প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রোবটের শরয়ী বিধান

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা : রোবট, একটি যান্ত্রিক কিংবা কাল্পনিক, কৃত্রিম কার্যসম্পাদককে বলা হয়। এটি সাধারণত একটি ইলেক্ট্রো-যান্ত্রিক ব্যবস্থার নাম, যার কাজকর্ম, অবয়ব ও চলাফেরা দেখে মনে হয় এটি স্বেচ্ছায় কাজ করছে। যেহেতু এখন আর্টিফিসিয়াল ইন্টিলিজেন্সের যুগ। তাই এদের কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাও আছে। প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান বিশ্বে রোবট বিভিন্ন কাজে মূলত মানুষের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

মানুষের দৈনন্দিন কাজকে সহজ করতে দিন দিন এ শিল্পকে আরও উন্নত করার চেষ্টা চলছে। পিছিয়ে নেই আমাদের বাংলাদেশও। গত ১৬ নভেম্বর রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় উদ্বোধন হয়ে গেল রোবট রেস্টুরেন্ট। যেখানে যে কেউ নিতে পারবে রোবটের সেবা। ইতিমধ্যেই ঢাকায় পৌঁছেছে সৌদি রোবট নাগরিক সোফিয়া। যে কিনা মানুষের ভাবভঙ্গি বুঝতে ও হাসি-কান্না, রাগ-অভিমানসহ নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে। কেউ তার সঙ্গে কথা বললে তাদের বোঝার চেষ্টা করে সে। সামনে মানুষ না থাকলে নিজে নিজে মুভি চালিয়ে দেখে। ভাবতে পারে জগৎ, সংসার, সংস্কৃতি ও দর্শন নিয়েও। বোঝা যাচ্ছে খুব শিগগিরই আমাদের পরিবারের অংশ হতে চলেছে রোবট। তাই রোবটের শরয়ী দিকগুলো নিয়েও কিছুটা আলোচনা হওয়া সময়ের দাবি।

কেমন রোবট ব্যবহার করা জায়েজ : যেসব রোবট মূলত মূর্তি (মানুষ বা কোনো প্রাণীর অবয়বে বানানো) তা ব্যবহার সম্পূর্ণ হারাম। কেননা কোনো প্রাণীর মূর্তি নির্মাণ করা ইসলামী শরিয়তে কঠিন কবিরা গুনাহ ও হারাম। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে— ‘তোমরা পরিহার কর অপবিত্র বস্তু অর্থাৎ মূর্তিসমূহ এবং পরিহার কর মিথ্যাকথন।’ (সূরা হজ : ৩০)।

এ আয়াতে পরিষ্কারভাবে সব ধরনের মূর্তি পরিত্যাগ করার এবং মূর্তিকেন্দ্রিক সব কর্মকাণ্ড বর্জন করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। তবে রোবট যদি কোনো প্রাণী অবয়বে না বানানো হয় তাহলে তা ব্যবহার করা জায়েজ হবে। যেমন বিশ্বের প্রথম রান্না করতে জানা রোবট মোলি, যে কিনা একশরও বেশি পদ রান্না করতে জানে। ২০১৮ সালেই তারা মলিকে বিশ্বের প্রথম অটোমেটিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন রোবট হিসেবে বাজারে আনবে।

রোবটের সঙ্গে বিয়ে : সম্প্রতি সোফিয়া নামক রোবটটি বাংলাদেশে আসার পর অনেক তরুণই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দুষ্টমির ছলে সোফিয়াকে বিয়ে করার আশা ব্যক্ত করেছে। এতে অনেকের মনে এ প্রশ্ন জাগতেই পারে যে, রোবটকে বিয়ে করা কেন জায়েজ হবে না। চলুন সে বিষয়েও কিছুটা আলোচনা করা যাক। সূরা নাহালের ৭২ নাম্বার আয়াতে মহান আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, ‘আর আল্লাহ তোমাদের জন্য তোমাদের থেকে জোড়া সৃষ্টি করেছেন’। সূরায়ে নিসার ৩ নাম্বার আয়াতে মহান রাব্বুল আলামিন আরও বলেন, ‘তাহলে তোমরা বিয়ে কর নারীদের মধ্যে যাকে তোমাদের ভালো লাগে’। বোঝা গেল আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে যে নারীকে বিয়ে করার কথা বলেছেন সে আদম সন্তান। সুতরাং অন্য কোনো জাতির সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া জায়েজ নেই। (ফাতাওয়ায়ে শামী ৩/৫, বাদাইউস সানায়ে’ ৭/৩৬)।

রোবটের মাধ্যমে জৈবিক চাহিদা পূরণ : বর্তমান দুনিয়াতে জৈবিক চাহিদা পূরণের জন্য কিছু সেক্স রোবট/ সেক্স ডল বানানো হয়। যা অত্যন্ত লজ্জাজনক ও হারাম কাজ। এ ধরনের উদ্ভাবন বিশ্বকে দ্রুত ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘(অবশ্যই মুমিনগণ সফল হয়েছেন)… আর যারা তাদের নিজদের লজ্জাস্থানের হেফাজতকারী। তবে তাদের স্ত্রী ও তাদের মালিকানা (শরয়ী) বান্দী ছাড়া, নিশ্চয় এতে তারা নিন্দিত হবে না। অতঃপর যারা এদের ছাড়া অন্যকে কামনা করে তারাই সীমা লঙ্ঘনকারী।’ (সূরা মুমিনুন আয়াত নং ১ ও ৫-৭)।

তাফসিরে মাআরিফুল কোরআনে এ আয়াতের ব্যাখ্যায় লেখা হয়েছে— নিজের বিবাহিতা স্ত্রী কিংবা শরিয়তসম্মত বান্দী (যা বর্তমানে মানসুখ হয়ে গেছে) ছাড়া আর কোনো পদ্ধতিতে জৈবিক চাহিদা পূরণ করার সুযোগ নেই। এ দুটি পদ্ধতি ছাড়া পৃথিবীতে জৈবিক চাহিদা পূরণের যত পন্থা আছে সব নিষিদ্ধ। (তাফসিরে মাআরিফুল কোরআন উর্দু : ৬/২৯৭)।

লেখক : প্রাবন্ধিক, গবেষক।

সূত্র : বিডি প্রতিদিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত