প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বেপরোয়া ‘টানা পার্টি’

ডেস্ক রিপোর্ট : মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে মানুষের চলাচল কম থাকার সুযোগে বেপরোয়া হয়ে ওঠে ছিনতাইকারীরা। এখন দিনেও সমানতালে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। অনেক ক্ষেত্রে পথচারী বা রিকশাযাত্রীদের হাতে থাকা ফোন-ব্যাগ হেঁচকা টানে কেড়ে নিয়ে পালাচ্ছে মোটরসাইকেল আরোহী ছিনতাইকারীরা। গত এক মাসে ‘টানা পার্টি’ নামে পরিচিত এ ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে রাজধানীতে শিশুসহ অন্তত দু’জনের প্রাণ গেছে। আহত হয়েছেন অনেকে। সর্বশেষ গত সোমবার দয়াগঞ্জে ছিনতাইকবলিত রিকশা-আরোহী মায়ের কোল থেকে পড়ে গিয়ে মারা যায় শিশু আরাফাত। এর আগে ২৯ নভেম্বর মোহাম্মদপুরে ছিনতাইয়ের সময় রিকশা থেকে পড়ে আহত হন জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক ফরহাদ আলম। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৫ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়। এ ছাড়া গত এক মাসে ছিনতাইকারীর গুলি ও ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন অন্তত সাতজন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ শাখার উপকমিশনার মাসুদুর রহমান সমকালকে বলেন, দয়াগঞ্জে ছিনতাইয়ের সময় শিশুমৃত্যুর ঘটনাটি দুঃখজনক। তবে নগরীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেই আছে। ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়ে গেছে এমন নয়। বিচ্ছিন্ন যে দু-একটি ঘটনা ঘটছে, সেগুলোয় জড়িতদের গ্রেফতার করে আইনানুগ ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।

রাজধানীতে ছিনতাইকারীরা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহলের অপর্যাপ্ততার সুযোগ নিচ্ছে বলে মনে করছেন ভুক্তভোগীরা। অনেক ক্ষেত্রে পুলিশের বিরুদ্ধেই ছিনতাইয়ে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। গত ১৭ অক্টোবর রাজধানীর খামারবাড়ি এলাকায় জসীম উদ্দিন নামের এক পুলিশ সদস্য ছিনতাই করতে গিয়ে ধরা পড়ে। জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, পালিয়ে যাওয়া অন্য দু’জনও ছিল পুলিশ সদস্য। এ ছাড়া ‘ডিবি পুলিশ’ পরিচয়ে গাড়ি থামিয়ে ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটতে দেখা গেছে।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেন, ছিনতাইসহ অন্যান্য অপরাধ ঠেকাতে নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট বসানোর পাশাপাশি র‌্যাবের টহল রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে ছিনতাইকারী গ্রেফতার ছাড়াও র‌্যাবের সঙ্গে গুলিবিনিময়ের ঘটনায় তারা হতাহত হয়েছে।

তিনি জানান, র‌্যাব চলতি বছরে ৬১টি অভিযানে ১৩২ ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করেছে। তাদের কাছ থেকে দুটি পিস্তল, একটি ওয়ান শুটারগান, পাঁচ রাউন্ড গুলি, দুটি ককটেল, ৩১টি চাকু, চারটি চাপাতি, ৪৯টি মোবাইল ফোনসেট, ৯৩ হাজার টাকা ও একটি স্বর্ণের চেইন উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ ও র‌্যাব সূত্রে জানা যায়, রাজধানীর যেসব স্থানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের টহল বা উপস্থিতি নেই, সাধারণত সেসব জায়গায় ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। কিন্তু প্রতিটি ঝুঁকিপূর্ণ স্থান বা গলিতে পুলিশ মোতায়েন করাও সম্ভব হয় না। আবার পুলিশের উপস্থিতি আছে এমন এলাকাতেও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ফার্মগেট থেকে শাহবাগ হয়ে মৎস্য ভবন পর্যন্ত সড়কে মাঝেমধ্যেই যানবাহনের যাত্রীদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে প্রতিদিন গড়ে ১০টি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এ হিসাবে মাসে প্রায় ৩০০ ছিনতাই হয়। তবে ঢাকা মহানগর পুলিশের হিসাবে চলতি বছর জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ছিনতাইয়ের ঘটনায় মাত্র ৭৯টি মামলা হয়েছে। ডিএমপির দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, যেসব ঘটনায় ভুক্তভোগী থানায় গিয়ে মামলা করেন, সেগুলোই পুলিশের খাতায় থাকে। ভুক্তভোগীদের বড় অংশই ‘পুলিশি ঝামেলা’ এড়াতে থানায় যান না। আবার মামলা করলেও লুণ্ঠিত সামগ্রী উদ্ধারের ক্ষেত্রে পুলিশের সাফল্য খুবই কম।

রক্ত ঝরে পথে :ছিনতাইয়ের অনেক ঘটনায় ভুক্তভোগীরা হতাহত হচ্ছেন। এর মধ্যে চিকিৎসক ফরহাদ আলমের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এর আগে ৮ অক্টোবর টিকাটুলিতে ছিনতাইয়ের শিকার এক ব্যক্তিকে বাঁচাতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে প্রাণ হারান বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র আবু তালহা। গত ১০

ডিসেম্বর স্বামীর সঙ্গে মোটরসাইকেলে চড়ে বাসায় ফেরার পথে ওয়ারীতে ছিনতাইকারীর গুলিতে আহত হন শাহিদা আক্তার। এর আগে ৪ ডিসেম্বর শ্যামলীতে চলন্ত বাসে উঠে শহীদুল ইসলাম নামের এক যাত্রীকে গুলি করে ব্যাগ ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। ডিবির পরিদর্শক মাহবুবুল হক ১৯ নভেম্বর মৌচাকে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে আহত হন। ২০১৪ সালের ২৪ আগস্ট কমলাপুর এলাকায় ছিনতাইয়ের সময় আহত ডা. সানজানা জেরিন এখনও অচেতন অবস্থায় আছেন।

সূত্র : সমকাল

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত