প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ক্ষুদ্র উদ্যোগে ঋণ বাড়ছে

ডেস্ক রিপোর্ট : বাণিজ্যিক ঋণে ঝুঁকেছে ক্ষুদ্রঋণ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। ছোট ও মাঝারি উদ্যোগে ঋণ দিতে বেশি আগ্রহ তাদের। পাশাপাশি এনজিও লিংকেজে ব্যাংকের কৃষিঋণ বিতরণ করার ফলে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট কৃষিঋণ বিতরণ বাড়ছে।

ক্ষুদ্রঋণ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির (এমআরএ) সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্নেষণ করে এ চিত্র পাওয়া গেছে। গত বছরের জুন পর্যন্ত তথ্য দিয়ে এমআরএ এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে এমআরএর সনদপ্রাপ্ত ৩৬০টি প্রতিষ্ঠান ১৫ লাখ ৭৩ হাজার প্রতিষ্ঠানকে ১৯ হাজার ২০০ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে। বিতরণ ও পরিশোধের পর ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ১১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় ২৭ শতাংশ গেছে ক্ষুদ্র উদ্যোগে। সংস্থাটি বলছে, ওই অর্থবছরে দেশের সবচেয়ে বড় ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক সারাদেশে চার লাখ ১৭ হাজার গ্রাহককে আট হাজার ৭০০ কোটি এবং আশা দুই লাখ গ্রাহককে দুই হাজার ৬০০ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছে। এ ছাড়া জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশন প্রায় তিন লাখ গ্রাহককে উদ্যোগ ঋণ দিয়েছে।

বাণিজ্যিকভাবে হাঁস, মুরগি, পশুপালন ও মাছ চাষ করার জন্য ঋণ দিচ্ছে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলো। এ ছাড়া চাতাল, চালকল, কোল্ডস্টোরেজ, মুদি দোকান, কাপড়ের দোকান, গার্মেন্টস পণ্য সেলাই ও বিক্রি, ওয়ার্কশপ স্থাপন এবং হস্তশিল্পের ব্যবসায়ও তারা ঋণ দিচ্ছে। এসব কাজে একজন গ্রাহককে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দিতে পারে তারা। এমআরএ বিধিমালায় ক্ষুদ্র উদ্যোগে ঋণ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। বিধিমালায় বলা হয়েছে, ক্ষুদ্র উদ্যোগে ঋণের পরিমাণ যেকোনো সময়ের মোট ঋণের অর্ধেকের বেশি হবে না।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের সাবেক অধ্যাপক এম এ বাকী খলিলী বলেন, সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পাশাপাশি ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন হচ্ছে। ঋণের আকারও বড় হচ্ছে। এখন অনেকটা বাণিজ্যিক দৃষ্টিতে ঋণ বিতরণ করা হচ্ছে।

জাগরণী চক্রের পরিচালক (কর্মসূচি) হাসান আরেফ বলেন, অনেক আগে দেশে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শুরুতে দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকা দেওয়া হতো। বর্তমানে অনেক সদস্য হতদারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে এসেছে। এসব গ্রাহকই এখন ছোট ছোট উদ্যোগ নিচ্ছেন। তাদের ঋণ দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানগুলো। আবার অনেকে ভালো উদ্যোগ শুরু করায় প্রতিষ্ঠানগুলোও এগিয়ে যাচ্ছে। এ কারণে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক ঋণ বাড়ছে।

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠী যাদের জামানত দেওয়ার সক্ষমতা নেই তাদের ঋণ দেওয়ার জন্য আশির দশকে গ্রামীণ ব্যাংকের মাধ্যমে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু হয় দেশে। এরপর দুই দশকে দেশে কয়েক হাজার প্রতিষ্ঠান কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই ক্ষুদ্রঋণ ব্যবসায় নেমে পড়ে। ১০ বছর আগে ২০০৬ সালে সরকার এ খাতকে নিয়ন্ত্রণের জন্য এমআরএ গঠন করে। এমআরএ ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিভিন্ন যোগ্যতা নির্ধারণ করে দেয়। এরপর ধারাবাহিকভাবে দেশে ক্ষুদ্রঋণ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমছে। গত বছরের জুন পর্যন্ত এমআরএ সনদপ্রাপ্ত ৬৮০টি প্রতিষ্ঠান ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ করছে। ২০১৫ সালের জুনে যা ছিল ৬৯৭টি। এদের বাইরে গ্রামীণ ব্যাংক এবং সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলো ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ করছে। এছাড়া সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ১০টি সংস্থা বিভিন্ন কর্মসূচির অধীনে ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ করছে। শুরুতে শুধু নারীদের এ ঋণ দেওয়া হলেও বর্তমানে পুরুষদেরও দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে মোট ক্ষুদ্রঋণের ১০ ভাগ পাচ্ছেন পুরুষ গ্রাহকরা।

ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের তহবিলের উৎস :ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের তহবিলে বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঋণের অংশ ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। ২০১৬ সালের জুন শেষের হিসাবে দেখা গেছে, মোট তহবিলের ১৯ দশমিক ১৬ শতাংশ অর্থাৎ ৯ হাজার ৫০১ কোটি টাকা এসেছে ব্যাংক ঋণ থেকে। অপরদিকে কমেছে দাতা প্রতিষ্ঠানের তহবিল। সর্বশেষ হিসাবে দাতা তহবিলের পরিমাণ ৫১১ কোটি টাকা, যা আগের বছরের জুনে ছিল ৫২২ কোটি টাকা। সদস্যদের সঞ্চয় থেকে সবচেয়ে বেশি ১৭ হাজার কোটি টাকার তহবিল এসেছে। সমকাল

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত