প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দু’সন্তান সহ প্রবাসীর স্ত্রী হত্যায় ৯ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের, আটক ৩


স্বপন কুমার দেব, বিশেষ প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার সুজা নগরে নিহত প্রবাসীর স্ত্রী ও তার দু’সন্তানের লাশ বাবার বাড়ি কুলাউড়া উপজেলার ভুকশিমইল ইউনিয়নের মনসুরগঞ্জ কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। গত ২১ ডিসেম্বর রাতে নিহত গৃহবধু মাজেদা বেগমের মামা সেলু মিয়া বাদি হয়ে বড়লেখা থানায় ৯ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
শুক্রবার নিহত গৃহবধু মাজেদা বেগমের বাবার বাড়ি নাসিরপুর (উত্তর সাদিপুর) গ্রামে গেলে বাড়ির আঙিনায় নারী পুরুষের ভীড় দেখা যায়। বুধবার মৃত্যুর খবর পেয়ে আসা আত্মীয় স্বজনরা ছিলেন এবং আশপাশের লোকজন আসছেন সত্যিকারের ঘটনা জানতে।
নিহত গৃহবধু মাজেদা বেগমের ছোট বোন সানজিদা বেগম, চাচাতো ভাই ইমরান, জানান, বিয়ের পর থেকে মাজেদার সংসারে অশান্তি লেগেই ছিলো। তারপরও সবকিছু সয্য করে স্বামীর সংসার আকড়ে পড়ে ছিলেন দুটি সন্তানের মুখ পানে চেয়ে। কিন্তু দুটি সন্তানসহ কোন মা এভাবে মৃত্যুর পথ বেছে নিতে পারে না। পরিকল্পিতভাবেই মাজেদা বেগমকে হত্যা করা হয়েছে। কেননা মাজেদার মৃত্যুর পর তার শ্বশুড় বাড়ির কোন লোক ফোনে মৃত্যুর খবরটি পর্যন্ত জানায়নি। এতে তাদের সন্দেহ হচ্ছে।
ফুফুতো ভাই উসমান আরও জানান, তারা মাজেদার বাড়িতে গিয়ে দেখেছে পুলিশের উপস্থিতিতে লাশ নিচে নামানো আছে। কিন্তু নিহত মাজেদার শ্বশুড় বাড়ির লোকজন ৩টি মানুষ কিভাবে মারা গেলো, তাও বলেনি। পুলিশ লাশের ময়না তদন্ত শেষে কুলাউড়া বড়লেখা সড়কের পুষাইনগর বাজারে লাশ হস্তান্তর করে। কিন্তু লাশ দাফনকালে কিংবা দাফনের পরেও নিহত মাজেদা বেগমের শ্বশুড়বাড়ির কোন লোক কিংবা কাতার থেকে তার স্বামী আকামত আলীও ফোন দিয়ে কোন খোঁজ খবর নেয়নি।

নিহত প্রবাসীর স্ত্রী মাজেদা বেগমের মা মারা গেছেন ৩ বছর আগে। বাবা সোহাগ মিয়া দুবাই প্রবাসী। পরিবারে সৎ মা আর ছোট বোন সানজিদা বেগম। মামা সেলু মিয়া জানান, মঙ্গলবার রাতে নিহত মাজেদা বেগমের বাড়িতে যাওয়ার পর থেকে বাড়ির কোন পুরুষ মানুষকে দেখতে পাননি। ৩ চাচা শ্বশুড়, সৎ দেবর সবাই ছিলেন পলাতক। ফলে তাদের সন্দেহ আরও প্রকট হয়েছে। মুলত চাচা শ্বশুড় শরাফত আলী এই ঘটনার মুলহোতা। আগে মাজেদা বেগমের নামে তার স্বামী বিদেশ থেকে টাকা পাঠাতো। কিন্তু চাচা শ্বশুড় শরাফত আলী চক্রান্তের কারণে মাজেদা বেগমের কাছে টাকা পাঠানো বন্ধ করে দেন আকামত আলী। তাছাড়া ছোট ছেলে ফারুক আহমদের জন্মের পর গত ৩ বছর থেকে দেশেও আসেননি আকামত আলী।
বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ সহিদুর রহমান জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা গৃহবধূ মাজেদার সৎ শ্বশুড়ি মনোয়ারা বেগম (৫৩), চাচি শ্বাশুড়ি আলিফজান বিবি (৪৫) ও দেবর দুবাই প্রবাসী আবেদ আলীর স্ত্রী সামিয়া বেগম (২১) এই ৩ জনকে আসামী করায় তাদেরকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

কুলাউড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আবু ইউছুফ জানান, আপাতত বাদির অভিযোগ আমলে নিয়ে পুলিশ তদন্ত কাজ করবে। বাকিটা ময়না তদন্তের রিপোর্ট পেলেই নিশ্চত হওয়া যাবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত