তি হিসেবে ব্যাংক খাতের অভিভাবক বলছে, দেশের ব্যাংকিং খাত শিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থানের একটি উল্লেখযোগ্য খাত। বেকার যুবক ও যুব মহিলাদের যেহেতু আয় থাকে না, তাই আবেদনে ফি আদায়ের শর্ত আরোপ করা হলে তা প্রদান করা তাদের জন্য কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। তাছাড়া ফি প্রদানের সামর্থ্য না থাকায় অনেক যোগ্য প্রার্থীর পক্ষে অনেক সময় আবেদন করাও সম্ভব হয় না; যা দুঃখজনক।

জানা গেছে, আগে ব্যাংকে চাকরির আবেদনকালে পে-অর্ডার বা ড্রাফট আকারে প্রায় ৫০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। কিন্তু বেকারদের পক্ষে এত টাকা দিয়ে আবেদন করা কষ্টসাধ্য বিবেচনায় এ সেবায় কোনো ধরনের ফি না নেয়ার জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে এ পর্যন্ত দুই দফা নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তারপরও এ সেবায় ন্যূনতম একটি ফি আরোপের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে দাবি জানিয়ে আসছে ব্যাংকগুলো। সেপ্টেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ ব্যাংকার্স সভায় এ সেবায় ন্যূনতম ২০০ টাকা ফি নির্ধারণের দাবি জানান তারা। এর পরিপ্রেক্ষিতে এ সেবায় ন্যূনতম ফি আরোপ যথাযথ হবে কিনা তা ফের পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন গভর্নর ফজলে কবির।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, ব্যাংকার্স সভার ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যাংকের চাকরিতে ন্যূনতম ফি নির্ধারণ যথাযথ হবে কিনা তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন গভর্নরের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ব্যাংকের চাকরিতে আবেদনকারীদের নিকট থেকে পে-অর্ডার বা ড্রাফট আদায় না করা সংক্রান্ত নির্দেশনাটি যুবসমাজসহ দেশের বিভিন্ন মহলে প্রশংসিত হয়েছিল। ফলে ফের ফি আদায়ের বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করা হলে বেকার যুবক ও যুব মহিলাদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে; যা কাক্সিক্ষত নয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে নিয়োগ পরীক্ষার জন্য ন্যূনতম ফি নির্ধারণ করা যথাযথ হবে না মর্মে প্রতীয়মান হয়। তবে আবেদনকারীর নিকট থেকে ফি আদায় না করে নিয়োগ পরীক্ষা আরও দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন করে ব্যয় সংকোচনের বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শ দেয়া যেতে পারে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আগামী মাসের শুরুতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়মিত ব্যাংকার্স সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই সভায়-ই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তের কথা ব্যাংকগুলোকে জানাবেন গভর্নর। একই সঙ্গে তাদের নিয়োগ পরীক্ষা দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্নের মাধ্যমে ব্যয় সংকোচনের পরামর্শ দেয়া হবে।

সূত্র জানায়, প্রথমবার ২০১০ সালের নভেম্বরে সার্কুলার জারি করে এ ধরনের ফি না নেয়ার জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে অনুরোধ জানিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওই অনুরোধ উপেক্ষা করে বেশিরভাগ ব্যাংকই চাকরি প্রার্থীদের কাছ থেকে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডার আদায় অব্যাহত রাখে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে অভিযোগ আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর আবারও এ সেবায় ফি না নেয়ার নির্দেশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

ওই নির্দেশনায় ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের উদ্দেশ করে বলা হয়, ব্যাংকে চাকরির জন্য আবেদনের সময় পে-অর্ডার বা ব্যাংক ড্রাফট আকারে ফি দেয়া তরুণ চাকরি প্রার্থীদের জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। এর আগেও ২০১০ সালে এক সার্কুলারে ফি আদায় না করার বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য আপনাদের অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু লক্ষ্য করা যাচ্ছে, কিছু কিছু ব্যাংক চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের কাছ থেকে পে-অর্ডার বা ব্যাংক ড্রাফট আকারে ফি আদায় করছে। ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডার নেয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ওই সার্কুলারে আরও বলা হয়, এখন এ মর্মে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, ব্যাংকের চাকরিতে আবেদনের সময় আবেদনকারীর কাছ থেকে পে-অর্ডার বা ব্যাংক ড্রাফট আকারে কোনো প্রকার ফি আদায় করা যাবে না।

ওই দুই সার্কুলারের নির্দেশনা তুলে ধরে বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০১৫ সালের ২৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকারি ব্যাংকগুলোর প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর কর্মকর্তা নিয়োগের জন্য মোট ব্যয়ের অর্ধেক সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে বহন করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে এবং বাকি অর্ধেক বাংলাদেশ ব্যাংক প্রদান করে থাকে। মূলত ব্যাংকার্স সিলেকশন কমিটির মাধ্যমে সরকারি ব্যাংকগুলোর কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয় বিধায় এক্ষেত্রে তাদের আর্থিক ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। আলোকিত বাংলাদেশ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত