প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইসিতে আস্থা বাড়ছে

ডেস্ক রিপোর্ট : রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক) নির্বাচনে কোনো ধরনের গোলযোগ-সহিংসতা না হওয়ায় আগামী সংসদ নির্বাচনে ইসির (নির্বাচন কমিশন) প্রতি বিভিন্ন দলের আস্থা বাড়বে বলে মত দিয়েছেন নির্বাচন বিশ্লেষকরা। রসিক নির্বাচনে বেশ কয়েকটি কেন্দ্র থেকে বিএনপি প্রার্থীর এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে বলে দলটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হলেও তা প্রত্যাখ্যান করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা। তিনি বলেন, ‘এ অভিযোগ সঠিক নয়। রংপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট হয়েছে; একটি মডেল নির্বাচন হয়েছে।’

সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘রংপুরে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা প্রশংসনীয়; এ নির্বাচনের মাধ্যমে আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারীদের আস্থা বাড়বে।’ তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন রংপুর নির্বাচনের জন্য যে কর্মপরিকল্পনা করেছিল, সেটি সফল হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থেকে শুরু করে সবকিছু পর্যাপ্ত ছিল।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের সময় স্থানীয় নির্বাচনে আমরা এত বেশি সক্রিয় ছিলাম না।’

ইলেকশন ওয়ার্কিং গ্রুপের (ইডব্লিউজি) পরিচালক আবদুল আলীম বলেন, রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ‘উৎসবমুখর’ পরিবেশ ভবিষ্যতের জন্য ‘মডেল’ হয়ে থাকবে। কোনো ধরনের গোলযোগ-সহিংসতা না হওয়ায়, কারচুপি বা অনিয়মের অভিযোগ না ওঠায় এ ভোটের মাধ্যমে দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতি সবার আস্থা বাড়বে। তিনি বলেন, কোনো সংহিসতা নেই, অনিয়ম নেই, কারচুপি নেই। সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলোয় যে চিত্র দেখেছি, তা ছিল না। এক কথায় বলা যায়, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন। প্রশাসন, সরকার এবং কমিশনের সদিচ্ছা থাকলে যে সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব; তা প্রমাণিত হয়েছে। সুজন (সুশাসনের জন্য নাগরিক) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, রংপুরে একটি সমন্বিত নির্বাচন হয়েছে। সুষ্ঠু ভোটের জন্য যা যা করা দরকার, তাতে সবার সহযোগিতা ছিল। এটাকে মডেল নির্বাচনও বলা যায়। এরকম নির্বাচনই মানুষ প্রত্যাশা করে।

তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচনের আগে থেকে কাজ করছি। প্রার্থীদের সঙ্গে সংলাপ করেছি। এখানে সবাই আন্তরিকতা দেখিয়েছেন। ছোটখাটো বিষয় ছাড়া নিশ্চিত করে বলা যায়, রংপুরে ভোট সুষ্ঠু হয়েছে। তবে রংপুরে নির্বাচনের ফল দেখে আগামী সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে আগাম কোনো বিশ্লেষণ করাও ঠিক হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি। বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘স্থানীয় নির্বাচনে স্থানীয় ভোটারদের একটি ফ্যাক্টর কাজ করে, স্থানীয় বিশেষ লোকের, নিজ এলাকার ভোটারদের একটি সম্পর্ক রয়েছে। এটা নিয়ে জাতীয় নির্বাচনের আবহে অ্যানালাইসিস করা যায় না।’ আগের কমিশনের উদাহরণ দিয়ে সুজন সম্পাদক বলেন, রকিব কমিশন ২০১৩ সালে চার সিটিতে সুষ্ঠু নির্বাচন করেছিল। পরে ২০১৪-তে এসে বিতর্কিত নির্বাচন দিয়েছে। ফলে বলা যাবে না যে স্থানীয় নির্বাচন সুষ্ঠু হলে সংসদ নির্বাচন একই হবে।

সাবেক নির্বাচন কমিশনার শাহ নেওয়াজ নির্বাচনে ইভিএম নিয়ে বলেন, ‘আমরা অনেক চেষ্টা করেও ইভিএম ব্যবহার করতে পারিনি। বর্তমান কমিশন একটি কেন্দ্রে হলেও ইভিএম ব্যবহার করে সফল হয়েছে। বড় আকারে ব্যবহার করলে হয়তো সমস্যা দেখা দিত। তারপরও বলব, বর্তমান কমিশন যে প্রক্রিয়া নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, তা পজিটিভ।’ কুমিল্লা সিটি করপোরেশনে নির্বাচনের পর নিজেদের মেয়াদের এক বছরের মাথায় রংপুরে শান্তিপূর্ণ এ ভোটকে ‘দৃষ্টান্তমূলক’ বলেই মনে করছে কে এম নূরুল হুদা নেতৃত্বাধীন ইসি। এ কমিশনের অধীনেই আগামী বছরের শেষ দিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। সংসদের আগে জুনের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে উপনির্বাচন, উত্তর-দক্ষিণে ৩৬টি ওয়ার্ডে সাধারণ নির্বাচন, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশনেও ভোট করতে হবে এ ইসিকে। প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত রসিক নির্বাচনে (দলীয় প্রতীকে) জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা ১ লাখ ৬০ হাজার ৪৮৯ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু পেয়েছেন ৬২ হাজার ৪০০ ভোট। ধানের শীষ প্রতীকে ৩৫ হাজার ৯৩৬ ভোট পেয়ে মেয়র পদে তৃতীয় হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী কাওসার জামান বাবলা। আলোকিত বাংলাদেশ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত