প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আজ থেকে ঢাকায় পৌষ মেলা শুরু

ফারমিনা তাসলিম: বাংলার লোকজ সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে তিন দিনের পৌষ মেলা শুরু হচ্ছে আজ। ঢাকা শহরের মানুষের কাছে গ্রামীণ সংস্কৃতি পৌঁছে দিতে এবং তরুণ প্রজন্ম যেনো তাদের শেঁকড় থেকে দূরে সরে না যায়, সে লক্ষ্য নিয়ে যৌথভাবে বাংলা একাডেমি এবং সম্মিলিত সংস্কৃতিক জোট এ মেলার আয়োজন করছে।

শুক্র থেকে রোববার প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

পৌষমেলা উদযাপন পরিষদের এবারের আয়োজনে থাকছে শীতের নানা রকম পিঠা-পুলি, লোকজসামগ্রীর ৫০টি স্টল। এ ছাড়াও থাকছে লোকজ সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি, পুঁথিপাঠ, বাউলগান, সং যাত্রা, যাত্রা ও নৃত্যনাট্যের আয়োজন। এছাড়া মেলায় প্রতিদিনই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থাকছে।

মেলা প্রসঙ্গে বিবিসি বাংলার এক সাক্ষাৎকারে বাংলা একাডেমির পরিচালক শাহিদা খাতুন বলেন, আমাদের গ্রামীণ বাংলাদেশের বংশপরম্পরায় লালিত হচ্ছে গ্রামীণ ঐতিহ্যর সংস্কৃতি। কিন্তু বিভিন্ন অঞ্চল বা গ্রাম থেকে আমাদের লোকজ মানুষরা যেগুলো করে আসছে সেটা বংশ পরম্পরায়। এটি আমাদের শহরের নাগরিক জীবনে আকাশ সংস্কৃতির যুগে আমাদের সংস্কৃতি হারিয়ে না যায়। নতুন প্রজন্মরা অনুপ্রাণিত হয়ে উৎসাহবোধ করে এবং তাদের মধ্যে একটা আগ্রহের জায়গা তৈরি হয় সেজন্য আমরা এ মেলা করছি।

এ তিনদিন ব্যাপী উৎসবে কী করবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে শাহিদা খাতুন বলেন, আমাদের তিনদিন অনুষ্ঠান হবে। লোক ঐতিহ্য, লোক সাহিত্য এবং লোক সঙ্গীতের বিশেষ করে আমাদের ময়মনসিংহের লোক গাঁথা, যাত্রাপালা ও সংস্কৃতি আছে এগুলো আমরা শহরে এসে উপস্থাপন করব। আরেকটা বিষয় আমরা যারা স্বপ্নের চর্চা করি এবং ঐতিহ্যকে লালন-পালন করি। এটা আমাদের সন্তানেরা কনসার্ট, পপ সঙ্গীত করলে যতটা লোক হয়, আগামী তিনদিন আমাদের পিঠা উৎসব মেলা হবে পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে আয়োজনগুলো হয়েছে সেখানেও তেমন লোক হবে। আমরা ইতিপূর্বে দেখেছি শহরের নাগরিক সমাজের ছেলে-মেয়েরা সেগুলোকে খুব ভালোভাবে উপভোগ করে।

বর্তমান প্রজন্মের ছেলে-মেয়েরা অনেক বেশি ডিজিটাল জগতের দিকে ঝুঁকেছে তারা ফেসবুক বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক বেশি উৎসাহী হয়ে ওঠেছে। সেখানে তাদেরকে কতখানি মেলা পরিসরে আনতে পারছেন আপনারা?

বিবিসির এমন প্রশ্নের জবাবে শাহিদা খাতুন বলেন, নিশ্চয় আমরা পারছি কারণ তাদের সামনে এ সময়ের উপযোগী করে তাদের রুচির সাথে তাল মিলিয়ে আমরা আমাদের ওই পরিবেশনাগুলো উপস্থাপনা করতে পারছি। কিন্তু আমাদের ঐতিহ্যর সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন থাকবে এমন না। কাঁচা জিনিসটা আমাদের অতীত ঐতিহ্য এবং গ্রামীণ জীবন থেকে যারা লালন করছে তাদেরকে আমরা নিয়ে আসছি। তাদেরকে শহরে এনে নতুন প্রজন্মদের রুচির ভিতর থাকে ধারণ করতে পারে তাদেরকে ওভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। আমাদের যারা রন্ধন শিল্পী আছেন তারা দর্শককে ভালোভাবে বুঝেন। আমরা কুদ্দুস বয়াতি, কাঙ্গালিনী সুফিয়ার কথা বলতে পারি। তারা গ্রামে যে জিনিসটা পরিবেশন করছে শহরে এসে যখন মঞ্চায়ন হচ্ছে, তখন কিন্তু দর্শক কি চাচ্ছে আমাদের নতুন প্রজন্ম বা শ্রোতা কি উপভোগ করতে পারে ঠিক সে অনুযায়ী তাদের অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে ভঙ্গিমা তৈরি করে। এখানে তাদের ক্রিয়েটিভিকে আমরা যখন ফোক লোকসঙ্গীতগুলো করি, তখন নতুন নতুন অনুষঙ্গ উপাদান নিয়ে আসা হয়। আমাদের সাংস্কৃতিক সংমিশ্রণ শহরে একটা শ্রেণির জনগণ যদি সঠিকভাবে তাদের সামনে উপস্থাপন করতে পারি, তারা কিন্তু অনেক বেশি উপলব্ধি পরায়ন।

এ তিনদিনের পৌষ মেলার শেষ হওয়ার পর তরুণ প্রজন্মরা তাদের দৈনদিন জীবনে এ সংস্কৃতি কতটা চর্চা করবেন?

জবাবে শাহিদা খাতুন বলেন, সংস্কৃতি চর্চা বংশ পরম্পরায় প্রবহমান থাকে। আমরা যদি তার কাছে তুলে ধরতে পারি, তার পূর্বপুরুষের জায়গাটি যদি ওভাবে তৈরি হয় এবং তারা যদি জানে আমাকে আমার শেঁকড়ের কাছে ফিরে যেতে হবে। এখন নতুন প্রজন্মের অনেকে বাইরে গিয়ে তাদের এ লোক ঐতিহ্য, লোক সংস্কৃতি, লোকজ মানুষের জীবন কিন্তু তাদের শিল্পকর্ম নিয়ে গবেষণা করছে। তাতে আমরা নিশ্চয়ই আশাবাদী। আমাদের সেভাবে উপস্থাপন করতে হবে, তাদের রুচির সাথে আমাদের এ বিষয়গুলো পৌঁছে দিতে হবে। অবশ্যই আমরা আশাবাদী।

সূত্র – বিবিসি বাংলা

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত