প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ফিলিস্তিনিদের নায়ক বনে যাওয়া কিশোরী তামিমিকে অপহরণ

পরাগ মাঝি : ১৬ বছরের কিশোরী আহেদ তামিমিকে এখন ফিলিস্তিনের ছেলে-বুড়ো সবাই চেনে। বলা যায়, তার মতো উন্মত্ত হয়ে একজন ইসরায়েলী সেনার মুখে আর কেউ ঘুষি মারতে পারেনি। ফিলিস্তিনের সীমানা ডিঙিয়ে তামিমি রাতারাতি বিশ্ব গণমাধ্যমেরও শিরোণাম হয়েছেন।

দখলদার ইসরায়েলীর সেনার মুখে বসিয়ে দেওয়া তামিমির ঘুষি মারার ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এটিকে দেখার জন্য এখন রীতিমতো হুমড়ি খেয়ে পড়েছে ফিলিস্তিনি সহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের মানুষেরা। তবে, ঘুষির ভিডিওটি ইসরায়েলে পৌঁছতেও খুব বেশি দেরি হয়নি। এটি দেখে এবার উন্মত্ত হয়ে পড়েছে ইসরাইলি সেনারাও।

জানা গেছে, চড়ের প্রতিশোধ নিতে ইসরাইলি সেনারা মা সহ তামিমি এবং তার ২১ বছরের চাচাতো বোনকে অপহরণ করে নিয়ে গেছে। গত শুক্রবার জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা করার প্রতিবাদে পশ্চিম তীরে বিক্ষোভ করছিল ফিলিস্তিনিরা। এ সময় ফিলিস্তিনের বিখ্যাত কিশোরী অ্যাক্টিভিস্ট আহেদ তামিমির পরিবারের এক সদস্যকে মাথায় গুলি করে ইসরাইলি সেনারা। এতে ক্ষোভে ফেটে পড়ে কিশোরী তামিমি। এ ঘটনার এক পর্যায়ে সে এক ইসরাইলি সেনাকে উন্মত্ত ভঙ্গিতে জবাবদিহি চাইতে থাকে। সেনাটি তামিমির প্রশ্নে উত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাকে আলোচিত ঘুষিটি খেতে হয়।

ঘুষি মারার দৃশ্যটি কেউ একজন মোবাইল ফোনে ভিডিও করে সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। ভিডিওটি দেখে তামিমির বিরুদ্ধে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নিতে উসকানি দেয় ইহুদিবাদী সংবাদমাধ্যমগুলো। এরপর প্রথমে মঙ্গলবার গভীর রাতে ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের উত্তর রামাল্লার নবী সালেহ গ্রাম থেকে আহেদ তামিমি ও তার মাকে অপহরণ করে নিয়ে যায় ইসরায়েলী সেনারা। পরদিন সেনারা তামিমির চাচাতো বোন নূর নাজিকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় ফিলিস্তিনি গণমাধ্যম সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ক্ষোভ বাড়ছে বলে জানা গেছে।
এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তামিমিকে ইসরায়েলের একটি সামরিক আদালতে পায়ে শেকলবাঁধা অবস্থায় দেখা গেছে বৃহস্পতিবার। তার জামিন আবেদন বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। দর্শনার্থীদের মধ্যে দাঁড়িয়ে তার বাবাকে বলতে শোনা গেছে, ‘শক্ত থাকিস, মা। শক্ত শাকিস।’ সম্পাদনা : মরিয়ম চম্পা

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত