প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রশ্নফাঁস রোধে শিক্ষামন্ত্রী অসহায় বোধ করলে পদ থেকে অব্যাহতি নেওয়া উচিত : অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন

আশিক রহমান : বর্তমান সরকারের শাসনামলে প্রশ্নফাঁস তৃণমূল থেকে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষাবিদ ও ইতিহাসবিদ অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন। আমাদের অর্থনীতির সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, গণমাধ্যমে দেখলাম যে, মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রশ্নফাঁস-এর বিষয়ে অসহায়ত্ব জানিয়েছেন। তবে এখানেই তার দায়িত্বটি শেষ হয়ে যায়নি বলে মনে করি আমি। কারণ শিক্ষা খাতটিকে দেখভাল করার দায়িত্ব রয়ে গেছে তার ওপর। তিনি যদি অসহায় বোধ করেন, শক্ত ও দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করতে না পারেন তাহলে তার উচিত হবে এই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেওয়া। এবং সেটাই হবে ভদ্রজনিত। কিন্তু তিনি দায়িত্বে থাকবেন, সবকিছু এলোমেলো হয়ে যাবে এটা আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, শিক্ষামন্ত্রী এ বিষয়ে কোচিং সেন্টারগুলোকে দায়ী করেছেন। কখনো-বা ছাপাখানাকে দায়ী করেছেন। এসব তো বায়বীয় বক্তব্য। তার উচিত হবে কঠোরভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, শিক্ষামন্ত্রী কোনোভাবেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না। এই নিয়ন্ত্রণ করতে না পারার কারণ হচ্ছে আজও পর্যন্ত প্রশ্নফাঁসের ব্যাপারে কাউকে অভিযুক্ত করা হয়নি, মাঝেমধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছে। প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত অভিযুক্ত বা বিচারও করা হয়নি। বিচার করে যদি চটজলদি দ- দেওয়া যেত তাহলে প্রশ্নফাঁস রোধ করা যেত। কারণ প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে একটা আর্থিক ব্যাপার জড়িয়ে আছে। প্রশ্নফাঁস করে তারা প্রচুর অর্থ উপার্জন করতে পারে। তারা আইনের চোখে অপরাধী। অপরাধীকে অপরাধের শাস্তি দিতেই হবে।

তিনি বলেন, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধসে গেছে। বর্তমানে বাংলাদেশে যে শিক্ষা ব্যবস্থা এটাকে শিক্ষাব্যবস্থা না বলে শিক্ষা অব্যবস্থা বলা যায়। তার ফলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হচ্ছে। কারণ দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে হলে গুণগত শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষায় যদি এ ধরনের অনিয়ম হয় তাহলে তো আমাদের ভবিষ্যৎই সংকটের মধ্যে পড়ে যাবে।তিনি আরও বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন প্রশ্নফাঁস রোধে ৩৯ দফা সুপারিশ করেছে। কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো দুর্নীতি দমন কমিশন কেন সুপারিশ করবে? এই সুপারিশ তো শিক্ষামন্ত্রণালয় ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহ থেকে আসা উচিত ছিল। যেহেতু তাদের কাছ থেকে তা আসেনি তার মানেই বোঝা যাচ্ছেÑ তারা এই অনিয়ম-দুর্নীতি রোধ করার জন্য কোনো চিন্তাভাবনা করছে না। গতানুগতিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন বলেই মনে করেন এই শিক্ষাবিদ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত