প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিশ্বকাপ ফুটবল-২০১৮
রাশিয়ায় মাঠ রাঙাতে প্রস্তুত বাংলাদেশি রেপ্লিকা জার্সি

ডেস্ক রিপোর্ট : দরজায় কড়া নাড়ছে রাশিয়া বিশ্বকাপ। ২০১৮ সালের জুনে শুরু হবে বিশ্ব ফুটবলের জমজমাট এই আসর। রাশিয়ার ১১টি শহরে অনুষ্ঠিত খেলা দেখবেন বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ। যাদের সৌভাগ্য হবে তারা স্টেডিয়ামে গিয়েই উপভোগ করবেন বিশ্বমাতানো ফুটবল। আর যাদের সৌভাগ্য হবে না, তারা টিভির পর্দায় মেসি, রোনালদো, নেইমারদের নৈপুণ্য দেখবেন। শুধু তা-ই নয়, দর্শকরা প্রিয় দলের কিংবা খেলোয়াড়ের জার্সির সঙ্গে মিলিয়ে নিজেরা জার্সি পরবেন। জার্সি পরে স্টেডিয়ামসহ বিভিন্ন শহরে ঘুরে বেড়াতে প্রস্তুত হচ্ছেন বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী। আর তা সামনে রেখে ব্যস্ত বাংলাদেশের নিট পোশাক ব্যাবসায়ীরা।

জানা গেছে, রাশিয়ার বিশ্বকাপ কেন্দ্র করে জার্সিসহ অন্যান্য প্রসাধনী তৈরি করছে বাংলাদেশের প্রায় অর্ধশত পোশাক কারখানা। এর মাধ্যমেই আগামী বিশ্বকাপের মাঠ রাঙাবে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ লেখা বাংলাদেশের পোশাক ও অন্যান্য প্রসাধনী। একই সঙ্গে ২০২২ সালে কাতারে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপ ফুটবলের ২২তম আসর সামনে রেখেও এখন থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের বাজার ধরতে তৎপরতা শুরু করেছেন পোশাকশিল্প মালিকরা।

বাংলাদেশের নিট গার্মেন্টস মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশ থেকে এর আগেও ব্রাজিল বিশ্বকাপে জার্সি বা রেপ্লিকা নিয়েছে ফিফা। আগের বিশ্বকাপের মতো এবারও বাংলাদেশের প্রায় অর্ধশত কারখানায় জার্সি, মোজা, বিভিন্ন দেশের লোগো সংবলিত ক্যাপ, ট্র্যাকসুটের অর্ডার দেওয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, বাংলাদেশ গত বিশ্বকাপ উপলক্ষে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকার পোশাক রপ্তানি করেছে। খেলোয়াড়দের পরনে থাকা জার্সির আদলে তৈরি এসব পোশাক মূলত খেলোয়াড় বা দলগুলোর সমর্থক-দর্শকদের জন্য। তাই এই জার্সিকে বলা হয় ‘রেপ্লিকা জার্সি’।

২০১৮ সালের বিশ্বকাপে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ রেপ্লিকা জার্সির অর্ডার পেয়েছে অবন্তি কালার টেক্স। এ বিষয়ে কারখানাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসলাম সানী জানান, পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। তাই যে কোনো বড় আয়োজনে আয়োজকরা পোশাকের জন্য বাংলাদেশের কথা ভাবেন। বিশ্বকাপ ফুটবলের মতো এতো বড় আয়োজনে মাঠের বেশিরভাগ জুড়েই থাকবে মেইড ইন বাংলাদেশের পোশাক; যা আমাদের জন্য সম্মানের। চলতি বছরের শুরু থেকে রাশিয়া বিশ্বকাপের বিভিন্ন ধরনের রেপ্লিকা জার্সি তৈরি করছে বাংলাদেশ।

তিনি আরও বলেন, খেলোয়াড়দের জার্সি লাগে অল্প। আর এই জার্সিগুলোর আলাদা আলাদা স্পন্সর থাকে। যে কারণে সরাসরি খেলোয়াড়দের জার্সি বানানোর সুযোগ নেই। তবে মাঠের বাইরে রেপ্লিকা জার্সিতে বাংলাদেশ এক নম্বর অবস্থানে আছে।

বিশ্বকাপে সেরা দেশগুলোর জন্যই জার্সি তৈরি হচ্ছে জানিয়ে আসলাম সানী বলেন, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, ইটালি, ইরান, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, বেলজিয়াম, চিলি, জার্মানিসহ সেরা সব দেশের জন্যই জার্সি তৈরি হচ্ছে।

ব্রাজিল বিশ্বকাপে সব থেকে বেশি অর্ডার পেয়েছিল ইপিলিয়ন গ্রুপ। সামনের বিশ্বকাপে তাদের কাজ প্রসঙ্গে গ্রুপের চেয়ারম্যান রিয়াজ উদ্দিন আল মামুন বলেন, এবার বিশ্বকাপে খুব একটা কাজ করছি না। তবে বিশ্বকাপঘিরে বড় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের হয়ে ফ্যান পোলো বানানো হচ্ছে।
বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী বলেন, রাশিয়ার বিশ্বকাপ নিয়ে আমাদের আগে থেকেই পরিকল্পনা ছিল। ইউরোপের নতুন বাজারগুলোর মধ্যে রাশিয়ায় রপ্তানির সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে কয়েক বছর ধরেই। তবে বিশ্বকাপঘিরে এই রপ্তানি-বাণিজ্য আরও বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।

মুর্শেদী বলেন, বিভিন্ন দেশ থেকে রাশিয়া গত বছর ৫০০ কোটি ডলারের পোশাক আমদানি করেছে। বর্তমানে বাংলাদেশ দেশটিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পোশাক রপ্তানিকারক। অন্যদিকে গত অর্থবছরে রাশিয়ায় ৩৭ কোটি ৯৪ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এই রপ্তানি তার আগের অর্থবছরের ২৪ কোটি ৯১ লাখ ডলারের চেয়ে ৫২ দশমিক ২৭ শতাংশ বেশি। তাই সামনের অর্থবছরে রাশিয়ায় পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের অবস্থান এক নম্বরে থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অন্যদিকে ২০২২ সালে কাতারে বিশ্বকাপ ফুটবলের আগে ২০২০ সালে দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত হবে ওয়ার্ল্ড এক্সপো-২০২০। এ দুটি আয়োজনে বিশ্বের প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ মানুষের সমাগম হবে বলে মনে করছেন পোশাকশিল্প মালিকরা। তাই এ দুই আয়োজন সামনে রেখে পোশাকের রফতানি বৃদ্ধি নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সরকারি প্রতিনিধি ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন পোশাকশিল্প মালিকরা।

এ বিষয়ে সালাম মুর্শেদী বলেন, যে কোনো বড় আয়োজনঘিরে পোশাক মালিকরা আগে থেকেই পরিকল্পনা করেন। আর নতুন বাজার ধরতে বড় আয়োজনকে টার্গেট করা যথাযথ। তাই মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি যতটুকু পিছিয়ে আছে তা হয়ত সামনের বড় দুটি আয়োজনের মধ্যে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) পরিসংখ্যান অনুযায়ী চলতি অর্থবছরেও মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে রফতানি আয়ের প্রবাহ কমেছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরের (জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি) আট মাসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আয় হয়েছিল ৫০ কোটি ৮৪ লাখ ডলার; কিন্তু চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছরের একই সময়ে এ আয় কমে ৪৫ কোটি ১৫ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ হিসাবে মধ্যপ্রাচ্য থেকে আয় কমেছে ১১ শতাংশ।

মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানি হয়, তার মধ্যে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, ইরাক, ইরান, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, সিরিয়া ও ইয়েমেন। তবে সবচেয়ে বেশি আয় হয় সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব থেকে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের আট মাসে পোশাকপণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয় ১২ কোটি ডলারের কিছু বেশি। আর চলতি অর্থবছরে এ আয় কমে ১১ কোটি ডলারে ঠেকেছে। সৌদি আরবে চলতি অর্থবছরের আট মাসে পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৪ কোটি ৭২ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে তা ছিল ৪ কোটি ৮১ লাখ ডলার।

সূত্র : আমাদের সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত