প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নিক্কি এশিয়ান রিভিউয়ের প্রতিবেদন
নতুন মহাখেলায় ভারতকে চারদিকে ঘিরে ফেলেছে চীন

মাছুম বিল্লাহ : দক্ষিণ এশিয়াকে একটি বিরাট ওথেলো বোর্ড কল্পনা করুন। বর্গাকার ঘরগুলো হলো দেশ এবং কাঙ্খিত অঞ্চলগুলোর টুকরা। যে খেলোয়াড়রা তাদের কালো বা সাদা ঘুঁটি নিয়ে বোর্ড দখল করার চেষ্টা করছে তারা হলো চীন ও ভারত। বর্তমান রাউন্ডে জিততে যাচ্ছে চীন।

এই সর্বশেষ সাফল্যটি এসেছে নেপালে বেইজিংয়ের জয়ে। দেশটিতে নতুন চীনপন্থী সরকার দায়িত্বভার গ্রহণ করবে ২০১৮ সালের শুরুতে। দুই উদীয়মান আঞ্চলিক শক্তির মধ্যে দোলা খেতে থাকা হিমালয়ের এই দেশটির জন্য এটি একটি বড় ধরনের পরিবর্তন। বর্তমান নেপালি সরকার ভারতপন্থী অবস্থান রক্ষা করে চলেছিল।

গত ২৬ নভেম্বর এবং ৭ ডিসেম্বর দুই পর্বে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে নেপালের কমিউনিস্ট জোট বিপুলভাবে জিতে ক্ষমতায় ফিরেছে। যদিও প্রধান দল কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল-ইউনিফায়েড মার্ক্সিস্ট লেনিনিস্টের (সিপিএন-ইউএমএল) উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বলছেন, তারা চীন ও ভারত উভয়ের সাথেই সম্পর্ক রক্ষা করে চলবেন, কিন্তু নয়া দিল্লির ‘দাদাগিরি’ থেকে সরে আসার ইচ্ছার বিষয়টি গোপন রাখেননি।

অর্থনৈতিকভাবে ভারত-নেপাল সম্পর্ক বেশ গভীর। ভিসা ছাড়াই নেপালি নাগরিকদের ভারতে কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয়। ভারত থেকে নেপালের ৬০ ভাগ আমদানি পূরণ হয়।

অন্যদিকে মাঝপথে মাউন্ট এভারেস্ট থাকায় চীনের সাথে নেপালের নির্ভরতা কম। কিন্তু চীনের উচ্চাভিলাষী, অঞ্চলবিস্তৃত অবকাঠামো উন্নয়ন ওই বাধাটি দূর করতে পারে।

সিপিএন-ইউএমএলের চেয়ারম্যান খাদকা প্রসাদ ওলি গত বছর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চীন সফর করেছিলেন। তখন তিনি দুই দেশের মধ্যে সংযোগ সৃষ্টিকারী রেলওয়ে নির্মাণ এবং সড়ক সম্প্রসারণের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। আগের সরকার একটি সমঝোতা স্মারকও সই করে।

এতে নেপালের বৃহত্তম বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে চীনা সহযোগিতার কথা বলা হয়েছে। ভারতপন্থী সরকার ওই পরিকল্পনা বাতিল করে দেয়। তবে নতুন সরকার ওই পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেবে বলে গুঞ্জন চলছে।

ভারতের সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা আর এস এন সিং বলেছেন, নেপালে ক্ষমতার পরিবর্তন এসেছে চীনের মদতে। অনেকে এর মধ্যে চতুর চীনা কৌশল দেখছেন। সিংয়ের মতে, নেপালে আরো বড় ভূমিকা পালনের বেইজিংয়ের মরিয়া প্রয়াস ছিল দোকলাম অচলাবস্থার সময়ে ভারতের কঠোর ও আপসহীন অবস্থানের সাথে সম্পর্কযুক্ত।

চলতি বছরের জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত ভুটানের সাথে সংশ্লিষ্ট দোকলামে ত্রিদেশীয় সঙ্কটে চীন ও ভারতীয় সৈন্যরা মুখোমুখি অবস্থানে ছিল। ভারতের প্রতিবেশীদের মধ্যে চীনের সাথে আরো ঘনিষ্ঠ হয়েছে, এমন দেশ কেবল নেপালই নয়।

সাম্প্রতিক অতীত পর্যন্ত অনেক প্রতিবেশীই আর্থিক এবং অন্যান্য সুবিধা পেতে দুই দেশের সাথেই কঠিন দেনদরবার করত। কিন্তু ভারতের জন্য মনকষ্ট বাড়িয়ে এসব দেশ এখন অনেকটা অবলীলায় চীনা কক্ষপথে ঝুঁকছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত