প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দেশের কারাগারে প্রথম গার্মেন্টস, উদ্বোধন ২৭ ডিসেম্বর

রিকু আমির : বাংলাদেশে কারাগারে প্রথমবারের মতন নির্মাণ করা হয়েছে গার্মেন্টস। নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঁচ হাজার বর্গফুট আয়তন বিশিষ্ট ‘রিজেলিয়ান্স’ নামের এই গার্মেন্টস নির্মাণ করা হয়েছে, যাতে তৈরি পোশাক উৎপাদন করবেন বন্দিরা।

নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারের সুপার সুভাস কুমার ঘোষ বুধবার এ প্রতিবেদককে জানান, আগামী ২৭ ডিসেম্বর এই গার্মেন্টস এবং পূর্ব থেকে চালু থাকা জামদানি কারখানা উদ্বোধন করবেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন। এদিনই মন্ত্রী ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করবেন একটি বন্দি ব্যারাক এবং একটি সেলের। ব্যারাকে ৫০০ ও সেলে ৩০জনের ধারণ ক্ষমতা থাকবে।

পাঁচ হাজার বর্গফুট আয়তনের গার্মেন্টসটি এক তলা বিশিষ্ট টিনশেড ছাউনি দ্বারা নিমার্ণ করা হয়েছে। প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে এর নির্মাণ কাজ একেবারেই শেষ পর্যায়ে। সমাজ কল্যাণ অধিদপ্তর এ গার্মেন্টসের জন্য ৫২টি নতুন মেশিন দিয়েছে। পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচার অ্যান্ড এক্সপোর্টারস অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ) এবং স্থানীয় কিছু গার্মেন্টস বন্দিদের প্রশিক্ষণ দিয়েছে। এছাড়া এই গার্মেন্টস নির্মাণ সামগ্রী নারায়ণগঞ্জ বাসিন্দারাই দিয়েছে বলে এ প্রতিবেদকের কাছে উল্লেখ করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারের সুপার সুভাস কুমার ঘোষ।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য শামীম ওসমান কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিনসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, কারা অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।

জেল সুপার সুভাস কুমার ঘোষ এ প্রতিবেদকের প্রশ্নে বলেন, বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ’র সঙ্গে যোগাযোগ আছে। তারা বন্দিদের প্রশিক্ষণ দেবে এবং তৈরি পোশাক উৎপাদন-বিক্রিতে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছে। তাছাড়া এই কারাগারের নিজস্ব বিক্রয় কেন্দ্র আছে। নিয়মিত কাজের পাশপাশি অর্ডারের ভিত্তিতেও এখানে পোশাক উৎপাদন করা হবে।

তিনি আরও জানান, এ কারাগারে জামদানি উৎপাদন করা হচ্ছে আরও আগ থেকেই। যা উপহার স্বরূপ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও আনুষ্ঠানিকভাবে দেয়া হয়েছে। এছাড়া ব্লক-বাটিক-নানা ধরণের শোপিসসহ বিভিন্ন হস্তশিল্পও উৎপাদন করা হচ্ছে।

জেল সুপার সুভাস কুমার ঘোষ বলেন, এখানে কারাবন্দিদের মধ্যে গার্মেন্টস কর্মীও আছেন। তারা এবং নতুনরা কাজ করে উপার্জন করবে। পোশাক বিক্রয়লব্ধ অর্থ তাদেরকেই প্রদান করা হবে। এই অর্থ তারা কারাগারের ব্যাংকে জমা করে মূলধন তৈরি করতে পারবে। মুক্তি পাবার পর জমানো অর্থ দিয়ে তারা নিজের জন্য কর্মসংস্থান করতে পারবে। কেউ চাইলে উপার্জিত অর্থ পরিবারের কাছে পাঠাতে পারবে।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত