প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চাই অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি

ডা. ইমরান এইচ সরকার : দেশে আইনের শাসন নেই, বিচার নেই। দেখা যাচ্ছে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই যারা এ হত্যা-খুন, বীভৎস অপরাধ করছে তারা কোনো না কোনোভাবে আইনের ফাঁক-ফোঁকার দিয়ে বের হয়ে যাচ্ছে। এমনকি হত্যা মামলার আসামী, ফাঁসির দ-প্রাপ্ত আসামীকেও রাজনৈতিক বিবেচনায় ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। যখন এ ধরণের ঘটনাগুলো ঘটে তখন অপরাধীরা উৎসাহিত হয়।
একজন অপরাধী দেখতে পাচ্ছে তার একটা রাজনৈতিক পরিচয় থাকলেই সে আইনের চোখে ফাঁকি দিয়ে দিব্বি জনসম্মুখে ঘুরে বেড়াতে পারছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে এ ধরণের অপরাধীরা কোনো না কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত। রাজনৈতিক আশ্রয়ে থেকে অপরাধীরা এ ধরণের অপরাধমূলক কর্মকা- করে যাচ্ছে। অপরাধীর সঠিক বিচার না হওয়ার ফলেই এই দরণের ঘটনা দিনে দিনে বেড়ে চলেছে। আরেকটা বিষয় দেখা যাচ্ছে সমাজে এ ধরণের অপরাধে পেছনে আমাদের প্রতিক্রিয়াশীল মানসিকতাও দায়ী।

মানুষের বীভৎসতা বেড়ে গিয়েছে। আমরা দিনে দিনে কেমন যেনো প্রতিক্রিয়াশীল হয়ে যাচ্ছি। মানুষের প্রতি মানুষের কোনো মমতা বোধ নেই বললেই চলে। সাধারণ একটা অপরাধের জন্য একটা শিশুকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করছি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেখা যায় ওই শিশুটি প্রকৃত অপরাধীই নয়। রাষ্ট্রের এই দায়গুলো নিতে হবে। অপরাধীর সুষ্ঠু এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করলে এ ধরণের অপরাধের সংখ্যা কমে আসবে।
বর্তমানে ধারাবাহিকভাবেই দেখতে পাচ্ছি গুম, খুনের হার গত কয়েক বছরে আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলেছে। বিশেষ করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরের এলাকাগুলোতে এ ধরনের ঘটনা বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মদদেও খুনের হার বেড়ে চলেছে। আমরা এ ধরনের ঘটনাও দেখেছি যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের দায় স্বীকারও করে নিয়েছে।
গতকাল শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের এক বক্তৃতায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একজন সদস্য বললেন কিভাবে তারা একজন শিক্ষানবিশ চিকিৎসককে তুলে নিয়ে গেছেন। এ ধরনের দায় স্বীকার করার মতো আরও অনেক ঘটনা রয়েছে। হঠাৎ করেই একজন মানুষকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সর্বশেষ একজন সাবেক কূটনীতিককে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কেও তার কোনো খোঁজ দিতে পারছে না।

এসব গুমের ঘটনায় আবার অনেকে ফেরতও আসছে। কারও কারও গলিত লাশ কিছুদিন পর কোথাও না কোথাও দেখা যাচ্ছে।
সুতরাং এখন জনগণের কাছে প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে কেন এরকম হচ্ছে। যখন রাষ্ট্র নিজেই এ ধরনের ভূমিকায় চলে যায় যে তার প্রতিপক্ষকে বা ভিন্নমতকে দমন করার জন্য এ ধরনের অপরাধের আশ্রয় নেয়। এবং এরকম চলতে থাকলে স্বভাবতই সমাজে এ ধরনের অপরাধের সংখ্যা আরও বাড়বে। অন্যান্যরা এগুলো দেখে আরও উৎসাহী হয়ে ওঠে। এ সব কারণেই আমার মনে হয় দিনে দিনে গুম, খুন, ধর্ষণের মতো জঘন্য অপরাধ বেড়ে চলেছে।

পরিচিতি : মুখপাত্র, গণজাগরণ মঞ্চ
মতামত গ্রহণ : সাগর গনি
সম্পাদনা : মোহাম্মদ আবদুল অদুদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত