প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জেরুজালেম ইস্যু
যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ১২৮ দেশের অবস্থান পরাশক্তির জন্য কতটা আঘাত ছিল?

জুয়াইরিয়া ফৌজিয়া : জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে যে স্বীকৃতি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাস্প তা প্রত্যাখ্যান করেছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ। ওই স্বীকৃতি প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে সাধারণ পরিষদে জরুরি অধিবেশনে সংখ্যা গরিষ্ঠ ভোটাভোটিতে গৃহীত প্রস্তাবটিতে বলা হয়েছে এই নগরীর মর্যদার বিষয়ে যে কোনো সিন্ধান্ত অকার্যকর ও বাতিলযোগ্য। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ১২৮টি দেশের অবস্থান পরাশক্তিটির জন্য কতটা আঘাত ছিল?

এই প্রসঙ্গে বিবিসি বাংলার এক সাক্ষাৎকারে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক বিশ্লেষক ড. আলী রিয়াজ বলেন, এই ভোট প্রকৃতপক্ষে কোনো কার্যকর বিষয় না, এটির একটি প্রতীকীমূল্য আছে। আর আমরা যদি প্রতীকীমূল্য বিবেচনা করি তাহলে সেদিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় আঘাত যে যুক্তরাষ্ট্রে বক্তব্য থাকা সত্ত্বেও ১২৮টি দেশ যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের সিন্ধান্তের পক্ষে ভোট দিয়েছে।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে আনা প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্তকে বলা হচ্ছে ননবাইন্ডিং, এটি আসলে কী অর্থ বহন করে?

জবাবে তিনি বলেন, বাস্তবায়নের জন্য কোনো দেশের ওপর বাধ্যবাধকতা থাকে না। ১২০টির বেশি দেশ যে ননবাইন্ডিং ভোট দিল তাতে একটি নৈতিক অবস্থার হলো। আর একটি দেশও চায় না যে যুক্তরাষ্ট্রের মতো এ্যামবাসি জেরুজালেম নিয়ে আসবে না কিংবা তারা কেউই এককভাবে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানীর স্বীকৃতি দিবে না। এটা তারা বললো কিন্তু এটা আইনগতভাবে তারা বাধ্য নয়। কিন্তু নৈতিকভাবে তারা যে বাধ্য সেটাই তারা বললেন এবং নৈতিকভাবে যে একটি কমিটমেন্ট তৈরি হলো। ননবাইন্ডিং যতটা রাজনৈতিক ততটা প্রতীকী এবং যতটা নৈতিক বিষয় ততটা আইনি বিষয়।

এই ভোটাভোটিতে অনুমোদন পাওয়ার প্রস্তাব জেরুজালেম প্রশ্নে কতটা তাৎপর্য বহন করছে?

জবাবে তিনি বলেন, বাস্তাব বিবেচনায় আপনি ওই ধরনের কোনো তাৎপর্য মাঠ পর্যায়ে দেখতে পাবেন। যে কালকেই কোনো পরিবর্তন ঘটবে বা যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে পরিবর্তন ঘটবে কিংবা অন্য কোনো দেশ এমন কিছু করবে যে যাতে করে এই ধরনের প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের সিন্ধান্তকে বদল করতে পারে তা ঘটবে না। ফলে ওর গুরুত্বটা আপনার বুঝতে হবে প্রতীকী এবং অবস্থানগত দিক থেকে। ট্রাম্প শাসনের যে আচরণ তা নৈতিক চাপে কতটুকু অগ্রসর হওয়া যাবে আর বাস্তব হবে সে বিষয়ে আমি সন্দিহান। তার পরেও আমার বিশ্বাস এর জন্য সারা বিশ্বে জনমত তৈরি হয় এবং এই পরিস্থিতি সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর এক ধরনের চাপ তৈরী হয়।

আনিস/

সর্বাধিক পঠিত