প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

লালমনিরহাটে ঐতিহ্যবাহী বউ-জামাই মেলা

ডেস্ক রিপোর্ট : প্রতি বছরের ন্যায় এবারেও লালমনিরহাট সদর উপজেলার বড়বাড়ি কলেজ মাঠে শুরু হয়েছে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী বউ-জামাই মেলা।

শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া এ মেলা চলবে মঙ্গলবার (২৫ ডিসেম্বর) পর্যন্ত। শুক্রবার সকালে পাঁচ দিনব্যাপী এ মেলার উদ্বোধন করেন বড়বাড়ী শহীদ আবুল কাসেম মহা বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু।

গ্রাম-বাংলার ঐহিত্যবাহী ব্যাতিক্রমী বউ-জামাই মেলার প্রথম দিনেই ছিল উপচে পড়া ভিড়। গলায় মালা ও শাড়ি পড়ে মেলায় এসে আনন্দ উপভোগ করেছেন অনেকে। এই

ব্যতিক্রমী মেলায় জেলার বিভিন্ন প্রান্ত ও আশেপাশের জেলা থেকে দর্শনার্থীরা এসে ভিড় করেছেন।

এদিকে বউ-জামাই মেলার আনন্দ বাড়িয়ে দিতে যোগ হয়েছে মৎস ও মিঠা উৎসব। হরেক রকমের মিঠা ও নানা প্রজাতির মাছ নিয়ে দোকানীরা পসড়া সাজিয়েছেন মেলায়। শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া ৫দিন ব্যাপী এ মেলায় প্রতিদিন সকালে মৎস উৎসব ও বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলবে পিঠা উৎসব।

মেলা উপলক্ষে সদরের ৪টি ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি বাড়িতে এসেছেন মেয়ে ও জামাই। এ মেলা উপলক্ষে গলায় মালা ও লাল শাড়ি পড়ে নতুন রূপে সেজেছেন বউরা। তারা শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার জন্য কিনছেন বড় মাছ ও নকশা করা মিঠা।

এদিকে নতুন জামাই বাড়িতে আসবে বলে শ্বশুরও কিনছেন বড় মাছ। তবে মেলায় আগত দর্শনার্থী ক্রেতারা বলছেন, অনেক আশা নিয়ে এসেছি এ মেলায় পিঠা ও মাছ কিনতে। কিন্তু বিক্রেতারা মাছ ও পিঠার দাম হাঁকাচ্ছেন বেশী। আবার বিক্রেতারা বলছেন, সামুদ্রিক মাছগুলো আড়তেই চড়া দাম। এ কারণে পরিবহন খরচ নিয়ে এই মাছ গুলোর দাম প্রতি কেজি দেড় হাজার থেকে দু হাজার টাকা বিক্রি না করলে লাভ হবে না। আর পিঠা বিক্রেতারা বলছেন, সব জিনিসেরই দাম বেশি তাই পিঠার দামতো একটু বেশি হবেই।

তবে দাম যাই হোক, পূর্ব পুরুষের ঐতিহ্য ধরে রাখার জন্য মেলায় আসা বউ ও জামাইরা পছন্দ মতো মাছ ও পিঠা কিনে শ্বশুর বাড়ির দিকে রওনা দিচ্ছেন।

রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে মৎস্য খামারী ও ব্যবসায়ীরা এসেছেন মেলায়। মাছ ব্যবসায়ীরা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বড় বড় ও দুর্লভ

জাতের মাছের পসরা নিয়ে বসেছেন এ মেলায়। দামও হাঁকাচ্ছেন চড়া। ক্রেতারাও চাহিদা ও সামর্থানুযায়ী তা কিনছেন।

অনান্য মৎস্য আড়ৎ যেমন- সুদূর চট্টগ্রাম থেকে নিয়ে এসেছে ২৩ কেজি ওজনের কোরাল, ১৫ কেজি ওজনের বোয়াল, ১০ কেজির ওজনের রুই-কাতলসহ বিভিন্ন জাতের মাছ।

এই স্টলের বিক্রেতা নুরু জানান, কোরাল মাছটি ৪৫ হাজার টাকা দাম হাঁকানো হয়েছে। ৩৮/৪০ হাজার পর্যন্ত উঠলে বিক্রি করা হবে। রুপালি মৎস্য আড়তে ১৫ কেজি ওজনের গ্রাসকার্প মাছটি ক্রেতাদের দৃষ্টিতে আসছে। বাজেট অনুযায়ী দাম কষে যাচ্ছেন ক্রেতারা।

বিক্রেতা বিরুদাস মাছের দাম হাঁকাচ্ছেন ২৫ হাজার টাকা। ২২ হাজার টাকা হলে বিক্রি করবেন বলে জানান তিনি।

স্থানীয় ক্রেতা কৃষি শ্রমিক আবুল, ফয়েজ, ও মন্টু মিয়া জানান, অনেক দিনের শখ বড় মাছ খাওয়ার। তাই গ্রামের কয়েকজন মিলে মাছ কিনতে বউ-জামাই মেলায় এসেছেন।

মেলা উৎযাপন পরিষদের উপদেষ্টা অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, গ্রামীণ ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে জেলায় বউ-জামাই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। জামাইমেলা থেকে বড় মাছ

কিনে শ্বশুর বাড়ি যাবে আর হরেক রকম পিঠা খাবে।

এ ছাড়াও নতুন প্রজম্মের শিশুরা বিলুপ্ত প্রায় অনেক প্রজাতির মাছের সাথে পরিচিত হতে পারবে। সব মিলিয়ে গ্রাম বাংলার হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতেই মূলত এ ব্যতিক্রমী মেলার আয়োজন করা হয়েছে বলে তিনি জানান ।

এবারে বউ-জামাই মেলায় ২০টি মৎস স্টল, ৩০টি পিঠা স্টল ও অন্যান্য প্রসাধনী পণ্যের ১৫টি স্টল স্থান পেয়েছে।

সূত্র : ঢাকাটাইমস

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত