প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে অ্যাপভিত্তিক গাড়িতে
ডিজিটাল পরিবহনে ঝুঁঁকছেন নগরবাসী

ডেস্ক রিপোর্ট : জনপ্রিয়তা পেয়েছে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনভিত্তিক পরিবহন সেবা। সময় বাঁচাতে দৈনন্দিন যাতায়াতে ডিজিটাল এ পরিবহনসেবার দিকে ঝুঁঁকছেন নগরবাসী। চাহিদা বিবেচনা করে রাইডশেয়ারিংয়ে সেবা দিচ্ছে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। বাজারে আসার অপেক্ষায় আরও কয়েকটি। এ সেবায় হাতের মুঠোয় পেয়ে যাচ্ছেন গাড়ি অথবা মোটরসাইকেল। অ্যাপভিত্তিক এ সেবার ফলে পরিবহনসেবার পাশাপাশি বহু মানুষের সৃষ্টি হয়েছে কর্মসংস্থান। দিন দিন বাড়ছে জনপ্রিয়তা। তাই যাত্রীদের অনেকেই এখন নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন মোবাইল ফোনে অ্যাপভিত্তিক গাড়ির দিকে।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, এ পর্যন্ত ছয়টি অ্যাপ চালু হয়েছে। এর মধ্যে উবার বেশ জনপ্রিয়তা পেলেও আগে ও পরেও বেশ কিছু সেবা দেশে চালু হয়েছে। এছাড়া মোটরবাইক শেয়ারিং সেবা পাঠাও, স্যাম যেমন এসেছে, তেমনি গাড়ি সার্ভিসে এসেছে ইজিয়ার, চলোর মতো অ্যাপভিত্তিক সেবা।

জনপ্রিয়তার শীর্ষে উবার : উবার সেবা চালুর ৬ মাসের মাথায় এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বিভিন্ন নগরীর তুলনায় শীর্ষ তালিকায় স্থান পায় ঢাকা। বাংলাদেশে প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সেখানে বলা হয়, শুধু নভেম্বরেই ১৫ লাখ মানুষ উবার অ্যাপ গাড়ির অনুরোধ পাঠিয়েছেন। তার মধ্যে ২ লাখের বেশি মানুষ উবার ব্যবহার করেছেন। প্রতি মাসে ১০ হাজারেরও বেশি চালক এবং প্রতিদিন শত শত চালক উবারে যোগ দিচ্ছেন। এ প্রসঙ্গে উবারের দক্ষিণ এশিয়া অপারেশন্স হেড প্রদীপ পরমেশ্বর বলেছেন, কারও ব্যবসা দখল করার উদ্দেশ্য আমাদের নয়। উদ্দেশ্য হচ্ছে যতো মানুষের সাথে সম্ভব একত্রে কাজ করা। লাখ লাখ মানুষ আমাদের সেবায় স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছে। বিশ্বের বহু দেশে অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছি আমরা। গত বছরের নভেম্বরে ঢাকায় উবারের সেবা চালুর পর বিআরটিএ সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এ সেবাকে অবৈধ ঘোষণা করেছিল। কিন্তু দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠা এ পরিবহনসেবা বন্ধ না করে নীতিমালা করার কাজে হাত দেয় সরকার। অ্যাপভিত্তিক এ পরিবহনসেবার অনুমোদন দিতে পর্যালোচনা করছে সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতর।

যাত্রীসেবার জন্য উবারের নিজস্ব কোনো গাড়ি নেই। ব্যক্তিগত গাড়ির মালিকরা গুগল প্লে স্টোরে গিয়ে নির্দিষ্ট অ্যাপ ডাউনলোড করে নিবন্ধনের মাধ্যমে উবারের চালক হয়ে যেতে পারছেন। মালিকদের মতো একই অ্যাপ ব্যবহার করে সেবা পাচ্ছেন যাত্রীরাও। চালক ও যাত্রী, উভয়পক্ষকেই অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধিত হতে হচ্ছে আগে। গ্রাহকের কলে সাড়া দেয়ামাত্রই উবার চালকের নাম, ছবি, রেটিং, গাড়ির লাইসেন্স নম্বর যাত্রীর স্মার্টফোনে ভেসে ওঠে। চালকও যাত্রীর নাম ও রেটিং দেখতে পান। যাত্রা শুরুর আগে গন্তব্য ঠিক করে সম্ভাব্য ভাড়া জানতে পারেন যাত্রী। নগদ বা কার্ডে ভাড়া পরিশোধ করা যাচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকার পর চট্টগ্রাম ও সিলেটেও সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে উবারের। পাশাপাশি ‘উবারপুল’ নামের একটি সেবাও চালুর চিন্তাভাবনা চলছে। এটি চালু হলে একজন গ্রাহক উবারের গাড়ি নিলে তার সঙ্গে আরও কয়েকজনও ওই গাড়িতে ভ্রমণ করতে পারবেন। এতে খরচ ভাগাভাগির সুবিধা পাওয়া যাবে।

উবারের জনপ্রিয়তার ধারায় স্থানীয় কিছু প্রতিষ্ঠানও অ্যাপভিত্তিক মোটরবাইকসেবা শুরু করেছে। এগুলোর মধ্যে পাঠাও’র অবস্থান শীর্ষে। এর ভিত্তি ভাড়া ২০ টাকা এবং পরবর্তী প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া দশ টাকা। গত মাসে কার সেবাও চালু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। নাম দেয়া হয়েছে ‘পাঠাও কার’। এর আগে তারা চট্টগ্রামে কার সেবা শুরু করে। পাঠাও কারের ভিত্তি ভাড়া ধরা হয়েছে ৫০ টাকা, প্রতি কিলোমিটার ২০ টাকা এবং প্রতি মিনিট আড়াই টাকা।

এছাড়া গাড়ি সেবায় রয়েছে চলো। এই কার সেবা এরই মধ্যে ঢাকায় বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। অ্যাপসভিত্তিক সেবা হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকদের সুরক্ষিত নিরাপত্তা দিতে সক্ষম হয়েছে। কাস্টমার কেয়ারে ফোন করে নিশ্চিত করার ৩০ মিনিটের মধ্যেই গাড়ি হাজির হবে। ২ ঘণ্টা, ৪ ঘণ্টা এবং সারা দিনের জন্য গাড়ি বুকিং দিতে পারবেন। এছাড়া ঢাকাবাসীর জন্য আরও একটি সেবা রয়েছে। তা হলো মাইক্রোবাস সার্ভিস। সারা দিন ৩ হাজার ৯৯০ টাকা। নির্ধারিত টাকার মধ্যেই সব খরচ অন্তর্ভুক্ত। এমনই আরেকটি অ্যাপ হলো স্যাম। শেয়ারে মোটরসাইকেল (স্যাম) অ্যাপটি চালু করেছে ডাটাভক্সসেল লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান।

এছাড়া অন্যান্য মোটরবাইক সেবার মধ্যে রয়েছে স্যাম, চলো, আমার বাইক, আমার রাইড, ময়ুর, ওয়েজ। যাদের নিজস্ব বাইক আছে তারা অ্যাপে নিবন্ধন করে চালক হিসেবে আয় করতে পারেন। এদিকে আ্যাপভিত্তিক পরিবহন নিয়ে অনেকটা স্বস্তিতে রয়েছেন যাত্রীরা।

কর্মসংস্থানে নতুন মাত্রা : পরিবহনসেবার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে অ্যাপভিত্তিক এ সেবা। অসংখ্য বেকার যুবকের পাশাপাশি খ-কালীন পেশা হিসেবে অনেকেই এ সেবা বেছে নিয়েছেন। স্বাধীনভাবে অর্থ উপার্জনের সুযোগ থাকায় প্রতিনিয়ত অনেকেই যুক্ত হচ্ছেন এ সেবায়। যে কেউ চাইলে অ্যাপভিত্তিক পরিবহনসেবার সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করতে পারেন।

পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও বুয়েটের অধ্যাপক ড. সামসুল হক বলেন, যাত্রীরা সঠিক সেবা পেতে চায়। কিন্তু নানা কারণে কাক্সিক্ষত সেবা থেকে বঞ্চিত নগরবাসী। সে জায়গায় স্থান করে নিচ্ছে এসব অ্যাপভিত্তিক সেবা। তাদের প্রয়োজনেই এরকম সেবার জনপ্রিয়তা বাড়ছে। সেবার পাশাপাশি গাড়ির মালিক না হয়েও গাড়িতে চড়ার শখও পূরণ হচ্ছে অনেকের। বহু মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে। তবে এ সেবাকেও সরকারকে একটা নিয়মের মধ্যে নিয়ে আসতে হবে। যাতে করে সেই আগের মতো যাত্রী হয়রানি না হয়।

মোটবাইকে পাঠাও শীর্ষে : যানবাহনে ঠাসা ঢাকার রাস্তায় চার চাকার গাড়ি স্থির বসে থাকলেও থেমে থাকে না অনলাইনভিত্তিক যাত্রীসেবার দুই চাকার মোটরবাইক। কেবল স্মার্টফোনের অ্যাপসের মাধ্যমে অনুরোধ পাঠালেই মেলে গন্তব্যে পৌঁছনোর বাহন। ‘পাঠাও’ এরইত মধ্যে ঢাকাবাসীর কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। একজন বাইকচালক বলেন, ডেসটিনেশনে যত কিলোমিটার আসবে তার ওপর ১২ টাকা চার্জ করা হয়। একজন যাত্রী বলেন, এ ধরনের সার্ভিস ঢাকা শহরে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাতায়াত করার ক্ষেত্রে খুবই ভালো। ‘আমার বাইক’র প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা আল আমিন সরকার বললেন, ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সীরা আমাদের সার্ভিস বেশি ব্যবহার করে থাকেন। ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় আমরা সার্ভিস দিয়ে থাকি।

অ্যাপভিত্তিক ‘বাহন’ : প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সানাউল্লাহ মোরশেদ বলেন, ঢাকায় এখন যে অ্যাপভিত্তিক পরিবহন ব্যবস্থা রয়েছে তা হলো বাইক কিংবা গাড়ি। কিন্তু আমরা প্রথমবারের মতো দুইটির কম্বিনেশনে সার্ভিসটি আনছি। যাত্রীরা একই প্লাটফর্মে মোটরবাইক বা গাড়ি সার্ভিস নিতে পারবেন।

বেকাদায় সিএনজি ও অটোরিকশা : অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন পরিবহনসেবা জনপ্রিয় হয়ে ওঠায় দুঃসময় শুরু হয়েছে হলুদ রঙের ট্যাক্সি ক্যাব ও সিএনজি অটোরিকশা চালকদের। যাত্রীর অপেক্ষায় দিনের বেশিরভাগ অলস সময় পার করতে হচ্ছে তাদের। একজন সিএনজিচালক বললেন, উবারের ভাড়া আর সিএনজির ভাড়া একই। একটু কম-বেশি। একই ভাড়ায় কেউ সিএনজিতে ওঠে নাকি? একজন ট্যাক্সিচালক বললেন, যারা অনলাইন যাত্রীসেবা দিচ্ছেন, তাদের কি নিজেদের গাড়ি আছে? তারা অন্যের গাড়ি নিয়ে ব্যবসা করে। তারা কি সরকার ও বিআরটিএকে ট্যাক্স দেয়। অথচ আমরা লিগ্যাল হয়েও যাত্রী পাচ্ছি না।
বহুজাতিক কোম্পানি উবারের আদলে গড়ে ওঠা দেশীয় পরিবহন সেবার এসব প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) সভাপতি মোস্তাফা জব্বার। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদের সংগঠন গড়ে তুলতে হবে। উবারের যেসব ত্রুটি আছে সেসব দূর করতে হবে।
এদিকে নতুন বছরের প্রথম দিন থেকে ঢাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা মিলবে নতুন অ্যাপে। এটাই হবে সিএনজি অটোরিকশার প্রথম অ্যাপ যাত্রা। অ্যাপে রিকোয়েস্ট দিয়ে যেমন সিএনজি মিলবে তেমনি অ্যাপ ছাড়া শুধু চালকের মোবাইল ব্যবহার করে চলাচল করা যাবে। দুই হাজার স্মার্টফোন চালকের হাতে তুলে দিয়ে এ সেবা শুরু করবে গতি-লেটসগো নামের অ্যাপ। ১ জানুয়ারি থেকেই এ যাত্রা শুরু বলে জানিয়েছেন গতি-লেটসগো অ্যাপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনআইবিআই জেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এমডি) এন জামান চৌধুরী জেমস।

প্রকৌশলী জেমস বলেন, অন দ্যা গোÑ যাদের কাছে অ্যাপস নেই তারাও অ্যাপভিত্তিক সেবাটি ব্যবহার করতে পারবেন। এক্ষেত্রে যাত্রীর মোবাইলের প্রয়োজন নেই। চালক তার মোবাইলে একটি যাত্রা স্টার্ট দিলেই মিটারের মতো কাজ করবে। তিনি আরও বলেন, সিএনজি অটোরিকশায় যে মোবাইল ফোন দেয়া হবে সেগুলোকে শুধু গতি অ্যাপসের জন্য নির্দিষ্ট করে দেয়ার চিন্তা করছেন তারা। যাতে সেখানে অন্য কোনো অ্যাপ না চলে।

অ্যাপ বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং পার্টনার চপল জানান, সিএনজি অটোরিকশার মালিককে মূলত মোবাইল ফোনটি দেয়া হবে। কারণ একজন মালিকের একাধিক সিএনজি রয়েছে। আবার একটি সিএনজি দুই থেকে তিনজন চালক চালান। যখন যে চালাবে তার আইডি লগইন করে চালাতে পারবে। আর সিএনজি মালিক অ্যাপটির ওয়েবসাইটে গিয়ে নিজস্ব আইডি পাসওয়ার্ড দিয়ে ঢুকে দেখতে পারবেন কতটি ট্রিপ কোথায় কোথায় হয়েছে। ২১ থেকে শুরু হওয়া রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে। আগামী বছরের ১ জানুয়ারি ৩ হাজারের বেশি সিএনজি অটোরিকশা অ্যাপে ছাড়ার ইচ্ছা তাদের। এছাড়া হ্যালো সিএনজি রাইড শেয়ারিং নামে একটি প্রতিষ্ঠান নতুন একটি অ্যাপ তৈরি করছে, যার মাধ্যমে যাত্রীরা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অটোরিকশা ডাকতে পারবেন। স্যাম নামে আরেকটি রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠানও তাদের অ্যাপে অটোরিকশা ভাড়া করার সুযোগ রেখেছে।

এছাড়া আরেকটি অ্যাপভিত্তিক মোটরসাইকেল শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘শেয়ার আ মোটরসাইকেল’ বা স্যামও তাদের অ্যাপে অটোরিকশায় রাইড নেয়ার সুযোগ রেখেছে বলে জানিয়েছেন ডাটাভক্সসেল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইমতিয়াজ কাসেম। এছাড়া ‘টপ আই আই’ নামে একটি দেশীয় প্রতিষ্ঠান সম্প্রতি সরকারের অনুমোদনে অ্যাপসভিত্তিক যাত্রীসেবা ‘হ্যালো’ চালু করতে যাচ্ছে। মাইক্রো, প্রাইভেট কার ও রেন্ট-এ কারের সব গাড়ির সমন্বয়ে গড়ে তোলা নতুন এ সার্ভিসের নাম হবে ‘হ্যালো’। হ্যালো এমন একটি সেবা, যা ট্যাক্সিচালক ও যাত্রী উভয়েই ব্যবহার করতে পারেন।

নীতিমালার খসড়া চূড়ান্ত : মোটর কার, জিপ, মাইক্রোবাস, অটোরিকশা, অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলÑ এ পাঁচ ধরনের যান মুঠোফোনের অ্যাপভিত্তিক ট্যাক্সিসেবা হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এ সংক্রান্ত নীতিমালার একটি খসড়া তৈরি করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। খসড়াটি সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিআরটিএ খসড়া এ নীতিমালা ২৪ জুন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। এর নাম দেয়া হয়েছে ‘রাইডশেয়ারিং সার্ভিস নীতিমালা-২০১৭’।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ঢাকাসহ বড় শহরগুলোর গণপরিবহনে নৈরাজ্য চলছে। উবারসহ অ্যাপভিত্তিক সেবা সম্প্রসারণ হলে গণপরিবহনে সুস্থ প্রতিযোগিতা বাড়বে। এরই মধ্যে অটোরিকশাচালক-মালিকদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। তবে নীতিমালাটা হতে হবে যাত্রীবান্ধব।

বিআরটিএ সূত্র জানায়, নীতিমালার একটি ভালো দিক হচ্ছেÑ কেউ একটির বেশি ব্যক্তিগত গাড়ি অ্যাপের মাধ্যমে ভাড়ায় খাটাতে পারবে না। তাছাড়া ভাড়ায় পরিচালনার অনুমোদন পাবে না গাড়ি কেনার এক বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত। এতে করে ব্যক্তিগত গাড়ি বিশেষ করে প্রাইভেট কার অবাধে বাণিজ্যে নামতে পারবে না। বিআরটিএর পরিচালক (প্রকৌশল) নুর ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, মানুষের চাহিদার কথা বিবেচনা করে একটি খসড়া তৈরি করা হয়েছে। এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার মন্ত্রণালয়ের।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব নজরুল ইসলাম বলেন, রাইডশেয়ারিংকে নীতিমালার আওতায় আনতে কার্যক্রম চলছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন সংস্থার মতামত নেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজধানীতে ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। অতিমাত্রায় ব্যক্তিগত গাড়ি বাড়ায় যানজটের মাত্রাও বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, স্মার্টফোনভিত্তিক এমন পরিবহন অ্যাপ নাগরিক পরিবহনসেবাকে বদলে দেবে। আলোকিত বাংলাদেশ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত