প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভয়ানক স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়াচ্ছে ই-বর্জ্য

ডেস্ক রিপোর্ট : আধুনিক সমাজ ব্যবস্থায় ইলেকট্রনিক ও ইলেকট্রিক্যাল পণ্য ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে ভয়ানক স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়াচ্ছে ই-বর্জ্য। বাতিল হওয়া কম্পিউটার, ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, ফটোকপি মেশিন, মাইক্রোওভেন, ব্যাটারি ইত্যাদি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যে মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সুষ্ঠু আইনি কাঠামো জরুরি হয়ে পড়েছে।

বুধবার রাজধানীর সেগুনবাগিচাস্থ ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটিতে গ্রামবাংলা উন্নয়ন কমিটি এবং বাংলাদেশ মানবাধিকার সাংবাদিক ফোরাম যৌথভাবে “ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আইনি কাঠামো: পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা” শীর্ষক এক সেমিনারে এ কথা বলা হয়।

বাংলাদেশ মানবাধিকার সাংবাদিক ফোরাম-এর মহাসচিব খায়রুজ্জামান কামালের সভাপতিত্বে উক্ত আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গ্রামবাংলা উন্নয়ন কমিটির নির্বাহী পরিচালক এ কে এম মাকসুদ। তিনি তার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় বাংলাদেশের পৌর বর্জ্য ও ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত মানুষ ও তাদের অমানবিক জীবন, জাতীয় অর্থনীতিতে বর্জ্যজীবি, ময়লার ভ্যান কর্মী, সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মী ও রিসাইক্লিং কর্মীদের অবদান, পৌর ও ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিদ্যমান আইনি কাঠামো এবং পৌর ও ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ভবিষৎ উন্নয়নের জন্য আইনি কাঠামোতে সুনির্দিষ্টভাবে কী কী থাকা প্রয়োজন সে বিষয়সমূহ গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেন।

সভায় জাননো হয়, ইউনাইটেড নেশনস ইউনিভার্সিটির স্টেপ ইনিশিয়েটিভের তথ্য মতে , ২০১২ সালে বিশ্বে ৪৫.৬ মিলিয়ন টন ই-বর্জ্য সৃষ্টি হয়েছে। অন্য এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে এই ই-বর্জ্য ২০১৬ সালে সৃষ্টি হবে ৯৩.৫ মিলিয়ন টন। বিশ্বে এখন ৩৫৬ কোটি মোবাইল ফোন ব্যবহার হচ্ছে, ২০১৮ সালে বিশ্বে ৪০০ কোটি মোবাইল ফোন ব্যবহার করবে। বিটিআরসি-এর তথ্য মতে বাংলাদেশে ১১.৬৫ কোটি মোবাইল ফোন ব্যবহার হচ্ছে যার ওজন ১১২৫ টন। এক হিসেবে দেখা যায় যে ২০১৩ সালে ঢাকাবাসিরা বছরে গড়ে মাথাপিছু ০.২৬ কিলোগ্রাম ই-বর্জ্য তৈরি করছে। আমেরিকা তার সৃষ্ট ই-বর্জ্যের শতকরা ৮০ ভাগই দরিদ্র উন্নয়নশীল দেশে ফেলে আসে বা রপ্তানি করে দেয় যেগুলো অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকেরা স্বাস্থ্য ও পরিবশেগত ঝূঁকি নিয়ে পুনঃচক্রায়ন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ করে থাকে। প্রযুক্তি ও গণমাধ্যমের দ্রুত বিকাশ, অতি সস্তায় আকর্ষণীয় ইলেকট্রনিক ও ইলেকট্রিক্যাল পণ্য ও ইন্টারনেট প্রাপ্তির সুযোগ, নুতন ধরনের পণ্য ব্যবহারের আকর্ষণে দ্রুত পুরোনো ইলেকট্রনিক ও ইলেকট্রিক্যাল পণ্যটি ফেলে দেবার প্রবণতা এসব কারণে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে ই-বর্জ্য সৃষ্টি দ্রুতহারে বেড়ে চলেছে। প্রতিবছর বিশ্বে এই ই-বর্জ্য শতকরা ৫-১০% হারে বাড়ছে এবং এই বর্জ্যের শতকরা ৫ ভাগের বেশি পুনঃরুদ্ধার করা যায়না। মানুষ ও পরিবেশের জন্য বর্জ্যের ক্ষতিকর প্রভাবের কারণেই এখন আইন করে নিয়ন্ত্রিতভাবে ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশ রক্ষার প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। কেননা, ই-বর্জ্য যে কোন সাধারণ পৌর বর্জ্য থেকে অধিক ক্ষতিকর। সঠিক ও নিরাপদভাবে ই-বর্জ্য না ফেলা হলে তা স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করে, কারণ ই-বর্জ্যে থাকা ক্ষতিকর পদার্থ যেমন লেড, ক্যাডমিয়াম, ক্রোমিয়াম, ব্রমিনেটেড ফ্লেম রির্টাডেন্ট, বেরিলিয়াম, এন্টিমনি, পলিভিনাইল ক্লোরাইড (পিভিসি), মার্কারি বা পারদ, আর্সেনিক, পলিক্লোরিনেটেড বাইফিনাইল (পিসিবি) ইত্যাদি মাটি, পানি ও বাতাসের সাথে মিশে মানুষের জন্য এক বিষাক্ত পরিবেশের তৈরি করে বিশেষত যারা এগুলো সংগ্রহ, নাড়াচাড়া, জমিয়ে, ভাঙ্গাচোরা করে। এই দূষিত পদার্থগুলো মানুষের স্নায়ুতন্ত্র, রক্ত পরিবহন ব্যবস্থা, কিডনি ও প্রজনন ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্থ করে থাকে এবং ক্যান্সার, জন্মত্রুটি, প্রতিবন্ধিতা, প্রজনন ক্ষমতা নষ্ট করে থাকে। এই পদার্থগুলোর অনেকটাই কার্সিনোজেনিক ও নিউরোটক্সিক। এ থেকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয় দরিদ্র শ্রেণির শিশু ও নারীরা। এক গবেষণা তথ্যে জানা যায় যে শতকরা ৮০ ভাগ মানুষ যারা ই-বর্জ্য নাড়াচাড়ার সাথে জড়িত তারা এর ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জানে না। তাই সভায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরকারের পরিবেশ মন্ত্রনালয়ের ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা ও পৌর কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা চুড়ান্তকরণের দাবি জানানো হয়। এছাড়া ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী উৎপাদকদের দ্বায়িত্বশীল ভূমিকা পালন এবং পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ই-বর্জ্য ও পৌর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সর্ম্পকিত আইন ও বিধিমালার কার্যকর প্রয়োগের কথা উল্লেখ করা হয়।

সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, গ্রামবাংলা উন্নয়ন কমিটির খন্দকার রিয়াজ হোসেন, এ বি কে রেজা, মোসাম্মৎ তাহমিনা আক্তার, ইমতিয়াজ রসুল, সৈয়দ মাহবুবুল আলম, সায়মা সাইদ প্রমুখ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত