প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ইসলামের দৃষ্টিতে রাশিচক্র

মুফতি আবদুল্লাহ তামিম : ইসলাম সবকিছুই মানব জাতির জন্য বলে দিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা মানুষের তাকদীর নির্ধারণ করেছেন। তারপরও মানুষ জানতে চায় কী হবে তার জীবনে। কী লেখা আছে তার ভাগ্যে। ছুটে যায় জ্যোতিষী বা গণকের কাছে। ইসলাম বলে জ্যোতিষশাস্ত্র চর্চা শুধু হারামই নয় একজন জ্যোতিষবিদের কাছে যাওয়া এবং তার ভবিষ্যদ্বাণী শোনা, জ্যোতিষশাস্ত্রের উপর বই কেনা অথাব একজনের কোষ্ঠী যাচাই করা নিষেধ। যেহেতু জ্যোতিষশাস্ত্র প্রধানত ভবিষ্যদ্বাণী করার জন্য ব্যবহৃত হয়, যারা এই বিদ্যা চর্চা করে তাদের জ্যোতিষী বা গণক বলে গণ্য করা হয়। আর হযরত হাফসা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন- যে গণকের কাছে যায় এবং কোন বিষয়ে জিজ্ঞাসা করে তার চল্লিশ দিন ও রাত্রির নামাজ গ্রহণযোগ্য হবে না। (মুসলিম- ৫৫৪০) যে কোনো ধরণের অদৃশ্যের সংবাদ আল্লাহ ছাড়া অন্য কেউ জানে বলে বিশ্বাস করলেই সে শিরিক করলো। আল্লাহ বলেন- অদৃশ্যের কুঞ্জি তাহারই নিকট রহিয়াছে, তিনি ব্যতীত কেহ জানে না। (সূরা আনআম- ৫৯) বল আল্লাহ ব্যতীত আকাশ মন্ডলী ও পৃথিবীতে কেহই অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান রাখে না। (সুরা নামল- ৬৫)

জ্যাতিষী যাই বলুক অথবা যা কিছুই জ্যোতিষশাস্ত্রের বইয়ে থাকুক, কেউ তার রাশিচক্রে প্রদত্ত ভবিষ্যদ্বাণী বিশ্বাস করলে সে সরাসরি কুফরি (অবিশ্বাস) করে। কারণ রাসুল (সা.) কে আল্লাহ বলেছেন, বল, আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন তা ব্যতীত আমার নিজের ভাল মন্দের উপরও আমার কোন অধিকার নেই। আমি যদি অদৃশ্যের খবর জানতাম তবে তো আমি প্রভূত কল্যাণই লাভ করতাম কোন অকল্যাণই আমাকে স্পর্শ করত না। আমিতো শুধু মু’মিন সম্প্রদায়ের জন্য সর্তককারী ও সুসংবাদবাহী। (সুরা আ’রাফ- ১৮৮)

রাশিচক্রের কলাম পড়া অথবা পড়তে শোনাও অনুচিত। যে মুসলমান তার কার্যক্রম নির্ধারণ করতে জ্যোতিষতত্ত্ব সম্বন্ধীয় পূর্বাভাস ব্যবহার করে, তার উচিত আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থণা (তওবা) করা। আল্লাহর কাছে দোয়া আর চাওয়ার মাধ্যমেই আপনি আপনার ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারেন। আল্লাহর কাছে চাইলেই আল্লাহ আপনাকে দিবে। কারণ আল্লাহ চানই বান্দা যেনো তার কাছে হাত পেতে চায়। তাই আল্লাহ্ আমাদের সবাইকে শিরক এবং কুফর থেকে বেঁচে থাকার তউফিক দান করুক। আমিন।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত