প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জাতিসংঘে ইরানের প্রস্তাবের প্রতি বিশ্ববাসীর স্বতস্ফূর্ত সমর্থন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: “সহিংসতা ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে বিশ্ব” শীর্ষক ইরানি প্রস্তাবে বিশ্ববাসী আবারও স্বতস্ফূর্ত সমর্থন দিয়েছে। গতকাল জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ইরানের পক্ষ থেকে উত্থাপিত ওই প্রস্তাবে তৃতীয়বারের মতো সবাই সাড়া দেয়। ২০১৩ সালে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রূহানি প্রথমবারের মতো জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিয়েছিলেন।

সে সময় তিনি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সংঘটিত সহিংসতার কথা তুলে ধরে ওই প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। তখনই তাঁর ওই প্রস্তাবের পক্ষে স্বতস্ফূর্তভাবে সাড়া দেয় অন্যান্য সদস্যরা। ১৯০ টি দেশের সমর্থন পেয়ে প্রস্তাবটি শেষ পর্যন্ত গৃহীত হয়। ওই প্রস্তাবটি ইশতেহারভুক্ত হয়ে যাবার ফলে জাতিসংঘের মহাসচিব প্রতি দুই বছরে একবার “সহিংসতা ও চরমপন্থার” ওপর প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।

চার বছর আগে ইরানি প্রেসিডেন্ট যে প্রস্তাব পেশ করেছিলেন তার প্রয়োজনীয়তা আজও সমানভাবে উপলব্ধি করছে বিশ্ববাসী। তৃতীয়বারের মতো ওই প্রস্তাব গৃহীত হবার মধ্য দিয়ে সেটাই প্রমাণিত হয়।

ইরাক কিংবা সিরিয়ায় ভয়াবহ সন্ত্রাসী গোষ্ঠি দায়েশ নির্মূলের ঘটনা নি:সন্দেহে একটা ইতিবাচক ফলাফল। তাই বলে সন্ত্রাসবাদ কিংবা উগ্রবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করার প্রয়োজনীয়তা শেষ হয়ে যায় নি। যতদিন না চিন্তা-চেতনা থেকে সন্ত্রাসবাদ নির্মূল করা যাবে ততদিন এর গুরুত্ব থাকবেই।

প্রত্যেক জাতি, ধর্ম, মাজহাবই দায়েশের মতো সন্ত্রাসী গোষ্ঠিগুলোর সহিংসতার শিকার হয়েছে। সুতরাং সন্ত্রাসীদের কোনো ধর্ম নেই, মাজহাব নেই। যদি কোনো দেশ বা মাজহাবের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে সহযোগিতার অভিযোগ করা হয় তাহলে সহিংসতা ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হবার ক্ষেত্রে তা সাহায্য করবে না। উগ্রতা ও সন্ত্রাসবাদ এখন একটা আন্তর্জাতিক সমস্যা। এ সমস্যার মূলে রয়েছে কোনো কোনো দেশের ভ্রান্তনীতি। সন্ত্রাসবাদকে কেউ যদি হাতিয়ার হিসেবে দেখে তাহলে সহিংসতা বৃদ্ধি পাবে এটাই স্বাভাবিক। আর কোনো দেশ, জাতি বা মাজহাবের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ আনলে মূলত সন্ত্রাসবাদের প্রতি সমর্থন দেয়া হয় এবং বিদ্যমান বাস্তবতাকে আড়াল করা হয়।

ইরানের প্রেসিডেন্ট চরমপন্থাকে একটা বিশ্বজনীন সমস্যা বলে উল্লেখ করে বলেন: “সহিংসতা ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে বিশ্ব”-এই ধারণাটি বিশ্বের সকল মানুষের কানে পৌঁছাতে হবে। তৃতীয়বারের মতো এই প্রস্তাবটি জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে গৃহীত হবার মধ্য দিয়ে ইরানের সততা ও ভবিষ্যৎ দৃষ্টির বিষয়টি আবারও প্রমাণ হলো। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো কোনো দেশ, জাতি বা মাজহাবকে সন্ত্রাসবাদের প্রতি সমর্থন দেয়ার অভিযোগ না তোলা। ইরানের দৃষ্টিভঙ্গি যে যথার্থ এবং সুদূরপ্রসারী ছিল সেটা আরও এবার প্রমাণ হলো। জাতিসংঘে মোতায়েন ইরানে স্থায়ী প্রতিনিধি গোলাম আলি খোশরুও তাই বলেছেন, এই ইশতেহার জাতিসংঘে এবং ইরানের নীতির আরো একটি সাফল্যের নমুনা। এর মাধ্যমে বিশ্ববাসীর কাছে আরও প্রমাণ হলো যে ইরান একটি শান্তিকামী দেশ। – পার্সটুডে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত