প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের কার্যকারিতা নিয়ে সংশয়

জুয়াইরিয়া ফৌজিয়া: রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ-মিয়ানমারে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তবে কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে কারও কারও। অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া জটিলই হবে।

২৩ নভেম্বর মিয়ানমারের রাজধানী নেপিদোতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সঙ্গে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিষয়ে সমঝোতা স্মারক সই হয়। সেই অনুসারে ২৩ জানুয়ারির মধ্যে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করতে মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) ঢাকায় দুই দেশের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠিত হয়। একই সঙ্গে চূড়ান্ত করা হয় যৌথ ওয়ার্কি গ্রুপের ‘র্টানস অব রেফারেন্স’।

কমিটি শুধু রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসন নয়, রাখাইনে তাদের সুষ্ঠু পুনর্বাসন এবং মিয়ানমারের সমাজে তাদের একীভূত করার প্রক্রিয়ার সঙ্গেও জড়িত থাকবে। তবে তা বাস্তবায়ন নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ূন কবির বলেন, রাখাইনে যদি রোহিঙ্গাদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি না করা হয় তাহলে তারা যাবে কিভাবে সেখানে? রোহিঙ্গদের মনে এসেছে মনেও আস্থা এবং বিশ্বাস তৈরি হতে হবে যে ওখানে গেলে তারা নিরাপদ থাকবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাহাব এনাম খান বলেন, ফিজিক্যাল এরেঞ্জমেন্ট-এগ্রিমেন্ট বাংলাদেশ বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, যেন এটা জানুয়ারির মধ্যে তৈরি হয়ে যায় এবং সেটা যদি তৈরি হয়ে যায় তাহলে মিয়ারমার আর একটু ট্রান্সপারেন্টভাবে এখানে চলে আসবে।

অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে এবং বর্তমান প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করে যে কোনো ধরণের সিন্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে এই কমিটিকে। কোনো বিষয়ে ওয়ার্কিং গ্রুপ একমত হতে না পারলে তা নিজ নিজ সরকারের কাছে পাঠাবে এবং ৩ মাসের মধ্যেই মিমাংসা করা হবে। তবে এই বিষয়গুলো নিয়েও ভিন্নমত আছে বিশ্লেষকদের মধ্যে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সাহাব এনাম খান বলেন, ওয়ার্কিং গ্রুপের সদস্যরা যেকনো জায়গায় ফিজিক্যালি ভিজিট করতে পারবেন এবং এই ভিজিট করার ফলে তারা যে তথ্যগুলো পাবে সেটা তারা মিডিয়ার সামনে তুলে ধরতে পারবে। ফলে যেকনো ধরণের মাল্টি ডিমেনশোনাল প্রেসার ক্রিয়েট করা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত ইফেক্টিভ হবে।

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন-পুনর্বাসন এবং একীভূত করার সব ধাপেই জাতিসংঘের কোনো একটি সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক অন্যান্য সংস্থাকে যুক্ত করার বিষয়েও দুই পক্ষই একমত হয়েছে।

সূত্র- ডিবিসি নিউজ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত