প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এক স্কুলের শতবর্ষ, স্কুলে স্কুলে লটারি টিকেট

ডেস্ক রিপোর্ট : টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তির অনুষ্ঠান উপলক্ষে প্রশাসনের সহায়তায় বিভিন্ন বিদ্যালয়ে লটারির টিকেট বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।

আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক বলেছেন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার অনুমতি নিয়েই তারা লটারি বিক্রির ব্যবস্থা করেছেন। আর শিক্ষা কর্মকর্তা বলেছেন, লটারির বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।

বিষয়টি নিয়ে সমালোচনার প্রেক্ষাপটে লটারির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করার নির্দেশ দেওয়ার কথা বলেছেন ইউএনও শাহীনা আক্তার।

কালিহাতী উপজেলার খিলদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তির ওই অনুষ্ঠান হবে ৩১ ডিসেম্বর। ওই অনুষ্ঠান উপলক্ষে ছাপানো লটারির টিকেট বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন প্রাথমিক স্কুলে।

২০ টাকা দামের এই লটারির পেছনে একটি মোটর সাইকেলসহ ৫১টি পুরস্কারের কথা বলা হয়েছে।

সরেজমিনে ঘুরে এলেঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাজাবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাকরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খিলদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুচুটি খিলদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও নারান্দিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে টিকেট বিক্রি হতে দেখা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাকরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ার হোসেন বলেন, “উপজেলার সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের ডেকে মিটিং করে শিক্ষা কর্মকর্তারা আমাদের হাতে ওই লটারি ধরিয়ে দেন। এ কারণে আমরা লটারি বিক্রি করছি।”

আর বাংড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সৈয়দা ফাহমিদা রহমান বলেন, “সংসদ সদস্যের বরাতে শিক্ষা কর্মকর্তারা আমাকে লটারির টিকেট বিক্রি করতে অনুরোধ করেন। কিন্তু আমি নিতে অস্বীকার করি, কারণ এটা অনৈতিক। এটা বলায় খিলদা সরকারি স্কুলের শিক্ষকরাও এমপির বরাত দিয়ে আমাকে টিকেট নিতে বলেন। তারপরও আমি নিইনি। কারণ আমার স্কুলে ভ্যানচালকের ছেলেমেয়েরাও পড়ে। এ রকম কাজ আমার পক্ষে করা সম্ভব হবে না।”

লটারি যে বিক্রি হচ্ছে, সে কথা স্বীকার করেছেন খিলদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলামও।

তিনি বলেন, “অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান আসবেন। বড় আয়োজন। তবে আমরা লটারি বিক্রি বন্ধ করে দেব।”

ওই অনুষ্ঠানে মন্ত্রীর যাওয়ার কর্মসূচি রয়েছে বলে তার একজন সহকারী একান্ত সচিবও জানিয়েছেন।

অনুষ্ঠান আয়োজক কমিটির লাকি কুপন বিষয়ক উপ কমিটির আহ্বায়ক আবু বকর সিদ্দিকী বলেন, টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের সংসদ সদস্য হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসাম্মৎ শাহীনা আক্তার ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শামছুল আলমের অনুমতি নিয়েই উপজেলার সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লটারি বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

কালিহাতী উপজেলায় মোট ১৭২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলায় শিক্ষা কর্মকর্তা শামছুল আলম। তবে লটারির বিষয়ে কিছু ‘জানেন না’ বলে দাবি করেছেন তিনি।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল আজিজও একই কথা বলেছেন।

“আমাকে খিলদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, শতবর্ষপূর্তির অনুষ্ঠানে মন্ত্রী মহোদয় আসবেন। তবে লটারি বিক্রির বিষয়টি আমার জানা নেই।”

লটারি বিক্রির অনুমতি দেওয়ার কথা সংসদ সদস্য হাসান ইমামও অস্বীকার করেছেন।

ইউএনও শাহীনা আক্তার বলেন, ওই অনুষ্ঠানে মন্ত্রীর আসার কথা তিনি সাংসদের কাছে শুনেছেন। তবে সরকারিভাবে এখনও উপজেলা প্রশাসনকে কিছু জানানো হয়নি।

“লটারির বিষয়টা শোনার সাথে সাথে আমি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে বলেছি, কে এটা করল, কার অনুমতি নিয়ে করল, সেটা চিহ্নিত করে যেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়।”

সূত্র : বিডিনিউজ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত