প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পরিচয় নিশ্চিত না হয়ে হোটেলকক্ষ ভাড়া নয়

ডেস্ক রিপোর্ট : রাজধানীর বনানী এলাকার বেশ কয়েকটি আবাসিক হোটেলে তরুণীদের ডেকে নিয়ে ধর্ষণের ঘটনায় অস্বস্তিতে পড়েছে প্রশাসন। এ অবস্থায় বনানী ও গুলশান এলাকার হোটেল কর্তৃপক্ষদের নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

বৈঠকে হোটেলকক্ষ ভাড়া দেওয়ার আগে বিবাহিত দম্পতির বিষয়ে নিশ্চিত হতে বলা হয়েছে। এছাড়া অবিবাহিত কাউকে ভাড়া দিতে হলে নাম-পরিচয় এবং সম্পর্ক নিশ্চিত হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে পুলিশ।

বনানী থানা সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেলে ডিএমপি গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনারের (ডিসি) কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে গুলশান বিভাগের ডিসি মোস্তাক আহমেদসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আসন্ন বড়দিন ও থার্টি ফার্স্ট নাইট উপলক্ষে সার্বিক নিরাপত্তায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও প্রধান আলোচনার বিষয় ছিল হোটেলগুলোতে তরুণীদের ডেকে নিয়ে ধর্ষণের ঘটনা। বৈঠকে বনানী ও গুলশান এলাকার প্রায় সব আবাসিক হোটেল কর্তৃপক্ষ উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র জানায়, বিবাহিত দম্পতি ছাড়া হোটেলকক্ষ ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি নির্দেশনা দিয়েছেন ডিসি। অবিবাহিত কেউ কক্ষ ভাড়া করলে তাদের মধ্যে সম্পর্ক এবং বাধ্যতামূলকভাবে জাতীয় পরিচয়পত্র দেখে পরিচয় নিশ্চিত হতে বলা হয়েছে।

এছাড়াও প্রতিটি হোটেলে বাধ্যতামূলকভাবে সিসি টিভি ক্যামেরা লাগিয়ে গতিবিধি লক্ষ্য রাখতে হবে। প্রবেশপথে থাকতে হবে আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টর।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বুধবার (২০ ডিসেম্বর) বনানী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল মতিন জানান, ধর্ষণের ঘটনাসহ সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে হোটেল কর্তৃপক্ষকে সব ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সবশেষ গত ১৩ ডিসেম্বর ধর্ষণের অভিযোগে সঙ্গীতশিল্পী আনুশেহ আনাদিলের ভাই কুশান ওমর সূফির বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে বনানী থানায় মামলা (নম্বর-১৪) দায়ের করেন এক তরুণী।

মামলার এজাহারে তরুণী জানান, বিয়ের আলোচনার কথা বলে ওই তরুণীকে গত ২০ নভেম্বর রাত আনুমানিক ১২টা ২০ মিনিটে বনানীর হোটেল সুইট ড্রিমে (রুম নম্বর- ৮০৫) নিয়ে যান কুশান। কিন্তু কুশান হোটেলে যাওয়ার পর বিয়ের বিষয়ে কোনো কথা-বার্তা না বলে হঠাৎ তরুণীকে মারধর করে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন।

পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন রাতে কুশান ও মামলার বাদী তরুণীর মধ্যে অনেক ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে হোটেল কর্তৃপক্ষ পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ তাদের দু’জনকে থানায় নিয়ে আসে। কিন্তু সকালের দিকে বাদী ও বিবাদীর পক্ষের স্বজনরা এসে বিষয়টি মীমাংসা করে। কিন্তু পরে ওই তরুণী বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

আব্দুল মতিন বলেন, মামলার আসামি কুশানকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ভিকটিমের মেডিকেল রিপোর্ট এখনো হাতে পাইনি। সার্বিক বিষয়গুলো সামনে রেখে তদন্ত চলছে।

সূত্র : বাংলানিউজ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত