প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাজনীতির প্রাণের মানুষ সাদেক খান

রবিউল আলম : আমাদের রাজনীতি ও রাজনৈতিক মানুষ এবং জাতীয় নেতাদের নিয়ে কত শত আলোচনা হয় তার শেষ নেই। কত শত মানুষ স্বাধীনতা সংগ্রামে যুদ্ধ না করেও মুক্তিযুদ্ধের খেতাব নিয়ে টানাটানি করছে রাজনীতির জন্য, চাকরির জন্য, ভাতা ও সরকারি বিভিন্ন ধরনের সুবিধা পাওয়ার জন্য। স্বাধীনতা সংগ্রামে সমর যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেননি, কিন্তু শত শত মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা করেছেন, কোনো সার্টিফিকেট গ্রহণ করেননি, এমনও হাজার হাজার মানুষ আছেন, তাদের মাঝে আলহাজ্ব মো. সাদেক খান হচ্ছেন উল্লেখযোগ্য। পিতা মেকাব খান ছিলেন অগাধ অর্থেল মালিক, বড় ভাই মিয়াচান খানের অনেক আদরের ভাই সাদেক খান। স্বাধীনতা সংগ্রামে ১৮/১৯ বছর বয়স ছিল, শেখ জামালের ক্লাসমেট হওয়ায় পাকিস্তানিদের রোষানলে পড়ে পরিবারের বন্ধন থেকে মুক্ত হতে না পেরে আত্মগোপনে থাকতে হয়। তারপরেও কলাতিয়া, কেরানীগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধাদের আর্থিক, মানবিকসহ সার্বিক সহায়তা করেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরে দুই বছর আত্মগোপনে থাকেন। ১৯৭৭ সালে নির্দলীয় কমিশনার নির্বাচিত হন বর্তামন ৩৪নং, সাবেক ১৬নং ওয়ার্ডের। তৎকালীন কমিশনার ব্যারিস্টার আবুল হাসনাত, মির্জা আব্বাস, সাদেক হোসেন খোকাসহ একাধিক কমিশনার বিএনপিতে যোগদানের অনেক আবদার নিয়ে সাদেক খানের বাড়িতে আনাগোনা ছিল।

মনেপ্রাণে একজন আওয়ামী লীগার, মুজিব সৈনিক, শেখ জামালের স্কুল জীবনের বন্ধু হয়ে ও শেখ মুজিবের আদর-¯েœহ পেয়ে কি করে বিএনপির অনেক লোভনীয় অফার ফিরিয়ে দেন। জাতির জনক অনেকবার রায়ের বাজার সাদেক খানদের বাড়ি এসেছিলেন। দীর্ঘ চড়াই উৎড়াই পেরিয়ে রাজনৈতিক রোষানল, ৯৪-এ মেয়র নির্বাচনে ৪৭নং ওয়ার্ড থেকে কমিশনার নির্বাচিত হন, মেয়র হানিফের সহায়তায় জনতার মঞ্চের প্রতিষ্ঠার কারিগরি দায়িত্ব পালন করেন, আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় আসার পথ সুগম করেন। কোনো চাওয়া-পাওয়ার আশায় না থাকলেও নেত্রীর নির্দেশে জাহাঙ্গির কবির নানকের নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে বেগম সাজেদা চৌধুরী ও ডা. ফিরোজা বেগমের নির্বাচনে সহায়তা করেন। আলহাজ্ব মকবুল হোসেনের নির্বাচনে সরাসরি দায়িত্ব নিয়ে প্রথম আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কাকে ছিনিয়ে আনেন জনগণের ভোটে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মুক্তি আন্দোলনে চার লাখ পঞ্চাশ হাজার গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করে ইতিহাস সৃষ্টি করেন সাদেক খান। বর্তমান ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের (উত্তর) সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়ে পুরস্কৃত করেন। দায়িত্ব পালনে সফল না ব্যর্থ তা বিচার করবে দল। তবে পূর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকায় কিছুটা অসুবিধা হচ্ছে, হতে পারে। পূর্ণাঙ্গ সহায়তা ছাড়া যেভাবে মহানগরকে উজ্জীবিত করেছেন, তা আলোচনার বিষয়। নগরকে শক্তিশালী করতে কেন্দ্রের সহায়তার প্রয়োজন, একক পরিকল্পনার প্রয়োজন, পদে পদে বাধা হলে রাজনীতি করা যাবে, নতুন রূপে আওয়ামী লীগকে সাজানো যাবে না। দায়িত্ব দিয়ে হাত-পা বেঁধে দিলে চলবে না। ৫৩ বছর ধরে সাদেক খানকে দেখছি। ২৬ বছর সাথে চলেছি, সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মগ্রহণ করলেও ভোগ করেন নাই, জীবনটাকে জনগণ ও দলের মাঝে বিলিয়ে দিয়েছেন। জানি সাদেক খানদের মত তৃতীয় শ্রেণির নেতাদেরকে নিয়ে অনেকেই লিখেন না।

কিন্তু সাদেক খানদের মতো নেতাদের বড়ই অভাব, যারা নিজের খেয়ে দলের জন্য, জনগণের জন্য নিজের সবকিছু উৎসর্গ করেন। মোহাম্মদপুরে জন্মগত বসবাসের জন্য, রাজনীতি ও সমাজসেবার জন্য আত্মীয়-স্বজন ও সাধারণ মানুষের কাছে বিশ্বস্ত হয়ে আছেন তিনি, যে ফসল আলহাজ্ব মকবুল হোসেন ও জাহাঙ্গির কবির নানক ভোগ করছেন জনপ্রতিনিধি হয়ে। নেত্রীর নির্দেশের অপেক্ষায় ২০১৮ সালের নির্বাচনেও এমন একজন বিশ্বস্ত নেতা সাদেক খানকে পেয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা গর্বিত, প্রমাণ দিচ্ছেন উত্তরের প্রতিটি প্রোগ্রামে উপস্থিত থেকে। সাদেক খানের মতো একজন বিশ্বস্ত সমাজসেবক, ৪০ বছর কর্পোরেশনের সেবক, ৫৩ বছর আওয়ামী লীগের সেবক থাকতে, মেয়র পদে হাওলাদি নেতার প্রয়োজন আছে কি, সিদ্ধান্ত সভানেত্রীর, আমরা অপেক্ষায় থাকলাম।

লেখক : ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব, বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতি
সম্পাদনা : মোহাম্মদ আবদুল অদুদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত