প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

লড়াই হবে জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগে
কে হচ্ছেন রংপুরের নগরপিতা ?

তারেক : কে হচ্ছেন রংপুরের নগরপিতা। তা নির্ধারণে ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার। প্রায় চার লাখ ভোটার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। সকাল আটটা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হবে। বিরতি ছাড়াই বিকেল চারটা পর্যন্ত চলবে। ইসি জানিয়েছে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদা বলেছেন, ভোটের জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

ভোটগ্রহণের জন্য ব্যালট পেপারসহ যাবতীয় ভোটের সরঞ্জামসহ কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। কেন্দ্রে কেন্দ্রে বিশেষ নিরাপত্তা গ্রহণের পাশাপাশি পুরো নির্বাচনী এলাকায় নিরাপত্তার চাদরে ঘিরে ফেলা হয়েছে। ভোটের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরিতে বিজিবি, র‌্যাবসহ ৫ হাজারের বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। রংপুুর সিটিতে মেয়র, সাধারণ কাউন্সিলর সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ২৮৩ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে। এর মধ্যে একটি মেয়র পদের বিপরীতে আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থীসহ ৭ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়া ৩৩টি সাধারণ ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদের বিপরীতে প্রার্থী রয়েছে ২১১ জন এবং ১১টি সংরক্ষিত কাউসিলর পদে ৬৫ নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।

নগরীর ৩৩টি ওয়ার্ডের মোট ১৯৩টি ভোট কেন্দ্রের ১ হাজার ১৭৭টি গোপন কক্ষে ভোট প্রদান করবেন ভোটাররা। মেয়র পদে দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচন হবে। কাউন্সিলর এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ভোট অনুষ্ঠিত হবে নির্দলীয় ভিত্তিতে। ইসি সূত্রে জানা গেছে এবারের নির্বাচনের তিন লাখ ৯৩ হাজার ৮৯৪ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে ১ লাখ ৯৬ হাজার ৩৫৬ পুরুষ এবং ১ লাখ ৯৭ হাজার ৬৩৮ নারী ভোটার রয়েছেন। ৩ হাজার ৫৫৯ জন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নির্বাচনের কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। ইসি সূত্রে জানা গেছে সিটি নির্বাচনে ১৯৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ১০৮টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা করে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সাধারণ কেন্দ্রে ২২ জন ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ২৪ জন করে নিরাপত্তা সদস্য ভোটকেন্দ্রে নিয়োজিত থাকবে।

ভোটের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে চার স্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রক্ষাকারী বাহিনীর ৫ হাজার ৫০০ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে বিজিবি ২১ প্লাটুন (৬৩০ জন), র‌্যাবের ৩৩ টিম (৪০০ জন), পুলিশ ও আনসার সদস্য থাকবে ৪ হাজার ৪৭০ জন। এছাড়া একজন করে নির্বাহী হাকিমের নেতৃত্বে ৩৩টি স্ট্রাইকিং ফোর্স, একজন করে বিচারিক হাকিমের নেতৃত্বে ১১টি ভ্রাম্যমাণ আদালত সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন। রিটার্নিং কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র সরকার বলেন, নির্বাচন কমিশনের ১১টি ‘নীরব পর্যবেক্ষক’ দল মাঠে নামছেন। ইসির নিজস্ব এসব কর্মকর্তা পরিচয় গোপন রেখে নির্বাচনের সামগ্রিক পরিবেশ সম্পর্কে তথ্য নির্বাচন কমিশনকে জানাবেন।

রসিক নির্বাচন উপলক্ষে নেয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি সম্পর্কে র‌্যাবের প্রেস ব্রিফিংয়ে রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক জানান, নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পুলিশি চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা আছে সিটি কর্পোরেশন। কাউকে প্রভাব বিস্তার ও কেন্দ্র দখলসহ কোন ধরনের অরাজকতা করতে দেয়া হবে না। ভোটকেন্দ্রগুলোর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সিটি কর্পোরেশন এলাকায় হেলিকপ্টার টহলও দেয়া হবে।

রংপুর নির্বাচন সম্পর্কে সিইসির ব্রিফ ॥ এদিকে রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন উপলক্ষে বুধবার আগারগাঁও নির্বাচন ভবনের এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদা বলেন, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ইসি। কমিশনের যে অবজারভেশন, তাতে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ অনুকূলে রয়েছে। সুন্দর, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য ভোট হবে।

তিনি বলেন, রংপুরে গোটা তিনেক কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। একটি কেন্দ্রে ইভিএম ব্যবহারের কথা ছিল। সম্পূর্ণভাবে সিকিউরড হলেই এটা ব্যবহার করা হবে। এ সময় তিনি রংপুরে একটি কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার সংশয়ের কথাও বলেন। এটা টেকনিক্যাল বিষয়। কারিগরি টিম পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। এখনও নিশ্চিত করতে পারছি না ইভিএম হবে কিনা। শতভাগ নিশ্চিত না হয়ে তো ব্যবহারের যেতে পারি না। নতুন ইভিএম তো, আজ সকালেই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, রংপুর সিটি নির্বাচনকে ইসি আমরা নির্বাচন করতে চাই। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিয়ে বাড়ি যেতে পারেন, সে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনার মোঃ রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম ও শাহাদাত হোসেন চৌধুরী ও ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ উপস্থিত ছিলেন ব্রিফিংয়ে।

রসিক নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী যারা ॥ রংপুর সিটির কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র কাউন্সিলর এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে মোট ২৮৩ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিত করছেন। এর মধ্যে মেয়র পদে আওয়ামী লীগ বিএনপি এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থীসহ মোট ৭ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু, জাতীয় পার্টির মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা ও বিএনপির কাওসার জামান বাবলা, বাসদের আবদুল কুদ্দুস (মই), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এটিএম গোলাম মোস্তফা বাবু (হাতপাখা), ন্যাশনাল পিপলস পার্টির সেলিম আখতার (আম) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফ (হাতি) মার্কা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

ভোটের হিসাব নিকাশ ॥ রংপুর পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করার পর দ্বিতীয়বারের মতো ভোট হচ্ছে আজ। ২০১২ সালের ২৮ জুন রংপুর পৌরসভা থেকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত তরা হয়। ২০১২ সালের ২০ ডিসেম্বর প্রথমবার এ সিটিতে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচন নির্দলীয়ভাবে হলেও আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু প্রথমবার এ সিটিতে মেয়র নির্বাচিত হন। এবারও তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের মাঠে রয়েছে। এছাড়াও বিএনপি এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে এবারও যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তারা আগেরবারও এ দুটি দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছিলেন।

প্রথমবার নির্বাচন দলীয় ভিত্তিতে না হলেও আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে সদস্য সাবেক মেয়র সরফুদ্দিন আহমেদ মোটরসাইকেল মার্ক নিয়ে ১ লাখ ৬ হাজার ২৫৫ ভোট পেয়ে প্রথমবার মেয়র নির্বাচিত হন। এবারও তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন। প্রথমবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন বর্তমানে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা। তিনি হাঁস মার্কা প্রতীকে ভোট পেয়েছিলেন ৭৭ হাজার ৮০৫ ভোট। এছাড়াও গতবার তৃতীয় অবস্থানে ছিলেন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রউফ মানিক। তিনি ভোট পেয়েছিলেন ৩৭ হাজার ২০৮ ভোট। ওই নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী আনারস মার্কা নিয়ে মাত্র ২১ হাজার ২৫৩ ভোট পেয়ে চতুর্থ স্থানে ছিলেন। এবারও তিনি নির্বাচনে দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন। গত নির্বাচনে জাতীয় পার্টির দুজন প্রার্থী থাকলেও এবার রয়েছে মাত্র একজন প্রার্থী।

সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এবারের নির্বাচনে দলীয় ইমেজের পাশাপাশি ব্যক্তি ইমেজও ভোটের প্রভাবক হিসেবে কাজ করবে। এ সিটিতে ত্রিমুখী লড়াই হওয়ার কথা বলা হলেও ভোটার জরিপে এগিয়ে রয়েছেন জাতীয় পার্টির প্রার্থীর মোস্তাফিজার রহমান এবং আওয়ামী লীগের প্রার্থী সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু। জানা গেছে মূলত নৌকা প্রতীকের সঙ্গে লাঙ্গল প্রতীকে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। ব্যক্তি ইমেজ বিবেচনায় জাতীয় পার্টির প্রার্থী অন্য প্রার্থীদের চেয়ে এগিয়ে আছেন। এলাকায় তিনি বিপুল জনপ্রিয়ও। গতবারের নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী সরফুদ্দিন আহমেদের কাছে হেরে যান। তবে এবার ভোটের হিসেবে তিনি অনেক এগিয়ে রয়েছেন। এছাড়া জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদের নিজের এলাকা হিসেবে এখানে জাতীয় পার্টির নিজস্ব ভোট ব্যাংক রয়েছে। ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সরফুদ্দিন আহমেদ দলীয় বিবেচনায় থাকলেও তাকে জিততে হলে বেশ বেগ পেতে হবে। কারণ জাতীয় পার্টির প্রার্থী বেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছে। অপরদিকে বিএনপির ভোট বাড়লেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ভোটাররা তাকে বিবেচনা করছে না। তবে এবার তিনি গতবারের চেয়ে বেশি ভোট পাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। রংপুর জামায়াতের একটি অংশের ভোট তার ঝুলিতে আসবে।

একটি কেন্দ্রে ইভিএম ও তিনটি কেন্দ্রে সিসি টিভি ক্যামেরা স্থাপন

সিটি কর্পোরেশনের ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের ১৪১নং কেন্দ্রের (সরকারী বেগম রোকেয়া কলেজ) ছয়টি ভোটকক্ষে নতুন ইভিএমের মাধ্যমে ভোট নেয়া হবে। নির্বাচনে রংপুর সিটির নিউ শালবন ও শালবন এলাকার দুই হাজার ৫৯ ভোটারের জন্য ১৪১নং কেন্দ্রটিতে এই ইভিএম ব্যবহার হবে। বেগম রোকেয়া কলেজ কেন্দ্রের মোট ২০৫৯ ভোটারের মধ্যে নিউ শালবন এলাকার ১৬১৫ ও শালবন এলাকার ৪৪৪ জন ভোটার রয়েছেন। নতুন ইভিএমে তাদের সবার ভোট সুষ্ঠুভাবে নিতে কেন্দ্রটিতে পাঁচদিন থেকে ভোটের মহড়া হয়।

এছাড়াও এ নির্বাচনে ঝুঁকিপূর্ণ ১০৮টি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের মধ্যে তিনটি কেন্দ্রে সিসি টিভি ক্যামেরাও স্থাপন করা হবে। এ কেন্দ্রগুলো হলো, বেগম রোকেয়া কলেজ, লায়ন্স স্কুল ও কলেজ এবং সরকারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র। নির্বাচন কমিশন ঢাকায় বসে এসব কেন্দ্রের সার্বিক পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের পক্ষে বিপক্ষে আলোচনার মধ্যে রংপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সীমিত আকারে পরীক্ষামূলকভাবে এ প্রযুক্তিটি ফের চালু হচ্ছে। জনকণ্ঠ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত