প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ওয়ার্ড-২
ভাঙা সড়কে দুর্ভোগ মাদকের ছড়াছড়ি

সাজিদ : রাজধানীর মিরপুর ১২, ১২/প ও উত্তর কালশী এলাকার বাসিন্দাদের দুর্ভোগের শেষ নেই। মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনের প্রধান সড়কের শেষ অংশ ভাঙাচোরা ও খানাখন্দে ভরা, চলাচলের অযোগ্য। প্রধান সড়কের এক তৃতীয়াংশ দখল করে গড়ে উঠেছে দোকানপাট। ফলে মিরপুর ডিওএইচএসসহ ওই এলাকায় যাতায়াতকারী লোকজনকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ নিয়ে ক্ষোভের শেষ নেই স্থানীয় বাসিন্দাদের। এছাড়া মাদকের ছড়াছড়ি, গ্যাস ও বিশুদ্ধ পানির সংকটসহ দুর্ভোগ পিছু ছাড়ছে না এলাকাবাসীর।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) তথ্য মতে, মিরপুর ১২, ১২/প ও উত্তর কালশী এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২নং ওয়ার্ড। এই ওয়ার্ডের একমাত্র কমিউনিটি সেন্টার ও বিনোদন কেন্দ্রগুলোর দুরবস্থা বহুদিনের। কমিউনিটি সেন্টারের দেয়াল স্যাঁতসেঁতে ও জরাজীর্ণ। টয়লেটের দরজা নেই। ১২নং ই ও সি ব্লকের পার্কে বিনোদন উপকরণ নেই। ই-ব্লকের পার্কে ও বাইরের অংশ দখল করে গড়ে উঠেছে দোকানপাট। ফলে বিনোদন সুবিধা থেকে বঞ্চিত ওয়ার্ডবাসী।

জানা গেছে, এ ওয়ার্ডে অনেকগুলো বস্তি ও ক্যাম্পে কয়েক লাখ দরিদ্র অসহায় মানুষ বাস করে। এরা সব ধরনের মৌলিক নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। উত্তর কালশীর প-ব্লক, হিন্দুপাড়া, ইদ্রিসের ট্যাক, ঘাঁটিপাড়ার প্রায় ২০ হাজার বাসিন্দার চলাচলের কোনো রাস্তা নেই। মিরপুর সিরামিকের রাস্তা দিয়ে তাদের চলাচল করতে হয়। সিরামিক কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট সময়ের পর লোহার গেট বন্ধ রাখলে ওই এলাকায় যানবাহন প্রবেশ করতে পারে না।

সরেজমিন দেখা গেছে, মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনের প্রধান সড়কে ময়লা ও আবর্জনার স্তূপ। সড়কের অধিকাংশ জায়গা দখল করে গড়ে উঠেছে ভাসমান দোকানপাট। ফলে সড়কে একসঙ্গে দুইটি গাড়ি চলাচলের সুযোগ নেই। ডিএনসিসির উচ্ছেদ অভিযান না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

অন্যদিকে, ডি, ই, সি এ, ত, বি ব্ল­ক ও উত্তর ডুইপের ২৯নং সড়কসহ বেশিরভাগ সড়ক চলাচলের অনুপযোগী। ই-ব্ল­কের ৫নং রোড থেকে ৩৩নং রোড, ডি-ব্ল­কের ২৯নং লাইন থেকে শহীদবাগ, ২নং লাইনের সি-ব্ল­কের ৩ ও ৪নং রোড এবং ত-ব্ল­কের সড়কগুলো ও ৫নং সুজাতনগর সড়কটি ভাঙাচোরা। এতে লোকজনকে চলাচল করতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে জানান বাসিন্দারা। তবে বেশ কিছু সড়কের উন্নয়ন কাজ চলছে। উন্নয়ন কাজে ধীরগতি থাকায় সহসাই দুর্ভোগ কমছে না ওয়ার্ডবাসীর, এমনটি জানান স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মাদকের ছড়াছড়ি ও সন্ত্রাসীদের উত্পাতে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। ডিএনসিসির মশা নিধন কার্যক্রমও দীর্ঘ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। ফলে মশার জ্বালায় অতিষ্ঠ তারা। স্থানীয় এক মুদি দোকানদার জানান, কিছু বস্তিতে রাত হলেই চলে অসামাজিক কার্যকলাপ। ফলে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।

৫নং সুজাতনগরের এক বাসিন্দা বলেন, মিরপুর ১২ সেকশনের সবচেয়ে বড় সমস্যা সন্ত্রাসীদের আনাগোনা। রাত হলেই মাদকসেবীদের অস্ত্রের মহড়া লক্ষ্য করা যায়। ফলে আবাসিক এলাকার লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ডিএনসিসির ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাজ্জাদ হোসেন বলেন, চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ খুব শিগগিরই শেষ হবে। আর ভাঙাচোরা সড়ক মেরামতে আগামী মাসে টেন্ডার দেওয়া হবে। আশা করি, কাজ শেষ হলে দুর্ভোগ কমে যাবে। তিনি আরও বলেন, আমরা মাদক নির্মূল করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ইত্তেফাক।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত