প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চুরির চুরি আবার শিনাজুরি
চোরের মায়ের বড় গলা!

আশরাফুল আলম খোকন: গ্রামবাংলায় একটা কথা অতি প্রচলিত আছে। কথাটি হলো ‘চুরির চুরি আবার শিনাজুরি।’ অর্থাৎ প্রতিষ্ঠিত চোরগুলো যখন বড় গলায় কথা বলে, চুরি করে উল্টা গৃহস্তকে দোষারোপ করে। খালেদা জিয়ার অবস্থাও তাই। ওনার চুরির তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করে দেয়ায় উনি ক্ষেপে গিয়ে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছেন জনগণের চোখে ধুলা দেয়ার জন্য। উনি অস্বীকার করছেন যে, ওনাদের সৌদি আরবে কোনো টাকা নাই। যতদূর দেখেছি, ম্যাডাম জিয়াতো রাষ্ট্রীয় অতিথি হয়ে প্রায়ই সৌদি আরব সফর করেন। তিনি ওদের পক্ষ থেকে একটা বিবৃতি নিয়ে এলেই তো হয়।

উকিল নোটিশ পাঠিয়েছেন আজকে। এতদিন কেন পাঠাননি? এই অভিযোগতো আজকের না। ২০০৫ সালে বিএনপি জামায়াত যখন ক্ষমতায়, অভিযোগগুলো তখনকার। তখনই খুব আলোচিত বিষয় ৪০০ লাগেজ নিয়ে সৌদি আরবে গিয়েছেন বেগম জিয়া। কই গত ১২ বছরেতো একবারও বিএনপি এর প্রতিবাদ করেনি। তখনকার পাচার করা ৪০০ লাগেজের ধারাবাহিকতায়ই ৫০০ কোটি টাকা পাচারের বিষয়টি এখন জনসম্মুখে প্রকাশ পেয়েছে।

আমরা সবাই জানি সম্মান দেখিয়ে ভিভিআইপিদের লাগেজ কোনো দেশেই ইমিগ্রেশনে চেক করা হয় না। ম্যাডাম জিয়া ওই রাষ্ট্রীয় সম্মানের সুযোগ নিয়েছেন, দেশের জনগণের শত শত কোটি টাকা পাচার করেছেন। যা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ এবং জাতির সঙ্গে বেইমানি।

যদি দেশের বাইরে সম্পদ না-ই থাকবে তাহলে তারেক রহমান এবং আরাফাত রহমানের পরিবার বিদেশে বসে প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকা খরচ করে বিলাসী জীবনযাপন কীভাবে করে- জনগণের মনে এই প্রশ্ন আসতেই পারে। এই প্রশ্নের উত্তর বেগম জিয়া এবং তার দলকেই দিতে হবে। উকিল নোটিশ পাঠিয়ে লাভ নেই।

জনগণের চোখে ধোঁকা দেয়া যাবে না। বিএনপি বলছে জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির যত অভিযোগ তা নাকি অপপ্রচার। যদি অপপ্রচারই হয় তাহলে এতো মাথা গরম করার কী আছে। এতো ক্ষেপছেন কেন? অপপ্রচার হলে, সত্যতা না থাকলে জনগণই তা প্রত্যাখ্যান করবে। আর যদি অপপ্রচারই হবে, তাহলে এতদিন কেন উকিল নোটিশ পাঠাননি?

বেগম জিয়া এবং তার পরিবারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থপাচারের অভিযোগতো নতুন কিছু নয়। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টে দেশের এতিমদের জন্য সৌদি আরব থেকে দান হিসেবে আসা খয়রাতি টাকাও চেকের মাধ্যমে তুলে মেরে খেয়েছেন। ব্যাংক হিসাবেও এর সব প্রমাণ আছে। এই কথাও বহুবার বলা হয়েছে -কই তখনতো শুধু ম্যা ম্যা করেন। কোনো উত্তর দিতে পারেন না। উকিল নোটিশ পাঠাননি কেন?

বেগম জিয়ার দুই পুত্রের পাচার করা টাকা সিঙ্গাপুর সরকারের কাছ থেকে ফেরত এনেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তখনতো একেবারে নিশ্চুপ হয়ে গেছেন। কোর্টে গিয়ে দাবি করে বলেননিতো যে এটা আপনাদের পুত্রদ্বয়ের বৈধ টাকা। সিমেন্স কেলেঙ্কারিতে কানাডার কোর্ট যখন তিন মিলিয়ন ডলার দুর্নীতির রায় দিয়েছে বেগম জিয়ার পুত্র ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে তখনতো চুপ করে ছিলেন। কানাডার নাইকো দুর্নীতির মামলার রায়েও প্রমাণ হয়েছে বেগম জিয়া ও তার পরিবার দুর্নীতিগ্রস্ত। তখনতো কোনো প্রতিবাদ করেননি। যখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে এফবিআই এসে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়ে গেল তখনতো এর প্রতিবাদ করেননি। নাকি এর সবকিছুই স্বীকার করে নিয়েছেন বেগম জিয়া ও দলের নেতারা।

লেখক: প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত