প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সৌদি আগ্রাসনের ১০০০ দিন পূর্ণ
বোমাবর্ষণ, রক্তক্ষয়, দুর্ভিক্ষ, কলেরা ও অবরোধের পর ইয়েমেন এখনো জীবন্ত (ভিডিও)

রাশিদ রিয়াজ : ইয়েমেনের কালোদিনগুলোর হাজারটি পূর্ণ হয়েছে গত ১৫ ডিসেম্বর। ২০১৫ সালের মার্চে জাতিসংঘের অনুমোদন ছাড়াই সৌদি জঙ্গি বিমান ইয়েমেনে বোমা বর্ষণ শুরু করে। এপর্যন্ত ১২ সহ্র¯্রাধিক মানুষ মারা গেছে। লাখ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়া হয়েছে। ইতিমধ্যে তীব্র খাদ্য সংকটে পড়ে বুভুক্ষময় রয়েছে ইয়েমেনের মানুষ। কলেরায় আক্রান্ত হয়েছে ১০ লক্ষাধিক মানুষ। জাতিসংঘ বলছে ৮০ লাখেরও বেশি মানুষ অনাহারে রয়েছে যাদের অধিকাংশই শিশু ও নিরস্ত্র নারী। আশঙ্কা করা হচ্ছে দুর্ভিক্ষ হলে অনাহারী মানুষের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যাবে।

এরপরও সৌদি আরব ইয়েমেন থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করেনি। অবরোধের কারণেই খাদ্য, পানি ও ওষুধ সংকটে মারা গেছে ২ সহ¯্রাধিক মানুষ। আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটি যেসব ভিডিও প্রকাশ করছে তাতে দেখা যাচ্ছে ইয়েমেনের সাধারণ মানুষ বলছে তারা মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে পারছে না। ইয়েমেনে যুদ্ধ থেকে বিরত থাকতে রেডক্রস কমিটির আহবান বারবার উপেক্ষিত হয়েছে। রেডক্রস এমন আশঙ্কা করেছে এভাবে ইয়েমেনে সৌদি আগ্রাসন চলতে থাকলে হত্যাযজ্ঞ আরো বাড়বে। সৌদি অবরোধ প্রত্যাহার না করলে ইয়েমেনে জরুরি খাদ্য ও ত্রাণ সরবরাহ সম্ভব হবে না এবং খাদ্যাভাবে আরো মানুষ মারা যাবে এমন হুঁশিয়ারি সৌদি বাদশাহর মন গলাতে পারছে না।

ইয়েমেনের স্বৈরশাসক মানসুল হাদি ক্ষমতাচ্যুত হয়ে সৌদি আরবে পালিয়ে যাওয়ার পর যে সৌদি আগ্রাসন শুরু হয়েছে তা বন্ধে জাতিসংঘের কোনো আহবানকে পাত্তাই দিচ্ছে না আরব দেশটি। প্রতি মিনিটে ইয়েমেনে সৌদি আগ্রাসনে নিরাপরাধ শিশু মারা যাচ্ছে। এ আগ্রাসনে সৌদি আরবকে অস্ত্র সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্র। ধ্বংস হচ্ছে ইয়েমেনের সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি ও সম্পদ।

ইয়েমেনে হুতিদের অস্ত্র দিচ্ছে ইরান এমন অভিযোগ তুলেছেন জাতিসংঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি। তাহলে ইরান ইয়েমেন সংকট নিরসনে আলোচনার কথা বলছে কেন ? নাকি যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন যে অস্ত্র দিচ্ছে সৌদি আরবকে এবং তা ইয়েমেনে আগ্রাসনে ব্যবহৃত হচ্ছে সে অপরাধ ঢাকতেই কি নিকি হ্যালি এধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন? ইয়েমেনের শিশু থেকে শুরু করে দেশটির জনগোষ্ঠীকে এক বিরাট সংকটে ফেলে দেওয়ার অপরাধ ঢাকাতেই কি তারা ইরানের বিরুদ্ধে হুতিদের অস্ত্র দেওয়ার অভিযোগ তুলছেন।

শুধু অস্ত্র দিয়ে নয় ইয়েমেনে অবরোধ অব্যাহত রাখতে সৌদি আরবে সাহায্য দিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ইয়েমেনের এডেন বন্দর সহ বিভিন্ন স্থানে অবরোধ আরোপে সৌদি প্রশাসনকে সরাসরি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। ইয়েমেনের অবকাঠামো ভেঙ্গে পড়ছে। একটি দেশকে দুর্ভিক্ষের দিকে ঠেলে দিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন সৌদি আরবকে অব্যাহত সহায়তা দিলেও জাতিসংঘের কোনো হুঁশিয়ারি তারা কানে তুলছেন না।

এর আগে ইউনিসেফ হুঁশিয়ার দিয়ে বলে প্রতি দশ মিনিটে একটি ইয়েমেনি শিশু পুষ্টিহীনতায় বা কলেরায় মারা যাচ্ছে। অব্যাহত সৌদি বোমা বর্ষণে ইয়েমেনে মানুষের শ্বাসযন্ত্র সংক্রমণ ঘটছে। ইয়েমেনের কোনো মানুষ কি দেশটিতে সৌদি আগ্রাসন শুরু হবার আগে সৌদি আরবের কোনো শিশুকে হত্যা করেছে? সৌদি আরবে ইয়েমেনের মানুষের কারণে কি কখনো কলেরার সংক্রমণ ঘটেছে? কিন্তু গত তিন বছরে অসংখ্যবার মিডিয়ার আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় শিরোনাম হয়েছে, ‘ সৌদি কোয়ালিশন ইয়েমেনে শত শত শিশুকে হত্যা করছে (ইন্ডিপেনডেন্ট), মার্কিন অস্ত্র বিক্রি হচ্ছে সৌদিতে যা ইয়েমেনে আগ্রাসনে ব্যবহার হচ্ছে, ( এলএ টাইমস), সৌদি আরব অস্ত্র কিনছে ইয়েমেনিদের হত্যার জন্যে ( হাফিংটন পোস্ট), মার্কিন অস্ত্র বিক্রির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক প্রতিরোধের আহবান ( ফিনান্সিয়াল ট্রিবিউন), মার্কিন অস্ত্র দিয়ে ইয়েমেনের শিশুদের হত্যা করা হচ্ছে ( এ্যামনেষ্টি ইন্টারন্যাশনাল) ইত্যাদি।

আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় এসব শিরোনাম বিশ্লেষণ করলে হ্যালি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবেন ? ইরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে হ্যালি ইয়েমেনে সৌদি আগ্রাসন ঢাকতে চাচ্ছেন? নিকি হ্যালি কি ভুলে যাচ্ছেন তিনি সৌদি আরবের মত এমন একটি দেশকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে আইএস সৃষ্টিতে যাদের ভূমিকা আছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্র বছরের পর বছর আফগানিস্তানে আইএস বা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে আবার ইয়েমেনের মত দেশে সৌদি আগ্রাসনের পরও সৌদি আরবকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। সিরিয়া থেকে আইএস মুক্ত অঞ্চল করতে যুক্তরাষ্ট্র কি করছে?

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত