প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

খালেদা জিয়ার সর্বোচ্চ সাজা চাইলো দুদক

ডেস্ক রিপোর্ট : বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে।

গতকাল ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ মো. আখতারুজ্জামানের আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল।

এ মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন মর্মে দণ্ডবিধির ১০৯, ৪০৯ ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইনের ৫ (২) ধারায় খালেদা জিয়ার সর্বোচ্চ সাজার আর্জি জানান আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল। আজ খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবেন তার আইনজীবীরা। বিচারিক প্রক্রিয়ার সবশেষ ধাপ যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের মাধ্যমে আলোচিত এ মামলার বিচারকাজ শেষ পর্যায়ে উপনীত হলো। যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে এটি রায়ের পর্যায়ে আসবে।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার বিচারকাজ রাজধানীর বকশীবাজারের কারা অধিদপ্তরের প্যারেড গ্রাউন্ড মাঠে স্থাপিত অস্থায়ী আদালতে চলছে।

গতকাল সকাল ১১টার দিকে খালেদা জিয়া কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে আদালতে আসেন। আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন। প্রথমে তিনি এ মামলার অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তার প্রতিবেদন ও বাদীর এজাহার পড়ে শোনান। পরে সাক্ষ্য দেয়া ৩২ জন সাক্ষীর মধ্যে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর বক্তব্য, সাক্ষীদের জেরা ও মামলা সংশ্লিষ্ট অভিযোগের স্বপক্ষে বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ বক্তব্যের মাধ্যমে তুলে ধরেন। এর আগে গত ৫ই ডিসেম্বর খালেদা জিয়া ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আত্মপক্ষ সমর্থন করে তার বক্তব্য শেষ করেন। আত্মপক্ষ সমর্থনে মোট সাতদিন বক্তব্য দেন খালেদা জিয়া। পরে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য ১৯, ২০ ও ২১শে ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন আদালতের বিচারক মো. আখতারুজ্জামান।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের ৩২ জন সাক্ষীর জবানবন্দি আসামিপক্ষ জেরার মাধ্যমে খণ্ডন করতে পারেননি দাবি করে গতকাল দুদকের আইনজীবী বলেন, প্রসিকিউশন প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে যে, এই মামলার সঙ্গে খালেদা জিয়ার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। কীভাবে ট্রাস্টের টাকা সরকারিভাবে ওলটপালট করা হয়েছে, সাক্ষীদের বক্তব্যে সেটিই দেখানো হয়েছে। এতিমদের নামে আসা এ টাকা আজ পর্যন্ত এতিমদের কল্যাণে ব্যয় হয়েছে তা সাক্ষীদের জেরার মধ্যে আসেনি।

তিনি বলেন, ট্রাস্ট লেখা ছিল এতিমদের কল্যাণে, কিন্তু কারা এতিম? এখানে একজনও এতিম নেই। দুদকের আইনজীবী বলেন, খালেদা জিয়া ৩৪২ ধারায় আত্মপক্ষ সমর্থনে বলেছেন যে, তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না। তিনি যদি বলেন যে, তিনি জানেন না তাহলে তা হবে দুঃখজনক ও বিভ্রান্তিকর। তিনি যে এর সঙ্গে জড়িত নন- তা জেরার মধ্যে আমরা পাইনি। দুদকের আইনজীবী বলেন, এই টাকা রাষ্ট্রের টাকা। তিনি (খালেদা জিয়া) এর রক্ষক ছিলেন। এখন তিনিই এর জন্য দায়ী এবং এর দায় দায়িত্ব তার ওপরই বর্তায়।

মোশাররফ হোসেন কাজল আরো বলেন, বিদেশি অনুদানের অর্থ এতিমদের কল্যাণে খরচ না করে আসামিরা বিভিন্ন পদ্ধতিতে এই অর্থ হস্তান্তর, রূপান্তর করেছেন। বছরের পর বছর তারা ওই অর্থ পাচার করেছেন।

তিনি বলেন, সাক্ষীর মাধ্যমে আমরা এই মামলায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছি। তাই দণ্ডবিধির ১০৯, ৪০৯ ও দুদক আইনের ৫ (২) ধারায় তার সর্বোচ্চ সাজার দাবি করছি। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে বিদেশ থেকে আসা দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০০৮ সালের ৩রা জুলাই রমনা থানায় দুদক এ মামলা দায়ের করে। তদন্ত শেষে ২০০৯ সালের ৫ই আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়। ২০১৪ সালের ১৯শে মার্চ অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচারকাজ শুরু হয়।

এদিকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় হাজিরা দিয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া গতকাল বেলা দু’টার দিকে আদালত প্রাঙ্গন ত্যাগ করেন। এরপর রাজধানীর শাহবাগ থানার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিএনপির ১২ নেতাকর্মীকে আটক করে পুলিশ।

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান বলেন, ১২ জনকে থানার বিভিন্ন এলাকা ও অফিস থেকে আটক করা হয়েছে। মূলত জিজ্ঞাসাবাদের জন্যই তাদেরকে আটক করা হয়।

সূত্র : মানবজমিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত