প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রসিক নির্বাচনকে সুষ্ঠু-গ্রহণযোগ্য করতে থাকবে হেলিকপ্টর টহল ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাত পেরোলেই রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হবে। আর এই ভোট গ্রহণকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে কঠোর নিরাপত্তার চাঁদরে আনা হয়েছে পুরো শহর। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনে কাউকে প্রভাব বিস্তার ও কেন্দ্র দখলসহ কোনো ধরনের অরাজকতা করতে দেওয়া হবে না জানিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি জারি করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। আর যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, ডগ স্কোয়াডসহ সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে র‌্যাব। ভোটকেন্দ্রগুলোর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সিটি করপোরেশন এলাকায় হেলিকপ্টার টহলও দেবে সংস্থাটি।

বুধবার দুপুরে সিটি নির্বাচন উপলক্ষে নেওয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি এবং র‌্যাবের প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানা গেছে।

সকালে রংপুর পুলিশ লাইন মাঠে নির্বাচনি সরঞ্জাম গ্রহণ এবং ভোটকেন্দ্রে সার্বিক নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়ে পুলিশ ও আনসার সদস্যদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুখ, রিটার্নিং অফিসার সুভাষ চন্দ্র সরকার, রংপুরের জেলা প্রশাসক ওয়াহিদুজ্জামান ও পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান।

ডিআইজি বলেন, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় ২৪ জন পুলিশ ও আনসার ভিডিপি সদস্য থাকবেন। এর মধ্যে ১৪ জন সশস্ত্র অবস্থায় থাকবেন। এছাড়াও পাশাপাশি দুটি কেন্দ্রের জন্য থাকবে পুলিশ, বিজিবি র‌্যাবের সমন্বয়ে ভ্রামমাণ ইউনিট। এ ছাড়াও প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটও থাকবেন। তিনি জানান, জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটসহ সব স্তরের কর্মকর্তা সার্বক্ষণিক মাঠে থাকবেন। কোনও কেন্দ্রে কোনও ধরনের গোলযোগ হলে যাতে দুই মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে যাওয়া সম্ভব হয় সে জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, কোনো বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না। ভোটাররা যাতে ভোটকেন্দ্রে নিরাপদে যেতে পারেন আবার ভোট দিয়ে নিরাপদে ফিরে আসতে পারেন তার জন্য সব ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ভোট দেওয়া প্রত্যেকের গণতান্ত্রিক অধিকার। এ অধিকার থেকে যাতে কাউকেই বঞ্চিত করার অপচেষ্টা কেউ না করে সে জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি ঘোষণা দেন।

রিটার্নিং অফিসার সুভাষ চন্দ্র সরকার জানান, দেশে-বিদেশে রংপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন কেমন হয় তা দেখতে মানুষ অপেক্ষা করছে। আমরা নির্বাচন নিরপেক্ষ অবাধ ও সুষ্ঠু করতে যে কোনও ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত। প্রভাবশালী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যেই হোক-কাউকেই এক চুল ছাড় দেওয়া হবে না।

জেলা প্রশাসক ওয়াহিদুজ্জামান আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, আপনাদের অবস্থান ও কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছে দেশে-বিদেশের শত শত টেলিভিশন ক্যামেরা আর সাংবাদিক। কেউ এমন কোনও কাজ করবেন না যেন বিতর্ক সৃষ্টি হয়। তিনি বলেন, আমরা অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচন করার জন্য যে কোনও ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত রয়েছি। এসময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সততার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

পরে দুপুর ১ টা থেকে নির্বাচনি সরঞ্জাম প্রিসাইডিং অফিসারদের কাছে বিতরণ করা শুরু হয়েছে। এদিকে, র‌্যাবের পক্ষ থেকে দুপুরে নগরীতে মোটর সাইকেল ও গাড়ি নিয়ে মহড়া করা হয়। পরে নগরীর পায়রা চত্বরে প্রেস ব্রিফিং করেন র‌্যাব-১৩ এর অধিনায়ক কমান্ডার আতিকুল্লা ।

তিনি বলেন, রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে র‌্যাবের টহল টিম কাজ করবে। এছাড়াও পুরো নগরী টহল দেবে র‌্যাবের টিম।

তিনি জানান, যে কোনো অরাজক পরিস্থিতি ঠেকাতে র‌্যাবের হেলিকপ্টার ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট এবং ডগ স্কোয়াড কাজ করবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত